শ্রমিকদের ‘কষ্ট বুঝতে’ ফুটপাতে রাহুল গান্ধী


করোনাভাইরাস মহামারির কারণে কর্মহীন হয়ে ঘরে ফিরতে থাকা শ্রমিকদের কষ্ট বুঝতে ফুটপাতে নেমে এলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার দিল্লি থেকে ট্রাকে চেপে ওই শ্রমিকরা নিজ রাজ্যে ফিরছিলেন। পথে সুখদেব বিহার ফ্লাইওভারে ট্রাক থামলে কয়েকজন বিশ্রাম নিতে ফুটপাতে গিয়ে বসেন। এসময় তাদের সঙ্গে কথা বলতে ফুটপাতেই বসে পড়েন রাহুল।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে বিশেষ ট্রেন-বাসের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তারপরও দেখা যাচ্ছে বহু মানুষ পায়ে হেঁটেই বাড়ির পথ ধরেছেন। কোথাও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ঠেলাগাড়িতে চাপিয়ে, কোথাও বৃদ্ধা মাকে কাঁধে ফেলে, শিশু কোলে মাইলের পর মাইল হাঁটতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। অসুস্থ হয়েছেন অনেকে, মৃত্যু হয়েছে অসংখ্য। বেশ কয়েকটি বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক।
শনিবার অভিবাসী শ্রমিকদের একটি দলের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী জানতে চান- ‘সমস্যা কোথায়? লকডাউনের মধ্যেই কেন এত কষ্ট করে বাড়ি ফিরতে চাইছেন তারা? সরকার বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করলেও এত কষ্ট করে হেঁটে কেন ফিরছেন?’
হরিয়ানা থেকে ঝাঁসি ফিরছিলেন মনু নামে এক শ্রমিক। তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধী আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেছেন।’
দেবেন্দ্র নামে আরেক শ্রমিক বলেন, ‘তিনি আমাদের বাড়ি ফেরার গাড়ির বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন। সবাইকে খাবার এবং মাস্কও দিয়েছেন।’
মহেশ কুমার নামে এক শ্রমিক জানান, তাদের দলটি চারদিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাহুল গান্ধী আমাদের কষ্ট্রের কথা জানতে চেয়েছেন। আমরা জানিয়েছি- এখানে আমরা ক্ষুধায় মারা যাচ্ছি… কোনও কাজ নেই। প্রায় ৫০ দিন হয়ে গেছে এই অবস্থার। কাছে যে অর্থ ছিল তা খাবারের পেছনেই খরচ হয়ে গেছে।’ এমন দুরবস্থায় পাশে দাঁড়ানোয় কংগ্রেস নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এ শ্রমিক।
করোনা মহামারি মোকাবিলায় গত ২৪ মার্চ হঠাৎ করেই দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এতে বিভিন্ন রাজ্যে আটকা পড়েন কোটি কোটি অভিবাসী শ্রমিক। কর্মহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি ঘরে ফিরতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েন তারা। পরে অভিবাসী শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে বিশেষ ট্রেন চালু করে সরকার। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তার সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় অনেকেই শত শত মাইল হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.