সরকারি হাসপাতালের শল্য চিকিৎসকের টাকা নিয়ে নার্সিংহোমে অপারেশন করার অভিযোগ




সরকারি হাসপাতালের শল্য চিকিৎসকের টাকা নিয়ে নার্সিংহোমে অপারেশন করার অভিযোগ


বালুরঘাট ১০ ফেব্রুয়ারী ; আবারও সরকারি হাসপাতালের শল্য চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হাসপাতালে চিকিৎসা করে মোটা টাকা নিয়ে নার্সিংহোমে অপারেশন করার অভিযোগ উঠলো দক্ষিন দিনাজপুর জেলায়।  অভিযোগ জেলার গংগারামপুর মহুকুমা হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক দেবাশীষ সেন টাকা নিয়ে নার্সিং হোমের অপারেশন টেবিলে রোগীকে উঠিয়েও অপারেশন  করতে না পারার অক্ষমতা প্রকাশ করে। রোগীকে ফিরিয়ে দিলেও ওই শল্য চিকিৎসক টাকা ফেরত দেন নি। আর এই নিয়ে আজ জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে'র নিকট গংগারামপুরের মিশন মোড়ের বাসিন্দা তাপস সরকার তার ৬ বছরের  শিশু অংকুশকে নিয়ে এসে এই অভিযোগ জানান।

অপরদিকে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বিকার করে নিয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে জানান তাপস বাবু তার ছয় বছরের শিশুকে নিয়ে অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন। জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক আরও জানান অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দু পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক ডেকেছি। সেখানে সামনা সামনি দুপক্ষের কথা শুনে পরবর্তি পদক্ষেপ গ্রহন করব। যেহেতু উনি নার্সিং হোমে টাকাটা দিয়েছেন এবং বিষয়টি আমার হাসপাতালের মধ্যে হয় নি। তাই ও নিয়ে আমার কিছু করার নেই। এদিকে অপারেশনের ব্যাপারে চিকিৎসক টু চিকিৎসক ভ্যারি করে।  তবে এই অপারেশন একটু ক্রিটিক্যাল এবং জেলায়  পেডিয়েট্রিক সার্জেন না থাকার দরুন হয়তো ওই চিকিৎসক অপারেশন করার সাহস পান নি বলে তিনি জানান।

গংগারামপুরের মিশন মোড়ের বাসিন্দা পেশায় তাত শিল্পি তাপস সরকারের অভিযোগ গত ৪ ফেব্রুয়ারী তিনি তার ছয় বছরের শিশু সন্তান অংকুশের পেটের উচু ঢিপির মত নাভির চিকিৎসা করানো জন্য গংগারামপুর মহুকুমা হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক দেবাশীষ সেনকে দেখাই।  উনি আমার সন্তানকে দেখে বলেন এটা হার্নিয়া।  একে অপারেশন না করা হলে শিশুর পরবর্তিতে অসুবিধের সম্মুখিন হতে হবে। তবে এই অপারেশন হাসপাতালে সম্ভব নয়। তাই স্থানিয় একটি নার্সিং হোমে অপারেশন করার পরামর্শ দেন তিনি। এর জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।  এ বাবদ ৫ হাজার টাকাও তিনি আমার কাছ থেকে নেন। তাপস বাবুর অভিযোগ সন্তানের ভবিষ্যৎএর সুস্থতার কথা চিন্তা করে অপারেশন করতে রাজি হয়ে যাই । কিন্তু ৫ তারিখে ওই চিকিৎসকের কথা মত নার্সিং হোমে আমার ছয় বছরের সন্তান অংকুশকে ভর্তি করি। এবং শল্য চিকিৎসকের হাতে অগ্রিম বাবদ ৫ হাজার টাকা তুলে দেই।

তাপস বাবু আরও অভিযোগ জানিয়ে বলেন কিন্তু আমার সন্তানকে ওই শল্য চিকিৎসক নার্সিং হোমের অপারেশন টেবিলে তুলেও পরে অপারেশন করার ব্যাপারে অক্ষমতা প্রকাশ করে অপারেশন টেবিল থেকে নামিয়ে দেয়। এরপরে আমি আমার সন্তানকে নিয়ে মালদা মেডিক্যাল কলেজে যাই। সেখানকার চিকিৎসকরা আমার ছেলেকে দেখে হেসে বলেন কোন চিকিৎসক একে অপারেশনের কথা বলেছে।  তাদের অভিমত শিশুদের এরকম নাভি উচু হয়ে থাকে কোন কোন ক্ষেত্রে। পরে বয়স বাড়ার সাথে সাথে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। এরপরেই তিনি বাড়ি ফিরে আসেন তার সন্তানকে নিয়ে। তারমতন আর কোন মানুষকে যাতে এরকম হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসা পরিকাঠামো থাকা সত্বেও কেন বাইরের নার্সিং হোমে রোগীদের অপারেশনের কথা বলবেন ওই চিকিৎসক। তার প্রতিকারের স্বার্থেই তিনি আজ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সাথে দেখা করে ওই শল্য চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেন বলে তিনি জানান। 
Loading...

No comments

Powered by Blogger.