ফারাও তুতেনখামেনের মৃত্যুরহস্য উন্মোচন !


মিশরের ফারাও বা ফেরাউনদের মাঝে সবচেয়ে কম বয়সী ছিলেন তুতেনখামেন। কিন্তু কিভাবে তাঁর মৃত্যু হল সেটি আজো এক বিরাট রহস্য। অনেকের ধারণা ছিল কুষ্ঠ কিংবা সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। আবার অনেকের মতে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার প্রায় ৯১ বছর আগে ভ্যালি অব কিংস-এ তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কার করেছিলেন। আর প্রায় ৩৩৩৬ বছর পর নতুন কিছু নিদর্শন বলছে হত্যা, কুষ্ঠ কিংবা সাপের কামড় নয়-তুতেনখামেন মারা গিয়েছিলেন দ্রুত ছুটে আসা কোন দুই চাকার গাড়ি বা বাহনের আঘাতে!
 
আরো জানা গিয়েছে ১৩২৩ খ্রিস্টপূর্বে যখন তুতেনখামেন মারা যান তখন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তার মরদেহকে সুগন্ধীদ্রব্য দ্বারা সজ্জিত করা হয় ও সমাহিত করা হয়। যার ফলে তার মমিকৃত দেহটি নিজ থেকেই জ্বলে গিয়েছিল। দুই চাকার বাহনের আঘাতের ফলে তুতেনখামেন মারা গিয়েছিলেন এই বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন Egypt Exploration Societyর পরিচালক ডক্টর ক্রিস নওনটন। তিনি ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টারের রেখে যাওয়া একটি নোটের সন্ধান পান, যেটি এর আগে কখনো প্রকাশিত হয় নি। ক্রিস বলেন, “ তুতেনখামেন যে কোন একটি দ্রুতগতির বাহনের সাথে ধাক্কা খেয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, এতে কোন সন্দেহ নেই। আর এই আঘাতের ফলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন যার ফলে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন। আর খুব সম্ভবত তার দেহ এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে তার শেষকৃত্য সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিতদের বেশ সমস্যাতেই পড়তে হয়েছিল।“
 
১৯৬৮ সালে লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ফটোগ্রাফার তুতেনখামেনের মমিটির ৫০ টি এক্স-রে ছবি তুলেন। এতে দেখা যায় তুতেনখামেনের খুলির একটি অংশ কিছুটা আলাদা হয়ে আছে। আর তখন থেকে এই ধারণাই করা হত যে তুতেনখামেনকে হত্যা করা হয়েছিল মাথায় আঘাত করে। কিন্তু এখন গবেষকরা নিশ্চিত যে তুতেনখামেনের খুলির আঘাত আসলে তার মৃত্যুর পরে সৃষ্ট হয়েছে। আর তার মৃত্যুর আসলে কারণ লুকিয়ে আছে তার বুকের নিচে! দেখা গেল, তার কঙ্কালটির বুকের বাম পাশের পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে গিয়েছে এবং তার হৃদপিণ্ড উধাও!
Loading...

No comments

Powered by Blogger.