স্বামী নির্বাচনের আগে মেয়েরা কিভাবে?


ডিজিটাল যুগ এখন। আজকের দিনে যাদের উপযুক্ত বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড জোটেনি, তারা নিজের জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনী খুঁজে নেওয়ার ব্যাপারে নিজেরাই উদ্যোগী হন। এসব বিষয়ে মেয়েরা কি ভাবেন? কোন কোন দিক বিবেচনা করেন? এখানে তার উত্তরই তুলে দেওয়া হলো।

১. ছবিটা সত্যি তো? ছবি দেখে তো ছেলেটাকে বেশ হ্যান্ডসাম বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু ছবিটা কি ওর নিজের? নিজের কোনো বন্ধু বা অন্য কারো ছবি, কিংবা অনামী অভিনেতার ছবি নিজের প্রোফাইলে রাখেনি তো ছেলেটা?
২. ছেলেটা যদি এতটা হ্যান্ডসামই হবে, তা হলে ম্যাট্রিমনি সাইটে কী করছে? এত দিনেও কোনো প্রেমিকা জুটল না? নির্ঘাৎ কোনো ভেজাল আছে এই প্রোফাইলে।
৩. আমার সঙ্গে তো দিব্যি মনভোলানো কথাবার্তা বলছে। বেশ লাগছে কথা বলতে। কিন্তু কে জানে? সে রকম প্লেবয় টাইপের ছেলে যদি হয়, তাহলে সব মেয়ের সঙ্গেই এই ভাবেই আলাপ জমায় সে।
৪. আমাকে বিয়ে করবে বলছে। কিন্তু পুরো ব্যাপারটা সিরিয়াসলি ও খতিয়ে দেখেছে তো? পরে হয়তো বলবে, পুরোটাই প্র্যাকটিকাল জোক ছিল।
৫. কথাবার্তা তো বেশ ভালই লাগছে। মনে হচ্ছে, ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড ভাল। অর্থনৈতিক পজিশনও খারাপ নয়। স্বামী হিসেবে বেশ ভালো হবে বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু বিয়ের পর যদি দেখি ছেলেটা একেবারে অন্যরকম, তখন অনেক পারিবারিক ঝামেলা পোহাতে হবে।
৬. লোকটা বিছানায় কেমন? যৌন জীবনে কুরুচিপূর্ণ নয় তো? আমিও বা তার সঙ্গে ঠিকমতো মানিয়ে চলতে পারবো তো?
৭. বিয়ের পর-পরই বাচ্চাকাচ্চার জন্য আবদার করলে ঝামেলা। তা হলেই তো বিবাহিত জীবনের বারোটা বেজে যাবে।
৮. আমি যদি কখনও টায়ার্ড ফিল করি পরিবারের ঝক্কি সামলাতে সামলাতে, সে কি আমার পাশে দাঁড়াবে?

একজন আদর্শ স্ত্রীর গুনাবলী- 
1. স্বামী বাইরে থেকে ফিরলে সম্ভব হলে দরজাটা নিজেই খুলে দেন, একটি হাসি উপহার দিয়ে দু'জনের মাঝে শান্তিময় পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ চেয়ে তাকে বলেন,
"আসসালামু আলাইকুম।"
2. তার জীবনসঙ্গী কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর তাকে ফ্রেশ হয়ে নিতে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো এগিয়ে দিন। একটু কষ্ট করে তার জন্য সময়মত খাবারটি পরিবেশন করেন। সুসংবাদটি
তাড়াতাড়ি জানান এবং খারাপ সংবাদ থাকলে একটু সময় নিয়ে তারপর বলেন।
3. স্বামীর নির্দেশনাগুলো শোনেন এবং সাধ্যমত চেষ্টা করেন যেন তাকে সন্তুষ্ট রাখা যায়। কোন বিষয় নিয়ে স্বামীকে কখনো চাপে রাখেন না বরং তার মনে শান্তি দেয়ার চেষ্টা করেন।
4. যদি তার জীবনসঙ্গী মানুষটা
কখনো তাকে কষ্ট বা আঘাত দিয়ে
ফেলে, তিনি নিজেকে শান্ত রাখেন।
খেপে যান না কেননা তিনি ধরেই নেন হয়ত তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কষ্ট দিতে চাননি, অসতর্কতায় এমনটি হয়ে গেছে।
5. জীবনসঙ্গীর ছোট ছোট ভুলগুলো তিনি এড়িয়ে যান এবং তার ভালো কাজগুলোকে উৎসাহিত করেন। তার
পরিশ্রমের কাজগুলোর ব্যাপারে
প্রশংসা করেন।
6. নিজেকে পরিপাটি ও সুন্দর করে উপস্থাপন করেন স্বামীর সামনে যা তিনি অন্য কারো সামনে, কারো জন্য
করেন না। সম্ভব হলে সুগন্ধি ব্যবহার করেন।
7. সৌহার্দ্যপূর্ণ ভালোবাসার গলায়
জীবনসঙ্গীর সাথে কথা বলেন। এই
কোমল সুরে তিনি অন্য কোন পুরুষের সাথে কখনো কথা বলেন না। যাদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ নয় এমন পুরুষদের সাথে যথাসম্ভব কোমলতাহীন কন্ঠে এবং
সাধ্যমতন সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলাই ইসলামের শিক্ষা।
8. তার স্বামীর আয় থেকে অতিরিক্ত ব্যয় করেন না, অবর্তমানে তিনি তার
সংসারের সবকিছু এমনভাবে দেখভাল করেন যেন স্বামীর অপছন্দের কিছু না ঘটে।
9. জীবনসঙ্গী যখন খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যায়, তিনি তার পাশে থাকেন, ধৈর্যধারণ আর সদুপদেশ দিয়ে তাকে ধীরস্থির হয়ে সময় কাটিয়ে ওঠার পথে
সাহায্য করেন।
10. স্বামী তার প্রতি সঠিক আচরণ না করলেও ধৈর্য ধরেন, চেষ্টা করেন তাকে উত্তম উপায়ে তার প্রত্যুত্তর দিতে।
11. শালীনতা রেখে উত্তম পোশাক পরেন যাতে কেননা পোশাকে রুচিবোধ
ফুটে ওঠে। ঈমানের সাথে লজ্জার
সম্পর্ক খুবই গভীর। যিনি যত বেশি ঈমানের অধিকারী/অধিকারিণী তার
লজ্জাবোধ তত বেশি। একজন উত্তম মুসলিমাহ এসব বিষয়ে সচেতন দৃষ্টি রাখেন।
12. সন্তানদের ইসলামিক জ্ঞানে বড় করে তুলতে সামর্থ্যের সর্বোচ্ছটুকু করেন। নিজেও আন্তরিকভাবে ইসলাম
সম্পর্কে শেখেন এবং স্বামী-স্ত্রীদু'জনে মিলে জীবনে ইসলামকে মেনে চলেন। বাবা-মায়ের আচরণ সন্তানদের প্রভাবিত করে, তাই বাবা-মায়েরা নিজেরাও সচেতন থাকেন নিজেদের ব্যক্তিগত চরিত্র, স্বভাব এবং আচরণ নিয়ে।

যেসব গুণাবলী থাকে একজন আদর্শ স্বামীর
জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের নাম বিয়ে। এই নতুন জীবন আর অভিজ্ঞতায় আপনার হাতটি যে ধরে রাখে সে আপনার জীবনসঙ্গী। একটি মেয়েকে যেমন নতুন পরিবেশে এসে ভালোবেসে নিজের আশেপাশের মানুষগুলোকে আপন করতে হয় তেমনি তার স্বামীকেও তার অর্ধাঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে হয়, সহযোগিতার হাত বাড়াতে হয়। স্ত্রীর মন বুঝে, তার চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পথ চলতে হয়। একজন ভালো স্বামী হতে হলে আপনার ভেতরে থাকা চাই কিছু গুণাবলী।

নিখুঁত ভালোবাসা :
যেকোনো সম্পর্কের মূল ভিত্তি হয়ে থাকে ভালোবসা। যেখানে ভালোবাসা নেই সেখানে না থাকে বিশ্বাস না থাকে ভরসা। আর স্বামী-স্ত্রীর মাঝে এই ভালোবাসা থাকা সবচেয়ে বেশি জরুরি। স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসা তার স্ত্রীকে যেমন তার প্রতি আস্থাশীল হতে শেখায় ঠিক তেমনই দুজনের মধ্যকার ভালোবাসার বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে।

তাকে আগলে রাখা :
আপনি আপনার স্ত্রীকে যে ভালোবেসে আগলে রাখছেন তা তাকে ধীরে ধীরে আপনার কাজ দিয়ে বুঝান। এতে সে যেমন আপনাকে বিশ্বাস করতে শুরু করবে তেমনই তার প্রত্যেক সমস্যার সমাধানদাতা হিসেবে আপনাকেই বেছে নেবে। এতে সম্পর্ক হবে মজবুত আর ভালোবাসা হবে দৃঢ়। তখন পরস্পরের মধ্যকার বোঝাপড়া খুব সহজ হয়ে যাবে।

যোগাযোগ রক্ষা :
স্ত্রী যখন আপনার কাছে থেকে দূরে থাকবে তখন তাকে একটু ফোন, মাঝেমাঝে মিষ্টি কিছু কথা লিখে এসএমএস করুন। এক্ষেত্রে তার মাঝেও নানাভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করার ইচ্ছা জাগবে। যা সম্পর্কে আনবে নতুন মোড় আর একে অপরের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা।

অবুঝ আচরণ :
আপনি তার সাথে যখন অবুঝের মতো আচরণ করবেন তা হয়তো প্রথম প্রথম তাকে আনন্দ দেবে। আবার পরে হয়তো এটিই তার কাছে বিরক্তিকর লাগতে পারে। তাই তার কথা ও কাজ যে আপনি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন তা আপনার আচরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিন। মাঝে মাঝে তাকেও তার মতো করে খুনশুটি করতে বলুন। সরাসরি না বলে এদিক সেদিক ঘুরিয়ে বলুন। ছেলেমানুষী আর সিরিয়াসনেস সম্পর্কের মাঝে দুটোই থাকুক সমান গুরুত্বের সঙ্গে।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.