শাহরুখের বাবা-মায়ের মৃত্যুর হৃদয়স্পর্শী গল্পটা জানেন?


ক্যান্সারে প্রায় ৮ মাস হস্পিটালাইজড থেকে চিকিৎসা নেয়ার পর চিকিৎসক জানালেন বাবা এখন সুস্থ, তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া যাবে। বাসায় নিয়ে এলেন তাকে শাহ্‌ রুখ। থ্রোট ক্যান্সার ছিলো। বাড়িতে এসেই বাবা খেতে চাইলেন ভ্যানিলা আইসক্রিম। আইসক্রিম দেয়া হলো। ঐদিন রাতেই সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন শাহ্‌ রুখ এর বাবা। কষ্টের কারনে বাবার চেহারা দেখতে পারেননি শাহ্‌ রুখ। ভ্যানিলা আইস্ক্রিম খেতে থাকা বাবার সেই খুশি মুখটাই বাবাকে নিয়ে শাহ্‌রুখ এর শেষ স্মৃতি।
বাবা চলে যাওয়ার পর ছেলে মেয়েকে মানুষ করার পুরো দায়িত্ব এসে যায় মায়ের কাঁধে। কখনো ছোটোখাটো কাজ করে, ধার দেনা করে সংসার চালিয়েছেন, পড়িয়েছেন ছেলেমেয়েদের। বাবার মৃত্যুর শোক, পারিবারিক পরিস্থিতি অনেকটা কাটিয়ে উঠছিলেন তখনি অসুস্থ হলো শাহ্‌ রুখ এর মা। মা বেশ হেলদি ছিলেন। তবে ডায়াবেটিকস এর সমস্যায় ভুগছিলেন। এক রাতে পায়ে একটু আঘাত পাওয়াতেই হপ্সিটালে ভর্তি হন। পরে অবস্থা খারাপ হওয়াতে আই.সি.ইউ তে নিতে হয়।
শাহ্‌ রুখ কারো থেকে শুনেছিলেন প্রিয় কেউ মৃত্যুশয্যায় থাকলে আল্লাহ্‌র কাছে যতক্ষণ ধরে দুয়া চাওয়া হয় ততক্ষণ আল্লাহ্‌ দুয়া শোনাতেই ব্যস্ত থাকেন, কোনো অ্যাকশনে যান না। হস্পিটালের পার্কিং লটেই দুয়ায় বসে পরেন শাহ্‌রুখ। একটা দুয়াই পারতেন তিনি ‘নাসরুম মিনাল্লাহি ওয়া ফাতহুন ক্বারীব’। পড়তে থাকেন একনাগাড়ে। একটা সময় ডক্টর এসে বলেন আপনি আই.সি.ইউ তে যান। তখন অন্য কাউকে আই.সি.ইউ তে ডাকার মানে রোগী আর বেঁচে নেই। তবুও শাহ্‌রুখ যেতে চাচ্ছিলেন না, দুয়া পড়তে থাকেন এই আশায় যে মা বেঁচে থাকবেন দুয়া পড়তে থাকলে।
শাহ্‌রুখ এর একটা থিওরি ছিলো মানুষ তখনই মারা যায় যখন সে পৃথিবীতে স্যাটিসফাইড হতে পারে। বিশেষ করে মা বাবা যখন বুঝতে পারে তার ছেলে মেয়ে তাদের ছাড়াও জীবন চালিয়ে নিতে পারবে তখন হয়ত চলে যায়। তো শাহ্‌রুখ এর মা যখন হপ্সিটালে খুব অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন, শাহ্‌রুখ সারাক্ষণ মায়ের পাশে বসে উল্টাপাল্টা কথা বলতেন যে, মা চলে গেলে সে পড়াশোনা করবেনা, বোনের খেয়াল রাখবেনা। এগুলা বলতেন যাতে মা স্যাটিসফাইড না থাকে। যাতে মা তাকে ছেড়ে চলে না যায়। কিন্তু মা হয়ত স্যাটিসফাইড ছিলেন, মা হয়ত জানতেন এই ছেলে তার বোনের খেয়াল রাখবে, জীবনে অনেক কিছু করবে।
কারণ `God knows better & Mother knows the best’
অতি আশ্চর্যের একটা ব্যাপার হচ্ছে, শাহরুখের বাবাকে দিনের পর দিন কেমোথেরাপি দেয়ার পরেও তার মাথার চুল কমে যায়নি যেখানে কেমো দেয়া মানেই চুল পড়ে যাবে। বাবার এই হেয়ার গ্রোথ সম্ভবত ছেলে পেয়েছে যেকারণে এই বয়সেও মাথা ভর্তি চুল। আর এই দুটো ঘটনার পর শাহরুখের বোনটা এত বাজে রকমের মানসিক আঘাত পেলেন যে এখনও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.