ব্রাজিলে লকডাউন তুলতে গভর্নরের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ‘যুদ্ধ’


লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ভুগছে ব্রাজিল। ইতোমধ্যেই দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়েছে, মারা গেছেন অন্তত ১৩ হাজার ৯৩৩ জন। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এই সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টাতেই ব্রাজিলে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন রেকর্ড ১৩ হাজার ৯৪৪ জন। ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়লেও এর জন্য লকডাউন দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রাখার পক্ষপাতী নন দেশটির প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো। বরং তার নির্দেশ অমান্য করে যেসব গভর্নর-মেয়র সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা জারি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার যেসব রাজ্য ও স্থানীয় সরকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছেন প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো। ভিডিও কনফারেন্সে সমাবেশে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের সাও পাওলো গভর্নরের সঙ্গে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ব্রাজিলের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য সাও পাওলোর গভর্নর জোয়াও ডোরিয়া সম্প্রতি জিম-সেলুন খুলে দিতে বোলসোনারোর জারি করা ডিক্রি কার্যকর না করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মাত্র একজন মানুষ সাও পাওলোর ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তিনি ব্রাজিলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সসম্মানে বলছি, গভর্নরের সঙ্গে আপনাদের কঠোর হতে হবে। কারণ এটা খুবই গুরুতর ইস্যু, এটা একটা যুদ্ধ। ব্রাজিল বিপদে আছে।’
ব্রাজিলের এক-তৃতীয়াংশ অর্থনৈতিক লেনদেন হয় সাও পাওলোর মাধ্যমে। দেশটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমিত হয়েছে এ অঞ্চলেই। ইতোমধ্যেই রাজ্যটির হাসপাতালগুলো রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
এ কারণে সাও পাওলোর গভর্নর স্থানীয়দের ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং অনাবশ্যক সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগামী ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছেন। ডোরিয়ার মতো আরও অন্তত ১০ গভর্নর বোলসোনারোর ডিক্রি না মানার ঘোষণা দিয়েছেন।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মানুষ মারা যাবে? দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, যাবে। লকডাউন থাক বা না থাক প্রাণহানি চলবেই। লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলায় যত মানুষ প্রাণ হারাবে তার সংখ্যা আরও বেশি হবে।’
Loading...

No comments

Powered by Blogger.