বিয়ের প্রথম রাতে সতীত্ব প্রমাণ করবে এই পণ্যটি!


প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আমরাও এগিয়ে চলেছি ক্রমশ। সেকেন্ডেই এক প্রান্তের খবর অন্য প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। হাতে রাখা এক ছোট মেশিনেই বন্দি পুরো পৃথিবী। ঘরে বসেই আমরা জানতে পাচ্ছি তেপান্তরের কথা। যুগ যতই এগোচ্ছে, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের তৈরি করতে আমরা প্রত্যেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছি। কিন্তু, আদৌ কি আমরা আধুনিক? সত্যিই কি আমরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি? অতীতের কুসংস্কারজনিত ধ্যানধারণা থেকে কতটাই বা মুক্ত হতে পেরেছি আমরা?
নিজেদেরকে আমরা সত্যিই কি সেই গন্ডি থেকে বের করতে পেরেছি? এসব নিয়ে তো যুক্তি, তর্ক থেকেই যায়। এই যুক্তি, তর্কের মাঝেই অনলাইন পণ্য বিপণী সংস্থা অ্যামাজনের একটি 'প্রোডাক্ট' যেন বুঝিয়ে দিল আধুনিকতা সম্পর্কে।
অনলাইন পণ্য বিপণী সংস্থা অ্যামাজন সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত। আমরা কম-বেশি সবাই সেখান থেকে আমাদের পছন্দসই জিনিস কেনাকাটা করি। কিন্তু, আপনারা হয়ত অনেকেই অ্যামাজনে বিক্রি হওয়া একটি পণ্য, 'আই-ভার্জিন' নামক একটি ট্যাবলেটের বিষয়ে শোনেন নি, যা মহিলাদের সতীচ্ছদ অক্ষত রাখার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করতে সক্ষম হবে। 'আই-ভার্জিন' নামক এই ট্যাবলেটের মাধ্যমে বিয়ের প্রথম রাতে কোনও মহিলা নিজের সতীত্ব অক্ষত থাকার প্রমাণ দিতে পারবেন। অবাক লাগছে তো! শুধু আপনি নন, এরকম পণ্যের কথা শুনে অবাক হচ্ছেন অনেকেই!
পণ্যের বিবরণ অনুযায়ী
১। সতীচ্ছদ অক্ষত না থাকলেও, বিয়ের প্রথম রাতে এটি ব্যবহার করলে রক্তপাত নিশ্চিত
২। কোনও সার্জারির দরকার নেই! অত্যন্ত সহজ, দ্রুত, নিরাপদ এবং সুবিধাজনক
৩। উচ্চ মানের ব্লাড ​​পাউডার
৪। কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই
৫। কোনও অ্যানাস্থেসিয়া নেই এবং বিষাক্ত নয়
অতীতে বিশ্বাস করা হত, বিয়ের প্রথম রাতের মিলনে যদি নারীর যোনি থেকে রক্তপাত হয় এবং সাদা বিছানার চাদরে লেগে থাকা মিলনের রক্ত দেখাতে পারলেই সেই নারী 'দুশ্চরিত্র' নয়, 'খাঁটি'। আর রক্তপাত না হলে সেই নারীকে, 'খারাপ', 'দুশ্চরিত্রা', তকমা দিয়ে সমাজের এক কোণে ফেলে রাখা হত। তবে, অতীতে এর চল বেশি থাকলেও, দুঃখের বিষয় এই যে, আজকের এই আধুনিক যুগে দাঁড়িয়েও নারীদের অবস্থা অনিশ্চিত। এখনও কোথাও কোথাও নারীদের সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়।
সেই নিম্ন মানসিকতার পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সঙ্গে বাণিজ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়েছে অ্যামাজনে বিক্রি হওয়া আই-ভার্জিন নামক এই পণ্যটি। নারীবাদীরা অনেকেই মনে করছেন, এইসব পণ্যগুলিই নারীদের ক্ষমতায়নে আরও পিছিয়ে দিচ্ছে।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.