স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে ছাত্রীদের কাছে চার বন্ধু



মৃন্ময় নস্কর, দঃ২৪পরগনা:     সেনেটারী ন্যাপকিন নিয়ে সুন্দরবনের স্কুলে স্কুলে ছুটছেন চারজন। বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত থাকলেও চারজন এখন হয়ে উঠেছেন স্যানিটারি ন্যাপকিন বন্ধু । উদ্দেশ্য একটাই সুন্দরবনের মেয়েদেরকে সুস্থ রাখা।
কৃষ্ণেন্দু ঘোষ,অলকেশ গায়েন,সুপর্ণা কণ্ঠ, এবং তরুণ হালদার । এই চার সহকর্মী এখন সুন্দরবন জুড়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ত‌বে সবটাই চলছে বিনি পয়সায় ।নিজেদের গাঁটের পয়সা খরচ করে প্রচার শুরু করেছেন প্রত্যন্ত এলাকার । ছাত্রীদের সুস্থ শারীর পাশাপাশি রোগমুক্ত সমাজ অশুচি কুসংস্কার দুরিকরন। সুন্দরবনের জয়নগর ,কুলতলি ব্লকে এমন অভিনব উদ্যোগ করে তুলেছেন কৃষ্ণেন্দু ঘোষ । একজন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসাবে প্রথমে তিনি এ কাজ শুরু করেন । তারপর অন্যরা যোগদান এই কাজে। তারই হাত ধরে চার সরকারী কর্মচারি পথচলছেন স্যানিটারী ন্যাপকিন ব্যবহার নিয়ে।   অলোকেশ গায়েন ও  সুর্পনা কণ্ঠ প্রাইমারি শিক্ষক শিক্ষিকা এবং তরুণ হালদার সরকারি হিসাব রক্ষকের কর্মী । পেশাগত দিক দিয়ে সরকারি কর্মচারী হলেও এদের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য  স্যানেটারী ন্যাপকিন ব্যবহার নিয়ে সুন্দরবনের যুবতীদের সচেতন করা। প্রত্যন্ত সুন্দরবনের ছাত্রীদের ঋতুস্রাব কুসংস্কার থেকে মুক্তি করা এদের লক্ষ্য । সুন্দরবনের ঋতুকালীন পরিচ্ছন্ন এবং সুস্থভাবে বাঁচানোর এদের অঙ্গীকার । সুন্দরবনের জয়নগর ও কুলতলি এই দুটি ব্লকের ৫০ টি স্কুলে নিজেদের পয়সা খরচ করে স্যানেটারী ন্যাপকিন প্রচার শুরু করেন কৃষ্ণেন্দু ঘোষ ।  কৃষ্ণেন্দু বাবুদের এই অবদান তাক লাগিয়ে দিয়েছে গোটা সুন্দরবন জুড়ে।  কৃষ্ণেন্দু বাবু প্রথম জীবনে কলকাতা পুলিশের এসআই ,পরে রাইটার্স বিল্ডিং এ কর্মরত ছিলেন।  আবার সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে হাই স্কুল টিচার এবং ২০১১ সালে পর থেকে তিনি অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক কাজ করছেন । প্রথমে দায়িত্বপান বর্ধমানে। কৃষ্ণেন্দু ঘোষের সঙ্গে হাত মেলান একাউন্ট তরুণ হালদার, প্রাইমারি শিক্ষক অলোকেশ গায়েন , এবং সুপর্না কন্ঠা । প্রতিদিন তাদের চাকুরী কর্মজীবন বাদে যেটুকু সময় পান অটোতে করে নিজেদের ইচ্ছেটাকে প্রকাশ করতে বেরিয়ে পড়েন স্কুলে স্কুলে।প্রতিটি স্কুলে ১০থেকে ১৫ বছর ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন । তাদেরকে বোঝান।  যাতে করে স্যানিটারী ন্যাপকিন ব্যবহার করতে পারে সেই বিষয়ে তদারকি করেন । তবে কৃষ্ণেন্দু ঘোষ এবং সুপর্ণা কণ্ঠা দায়িত্ব অনেক বেশী।  কারণ যে স্কুলে তারা যান সেখানে সেনেটারী ন্যাপকিন এর উপরে শিক্ষিকাদের একটি মনিটরিং করতে বলেন। শুধু স্কুল নয় স্কুলের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে ছাত্রীদের এবং তার মায়ের ব্যবহার করবার উৎসাহ ও উদ্দীপনা যোগান। বিস্তীর্ণ এলাকায় এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ান অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক কৃষ্ণেন্দু বাবু।  ছোট থেকেই তিনি সমাজ সেবায় অংশগ্রহণ করেছেন । বর্তমানে স্যানেটারী ন্যাপকিনের উপর কাজ করার মূল লক্ষ্য।
 ঋতুস্রাব কোন ও অভিশাপ কিংবা অশুচি বা লজ্জা বিষয়ক নয় তা বোঝান সকলকে। আর এটাই মূল লক্ষ্য এবং প্রচার এর মূল উদ্দেশ্য।  পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়তে এমন অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন সুন্দরবনের এই চার সরকারি কর্মচারী । নজির গড়েছে সুন্দরবনের প্রতিটি মানুষের কাছে।  বিশেষত স্কুল শিক্ষিকা এবং সুন্দরবনের প্রত্যন্ত ছাত্রীদের কাছে । আগামী দিন সুন্দরবনে প্রতিটি জায়গায় এভাবে কাজ করতে চান তারা।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.