হিন্দুস্থান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলেছিলেন ভগৎ সিং

Image result for লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা

গত শতাব্দীর বিশের দশকে অর্থাৎ পরাধীন ভারতে বিপ্লবী আন্দোলনের দিনগুলিতে উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব অঞ্চলে বিপ্লবী কার্যকলাপ সক্রিয় হয়ে উঠেছিল ‘হিন্দুস্থান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের ছত্রছায়া তলে। এই দলে বাংলার বেশ কিছু বিপ্লবী যোগ দিয়েছিলেন। এই বিপ্লবী দলের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন শচীন্দ্রনাথ সান্যাল। বিপ্লবের কাজে অর্থ সংগ্রহের জন্য ১৯২৫ সালের ৯ই আগস্ট উত্তরপ্রদেশের কাকোরীতে রেল ডাকাতি করে হিন্দুস্থান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৪৪ জন বিপ্লবীকে পাঁকরাও করে ব্রিটিশ শাসকের পুলিশ। শুরু হয় কাকোরী ষড়যন্ত্র মামলা। রামপ্রসাদ বিসমিল, রাজেন্দ্র নাথ লাহিড়ী সহ ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং বহু বিপ্লবীর দ্বীপান্তর হয়। এরফলে ভেঙে যেতে বসে সংগঠন।

Image result for bhagat singh

কিন্তু ভাঙ্গা দলকে নতুন করে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিলেন চন্দ্রশেখর আজাদ। সঙ্গে পেলেন কয়েকজন নির্ভীক তরুণ তাজা প্রাণকে। এদের মধ্যে ছিলেন ভগৎ সিং, শুকদেব, হংসরাজ, যশপাল প্রমুখ। কিছুদিনের মধ্যেই দলের প্রধান বিপ্লবী হয়ে ওঠেন ভগৎ। বিশেষ করে তাঁর নেতৃত্বগুন সকলেই মেনে নিলেন। তাঁরই উদ্যোগে ১৯২৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিপ্লবীদের ডেকে একটি গোপন সভা করা হয়ে। কারণ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিচ্ছিন্নভাবে বিপ্লবী প্রচেষ্টায় যে বিশেষ কোনও ফল পাওয়া যাবে না বলেই মনে ক্রতেন ভগৎ সিং। তাঁর ইচ্ছে ছিল সংগঠিত ভাবে নতুন কিছু করা। যাতে ইংরেজ সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া যায় নিয়মতান্ত্রিক অন্দোলনের বাইরেও একটা শক্তিশালী মুভমেন্ট ভারতের স্বাধীনতার জন্য কতটা সক্রিয়। সেই সভাতেই দলের নামের সঙ্গে ‘সোশ্যালিস্ট’ শব্দটি জুড়ে দেন ভগৎ সিং। দলের নতুন নাম হয়, ‘হিন্দুস্থান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন’ বা HSRA। এর দ্বারা ভগৎ সিংয়ের বিপ্লবী পন্থা বুঝতে অসুবিধা হয় না। ভবিষ্যত ‘সমাজতান্ত্রিক ভারতের’ স্বপ্ন দেখতেন। 

Image result for bhagat singh

ভগৎ সিংয়ের নেতৃত্বেই ১৯২৯ সালে কেন্দ্রীয় আইন সভায় বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটিয়েছিল HSRA। ভগতের সঙ্গী ছিলেন বটুকেশ্বর দত্ত। কাউকে হতাহত করার অভিপ্রায় ছিল না তাঁদের। তাঁরা চেয়েছিল ব্রিটিশ শাসকের মনে ভয় ধরাতে। তাই ১৯২৯ সালের ৮ই এপ্রিলের সেই ঘটনায় বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সভাকক্ষের ফাঁকা জায়গাতে। এরপর স্বেচ্ছায় তাঁর পুলিশের হাতে ধরা দেন। ভগৎ সিং, বটুকেশ্বর দত্ত, রাজগুরু, শুকদেব সহ বহু বিপ্লবীর বিরুদ্ধে শুরু হয় ‘লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা। বিচারের নামে চলে একের পর এক প্রহসন। যেমন বিচারাধীন বন্দীকে হাতকড়া পড়িয়ে কাঠগড়ায় তোলা, বিচার কক্ষে সাধারন মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে বন্ধ ঘরে বিচার শুনানী চালানো, প্রকৃত সাক্ষ্মীদের সাক্ষ্মী না নেওয়া ইত্যাদি। অবশেষে ১৯৩১ সালের ২৩শে মার্চ লাহোর জেলে ফাঁসি দেওয়া হয় ভগৎ সিং, রাজগুরু ও শুকদেবকে।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.