করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বন্ধ কপিলমুনি মন্দিরের দরজা



মৃন্ময় নস্কর, দঃ২৪ পরগনা : করোনা ভাইরাসের আক্রমণ রুখতে অবশেষে বন্ধ হয়ে গেল কপিল মুনি মন্দিরের দরজা। প্রাথমিকভাবে এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ করা হলেও পরবর্তীতে সেই নির্দেশ আরো কিছুদিন বহাল থাকলেও থাকতে পারে এমনটাই জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। শুধু মকর সংক্রান্তির মেলার  সময় নয় সারা বছরই প্রচুর জনসমাগম হয় গঙ্গাসাগরের এই কপিলমুনি মন্দিরে। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে বহু তীর্থযাত্রী ভিড় করেন এই মন্দিরে । উপভোগ করেন সমুদ্রতট কে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তেই আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন। ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের মন্দিরের মত গঙ্গাসাগর মন্দিরকে ও বন্ধ করে দেওয়া হল। আগত পূণ্যার্থীদের থেকে কোনভাবেই যাতে সংক্রমণ সাগরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেই কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। মন্দিরের আশপাশে যে সমস্ত নাগা সাধুদের আখড়া গুলি আছে সেগুলো কে ও আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্দির চত্বরে কোন রকম ধর্মীয় সমাবেশ ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এদিন মন্দির বন্ধ থাকায় ফিরে গেছেন অনেক পুণ্যার্থীরা। এ বিষয়ে মন্দিরের মহান্ত সঞ্জয় দাস বলেন, "চারিদিকে যেভাবে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে তার থেকে বাঁচতেই এই সিদ্ধান্ত । কারন সাগরের এই মন্দিরে স্থানীয় মানুষজন যতটা না আসেন তার থেকে অনেক বেশি মানুষ আসেন বাইরের দেশ থেকে এবং ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আপাতত মন্দির বন্ধ রাখার। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় ৫০ জন তীর্থযাত্রী আসেন গঙ্গাসাগরের কপিলমুনির মন্দিরে। কচুবেড়িয়া তে তাদেরকে একদফার চেকিং করা হয়। তারপর পাঠানো হয় মন্দিরে। এই তীর্থযাত্রীরা মন্দির থেকে বেরিয়ে যেতেই বন্ধ করে দেওয়া হয় মন্দিরের দরজা। শুধু মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকলেও মন্দিরের সমস্ত পূজা পাঠ, সন্ধ্যা আরতি, প্রসাদ নিবেদন করা সবই হবে নিয়ম মেনে।
শুধু তাই নয় অতিসম্প্রতি মিলেনিয়াম পার্ক থেকে গঙ্গাসাগরে পৌঁছানোর যে ক্রুজ সার্ভিস চালু করা হয়েছিল  আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেই ক্রুজ সার্ভিস ও।
এ বিষয়ে সাগরের বিধায়ক বঙ্কিম হাজরা জানান " বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের ফিরে যেতে অসুবিধা হচ্ছে। তাছাড়া ভাইরাস আক্রমণের আশঙ্কা থেকেই মন্দির বন্ধ রাখা হয়েছে তীর্থযাত্রীদের জন্য। তবে মন্দিরকে ঘিরে যে সমস্ত কাজকর্ম প্রতিদিন হয় তা চালু থাকবে।"এ বিষয়ে জেলা শাসক পি উলগানাথান বলেন, মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আপাতত এক সপ্তাহ মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অবস্থা বুঝে বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.