এরমধ্যেই আমফানের ফলে জল ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করেছে সুন্দরবনের নদীতে, চূড়ান্ত সর্তকতা



এরমধ্যেই আমফানের ফলে জল ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করেছে সুন্দরবনের নদীতে, চূড়ান্ত সর্তকতা


সুপার সাইক্লোন আমফান নিয়ে ক্যানিং থেকে কাকদ্বীপ সর্বত্র জারি হয়েছে চুড়ান্ত সর্তকতা। সুপার সাইক্লোন আমফানের ফলে জল ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করেছে সুন্দরবনের নদীতে।  ইতিমধ্যেই সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা এবং নদী বাঁধের কাছে বসবাসকারী লক্ষাধিক মানুষকে সরানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে। সুন্দরবনের প্রতিটা নদীতে ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু করেছে জলের গতি। ফুলে-ফেঁপে উঠছে একের পর এক নদীর জল। দুশ্চিন্তা আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সুন্দরবন তথা দক্ষিন চব্বিশ পরগনার কয়েক লক্ষ মানুষ।



আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশিকা বলছে সুন্দরবন তথা দক্ষিন চব্বিশ পরগনার বিভিন্ন এলাকাতে বিরাট ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করবে সুপার সাইক্লোন আমফান। শুধু বিরাট অংকের ক্ষয়ক্ষতি হবে তাই নয় প্রাণহানি ঘটতে পারে বহু মানুষের। যেমনটা দেখা গেছিল আইলার সময়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি ২০০৯ সালের ২৫ মে হওয়া আয়লার থেকেও ভয়ঙ্কর হতে পারে। সুন্দরবনের ক্যানিং মহাকুমার কুমিরমারি, মোল্লাখালি, সাতজেলিয়া, ঝড়খালি, এবং কাকদ্বীপ মহাকুমার সাগর ,ঘোড়ামারা, ফ্রেজারগঞ্জ , বকখালি, সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সরানো হয়েছে বহু মানুষকে। এই সমস্ত মানুষদের কে সরিয়ে কোথাও রাখা হয়েছে বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে তো আবার কোথাও বড় বড় স্কুল বাড়িতে। তবে সেখানে থাকার পরও আতঙ্ক কাটছে না এইসব মানুষদের মধ্যে। কারণ ইতিমধ্যেই সাগরের জল ১৫ থেকে ১৮ ফিট উচ্চতায় ঢেউ হতে পারে এই আশঙ্কা করছে সকলেই। যদি ঠেউ এর উচ্চতা আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী হয় তাহলে সাগরের বহু দ্বীপ এবং তার সংলগ্ন এলাকা এবং অন্য দিকে গোসবা ব্লকের বিভিন্ন দীপ একেবারে জলের তলায় চলে যাবে। তছনছ হয়ে যাবে সুন্দরবনের জনজীবন। শুধু সুন্দরবনের নয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই ঝড়ের ফলে।


যে সমস্ত এলাকাগুলিতে দুর্গত মানুষদের রাখা হচ্ছে সেই বাড়ি গুলোতে ইতিমধ্যেই স্যানিটেশনের কাজ করা হয়েছে। কারণ বহু ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে করোনা কোয়ারেন্টার সেন্টার করা হয়েছে ভিন রাজ্য থেকে আসা মানুষদের জন্য। ইতিমধ্যেই বহু এলাকায় রান্না করা খাবার সরবরাহ করতে শুরু করেছে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত। যে সমস্ত মানুষরা আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন আশ্রয়স্থল গুলিতে সেখানে এই খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।





ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এবং প্রাণহানি যাতে কম করা যায় তার জন্য সিভিল ডিফেন্স ও জাতীয় বিপর্যয় কমিশনের কর্মীরা এসে পৌঁছেছেন। সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেই সমস্ত দ্বীপগুলিতে। অন্যদিকে সবে মাত্র নদীতে কোটাল মুখ শুরু হওয়ায় ব্যাপক জলোচ্ছ্বাস দেখা দিচ্ছে নদীগুলিতে । আর এর ফলে বহু নদী বাঁধের ধ্বস নামতে শুরু করে দিয়েছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন নদীতে যে পরিমাণ জল বেড়েছে তাতে বড়োসড়ো দুর্যোগের আশঙ্কা করছে সুন্দরবন বাসি। কারণ বহু মাটির নদী বাঁধ এখনো পর্যন্ত সেইভাবে মেরামতি হয়নি এ বছর। লকডাউন এর কারণে থমকে ছিল মেরামতির কাজ।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.