করোনার কালো ছায়ায় ভারতের বাঘ, হাই এ্যালার্ট ঘোষণা দেশের ৫০টি টাইগার রিজার্ভে

Tigers in India: 5 best places to see one | CNN Travel
মানুষের পরে, করোনাভাইরাসের হুমকি এখন বাঘের উপর ছড়িয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে মধ্য প্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র সীমান্তে অবস্থিত পঞ্চ টাইগার রিজার্ভে একটি বাঘ মারা গিয়েছিল। প্রথমে অনুমান করা হয়েছিল যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের কারণে এই মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু, পরে জানা যায় যে অন্ত্রের কাছে একটি বড় চুলের দলা আটকে থাকার কারণে এই মৃত্যু হয়েছে বাঘটির। এর পরে, ভারতের ৫০ টি টাইগার রিজার্ভে হাই এ্যালার্ট ঘোষণা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত এই মুহূর্তে দেশে টাইগার রিজার্ভগুলিতে বাঘের সংখ্যা ২,৯৬৭।

Good news: India's wild tiger numbers are on the rise ...
কিছুদিন আগে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় ৪ বছর বয়সী একটি বাঘ করোনভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। সেই থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাঘ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনিতেই বাঘের রেবিস, অ্যানথ্রাক্স এবং কাইনিন ডিম্পার রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে ইদানিং। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বিড়ালদের করোনভাইরাস স্ট্রেসের কারণে সংক্রামক পেরিটোনাইটিসের শিকার হওয়ার ঝুকি রয়েছে।  এমনিতেই ভারতে বাঘের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। তবে কেউ কেউ বলেছেন যে কর্তৃপক্ষ ভুল সমস্যার দিকে মনোনিবেশ করছে।

Guide to tiger spotting in Indian game parks and where to stay at ...
জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের ডঃ অনুপ কুমার নায়েকের মতে, এই করোনভাইরাসটি অবশ্যই বন্যপশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ভবিষ্যতে কী হবে তা আমরা জানি না, তবে আমরা সম্পূর্ণ সতর্কতা নিচ্ছি। তাদের নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক সমস্ত রাজ্যের বন্যজীবন ওয়ার্ডেনদের জাতীয় উদ্যানের মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দিয়েছে। এর বাইরে বাঘের স্বাস্থ্যও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অসুস্থ বাঘের দেখাশোনা করছেন এমন বনকর্মীদের অন্যান্য প্রাণীদের স্পর্শ করার আগে তাদেরও পরীক্ষা করা হবে। পঞ্চে বাঘের মৃত্যুর আগে আধিকারিকরা করোনভাইরাস নিয়ে কোনও বিধি তৈরি করে নি, তবে এখন পোস্টমর্টেমের জন্য ডাক্তার এবং নমুনা সংগ্রহ করে জাতীয় পরীক্ষাগারে প্রেরণের প্রয়োজন হবে। ডঃ নায়েক বলেছেন যে আদেশ জারি হওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে ওয়ার্ডেন বাঘের আচরণে কোনও পরিবর্তন দেখেনি। অসুস্থ বাঘগুলির নিয়মিত দেখাশোনা করা হচ্ছে।

This couple quit their jobs and created a forest for Indian tigers ...

বাঘের শরীরে কীভাবে পৌঁছেছে করোনা:-
চিনের হারবিন ভেটেরিনারি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জানিয়েছেন যে ভাইরাস গৃহপালিত বিড়ালের শরীরে এসে থাকতে পারে। তারপরে তাদের মাধ্যমে অন্য প্রাণীদের কাছেও পৌঁছতে পারে।

করোনা ভাইরাস কীভাবে বাঘকে সংক্রমিত করছে তা বিজ্ঞানীরা এখনও সন্ধান করতে পারেননি। নিউ ইয়র্কের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সোসাইটির স্বাস্থ্য নির্বাহী পরিচালক ক্রিস ওলজারের অনুমান অনুসারে, ব্র্যাঙ্কস জু-র বাঘটি খাঁচা পরিষ্কারের সময় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। গবেষকদের অনুমান প্রেসার ওয়াশিংয়ের ফলে বাঘের শরীরে ভাইরাসের প্রবেশ ঘটে থাকতে পারে।  
 Poaching still remains the biggest threat to Indian tigers - The ...
বিশেষজ্ঞরা অন্যান্য কারণে ওপরেও জোর দিচ্ছেন:-
সেন্টার ফর ওয়াইল্ডলাইফ স্টাডিজের পরিচালক উল্লাস করনাথের মতে, লকডাউনের সময়ে মাংসের জন্য স্থানীয় লোকের দ্বারা শিকারের ঘটনা, বাঘের রোগের চেয়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেছিলেন, সম্প্রতি বান্দিপুর টাইগার রিজার্ভে হরিণের মাংস সহ সাতজন শিকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ জাতীয় শিকারের ঘটনা বেড়েছে।

কিছু লোকের মতে, বনের আশেপাশে বসবাসরত দরিদ্র লোকেরা বিধিনিষেধের কারণে কাঠ এবং খাবার সংগ্রহ করতে পারছেন না। ভারতীয় বন্যজীবন বিজ্ঞানী রবি চেল্লাম কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রামবাসীদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ না করার দাবি জানিয়ে পরিবেশ মন্ত্রকে চিঠি দিয়েছেন। রবির মতে, ভারতীয় বন্যজীবন কোবিড ১৯-এর চেয়ে জলবায়ু পরিবর্তন, শিকার ও অন্যান্য অনেক রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।  
Loading...

No comments

Powered by Blogger.