আমফানের আগেই নদীর ওপরেই লঞ্চের মধ্যে কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা



আমফানের আগেই নদীর ওপরেই লঞ্চের মধ্যে কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা



তাদের দিনরাত সবই কাটে নদীতে জল-জঙ্গলের উপর দিয়ে। লঞ্চের মধ্যেই অথবা ছোটো বোটে সেখানেই রান্না ,খাওয়া, স্নান এবং ঘুম সবটাই নদী বক্ষে হয়ে থাকে তাদের। পরিবার- পরিজন ছেড়ে এই ভাবেই বছরের পর বছর জলে- জঙ্গলে পর্যটক এবং সরকারি কর্মী, আধিকারিকদের পরিষেবা দিয়ে চলছেন তারা। এবার নদীতে তাদের লঞ্চের মধ্যেই তাদের করোনা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলো। এদিন সকাল ১১ টা নাগাদ সুন্দরবনের সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন লঞ্চের চালক এবং কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য চাম্পাহাটি  স্বাস্থ্য মেলা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি এবং Diabetes  Awareness Day নামে দুটি সংস্থার উদ্যোগে  কোলকাতা এবং বারুইপুরের ডাক্তার এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের একটি দল বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে পৌচ্ছে যায় সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে। সেখানে নদীর ওপরেই একের পর এক লঞ্চের কর্মীদের বিশেষ কিছু শারীরিক পরীক্ষা করা হলো এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা পরামর্শ দেওয়া হলো। সবশেষে এই কঠিন পরিস্থিতিতে তারা যেন মানসিক ভাবে ভেঙে না পরে তার জন্য মানসিক বিশেষজ্ঞ দ্বারা তাদের কাউন্সিলিং করা হলো এবং মাক্স এবং স্যানিটাইজারও প্রদান করা হয় । চাম্পাহাটি স্বাস্থ্য মেলা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির এক কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ মিস্ত্রি বলেন , করোনার থাবায় এমনিতেই জেরবার তার ওপর আবার ধেয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আমফান।



তাই সুন্দরবনের লঞ্চের চালক থেকে কর্মীরা দিনরাত এক করে এই দুই এর সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছে অথচ হাসপাতাল অথবা অন্যত্র গিয়ে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সময় এবং সুযোগ কোনটাই এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। তাই আমরা তাদের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছি।

  

সুন্দরবন নদীর এক লঞ্চ কর্মী বিশ্বনাথ পানিকরাই বলেন এই সময় বিভিন্ন রাজ্যে থেকে পরিয়ায়ি শ্রমিকরা ফিরে আসছেন সুন্দরবনে। তাদেরকে লঞ্চ অথবা বোটে করে সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বিপে ফিরিয়ে দিচ্ছে আমাদের মতো লঞ্চ লঞ্চের কর্মীরা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা খুবই জরুরী ছিলো কিন্তু আমারা কখনো ভাবতে পারিনি এই ভাবে আমাদের নদীর ওপরে লঞ্চের মধ্যেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে।


সুন্দরবনের নদীতে আর এক প্রশাসনের লঞ্চ চালক দীনেশ মিস্ত্রি বলেন কোরোনা আবহে আমদের বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন জায়গায় সরকারি আধিকারিকদের পৌচ্ছে দিতে হচ্ছে। এমনিতেই সময় হচ্ছে না স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার। আবার ধেয়ে আসছে আমফান ঘূর্ণিঝড়। পরবর্তী পরিস্থিতিতে আবার আমাদের দিনরাত এক করে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীতে কাজ করতে হবে তাই এই সময় আমাদের স্বাস্থ্য ঠিক থাকাটা জরুরী কিন্তু আমারা কখনো ভাবতে পারিনি এই ভাবে আমাদের পাশে এই ভাবে কেউ দাঁড়াবে। 
Loading...

No comments

Powered by Blogger.