পুতুলের জন্য প্রাচীন হাসপাতাল



পর্তুগালের লিসবনে রয়েছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এক হাসপাতাল। ১৮৩০ সালে যাত্রা শুরু করে এরই মধ্যে এটি প্রাচীন হাসপাতালের খেতাব পেয়েছে।
রোগীদের হাত-পা, এমনকি মাথাও জোড়া লাগিয়ে দেন ‘বিশেষজ্ঞ ডাক্তার’ দল! ভাবছেন, মাথা আবার জোড়া লাগানো যায় নাকি! সম্ভব, পুতুলের মাথা হলে তা জোড়া লাগানো সম্ভবই। এটা পুতুলের হাসপাতাল। মানুষের হাসপাতালের মতোই আলাদা আলাদা ওয়ার্ডে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেয়া হয় রোগী পুতুলের।
লিসবনের ‘হসপিটাল দে বোনেকাস’-এর বর্তমান কর্ণধার সাবেক স্কুল শিক্ষিকা ম্যানুয়েলা কুটেইলার। তার চার প্রজন্ম ধরে চলছে হাসপাতালটি। পারিবারিক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তিনিই এখন এর হাল ধরে আছেন।
কুটেইলারসহ চারজন সার্জন চিকিৎসা সেবা দেন সেখানে। সঙ্গে কাজ করছেন আরও কয়েকজন কর্মী। যারা প্রতিদিন পর্তুগালের বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়ে আসা পুতুলের হাত, পা, চোখ, মাথা ইত্যাদি অংশ জোড়া লাগান। একটু ঘুরিয়ে বললে বলা যায়, তারা পুতুলগুলো ‘সুস্থ’ করে তোলেন।
প্রায় ১৯০ বছর ধরে নষ্ট হয়ে যাওয়া, ভেঙে যাওয়া বা বিকল পুতুলের সেবা শুশ্রূষা করে চলেছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এ হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের পুতুল, খেলনা পশুপাখি ইত্যাদির সংরক্ষণ ও চিকিৎসা করা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মালিক।
চিকিৎসার সময় রোগীর আর্থিক অবস্থাকে প্রাধান্য দেন না তারা। যে পরিবারেরই সদস্য হোক বা যে কোম্পানির পুতুল হোক, সবাইকে সমান সেবাযত্ন করে থাকেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুতুল নিয়ে মানুষের নস্টালজিয়াই তাদের চলার পাথেয় বলে মনে করেন ‘হসপিটাল দে বনেকাস’-এর সদস্যরা।
কুটেইলার বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য পুতুলের হাসপাতালের সঙ্গে এর পার্থক্য হল- আমরা সব ধরনের পুতুলের সেবা দিয়ে থাকি।’
সেবা নিতে আসা ক্রেতাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এমন ক্রেতাও পেয়েছি, যিনি তার প্রিয় পুতুলটিকে একেবারে নতুনের মতো পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেছেন। এখন বয়স্করাই হাসপাতালের প্রধান সেবাগ্রহীতা। পুতুল খেলার সময় পার করে আসারা তাদের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত পুতুল সারাতে এই হাসপাতালের দ্বারস্থ হন।’
বর্তমান পরিচালক আরও বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাহকই বয়স্ক। তারা ছোট থাকাকালীন হয়তো একটি পুতুল দিয়েই খেলতেন। আধুনিককালের শিশুদের মতো তখন প্রতিদিন নতুন নতুন পুতুল পেতেন না কেউ। এ কারণেই শরীরের কোনো একটি অংশ হারানো পুতুলই এই বয়স্কদের কাছে আবেগের এক বস্তু।’
Loading...

No comments

Powered by Blogger.