জন্মের প্রথম দিনই মারা যায় ১০ লাখ শিশু


প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে অন্তত ১০ লাখ শিশু জন্মের প্রথম দিনই মারা যায়। জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হয় তাদের। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন গতকাল মঙ্গলবার এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। মা ও নবজাতকের জন্য বিনা মূল্যের স্বাস্থ্যসেবা ও প্রসবের জন্য প্রশিক্ষিত ধাত্রীর ব্যবস্থা করে এ ধরনের মৃত্যু প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা যায় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
'এনডিং নিউবর্ন ডেথস' শীর্ষক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অপরিণত অবস্থায় জন্ম ও প্রসবকালীন জটিলতার কারণেই প্রধানত জন্মের পরপরই শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী থাকলে বিশ্বজুড়েই এসব মৃত্যু ঠেকানো যায়। সেভ দ্য চিলড্রেন বিশ্বনেতাদের প্রতি এ জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিটি শিশুর জন্মের সময় প্রশিক্ষিত ধাত্রীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রসূতি ও নবজাতকের জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করতে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বিগত দশকে বিশ্বে বছরে শিশুমৃত্যুর হার প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। এক কোটি ২০ লাখ থেকে এ সংখ্যা প্রায় ৬৬ লাখে নেমে এসেছে। টিকাদান কর্মসূচি, পরিবার পরিকল্পনা এবং নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ম্যালেরিয়ার চিকিত্সা সহজলভ্য হওয়ায় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তবে সেভ দ্য চিলেড্রেনের হিসাবে ওই ৬৬ লাখের মধ্যে প্রায় অর্ধেকে শিশুই মারা যায় পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে। প্রতিবছর বিশ্বের প্রায় চার কোটি মা প্রশিক্ষিত ধাত্রীর সাহায্য ছাড়াই সন্তান জন্ম দেন। ইথিওপিয়ায় ১০ শতাংশ প্রসবই হয় দক্ষ ধাত্রীর সাহায্য ছাড়া। আফগানিস্তানের কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় প্রতি ১০ হাজার নারীর জন্য গড়ে একজন করে ধাত্রী রয়েছেন। এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে গত দশকের অর্জিত সাফল্য বিফলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা গবেষকদের।
সেভ দ্য চিলড্রেনের নির্বাহী প্রধান জাস্টিন ফরসিথ বলেন, 'নতুন এ পরিসংখ্যানে প্রথমবারের মতো নবজাতকের জীবনের হুমকির বিষয়টি বের হয়ে এসেছে। সমাধান আমাদের সবারই জানা। শিশুদের জীবনের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দিতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছার।'
Loading...

No comments

Powered by Blogger.