মুখের ব্যাকটেরিয়া জানিয়ে দেবে আপনি কোন জনগোষ্ঠীর মানুষ!


প্রতিটি মানুষের মুখের ভেতরের অংশ আলাদা। সেখানে বিচিত্র ধরণের জীবাণু থাকে। মানুষের মুখের থুতু, দাঁত, দাঁতে আটকে থাকা প্লাকে এসব জীবাণু বাস করে। আগে ধারণা করা হত, এই ব্যাকটেরিয়ার ককটেইল বা বিভিন্নতা সবার মুখে প্রায় একই। ওহিয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণাতে বলা হয়, বিভিন্ন নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষের মুখের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া প্রোফাইল বা ব্যাকটেরিয়ার প্রজাতি ও পরিমাণের মাঝে ভিন্নতা রয়েছে। আর এটি ভালভাবে জানা গেলে, মুখ ও দাঁত সংক্রান্ত যত্ন ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে আরো সুবিধা হবে।
এফ্রো-আমেরিকান, ককেশীয়, ল্যাটিনো বা দক্ষিণ আমেরিকান ও চীনা-এ চার আলাদা জনগোষ্ঠীর ১০০ জন মানুষের মুখের ভেতরে পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে যে, তাদের মুখের ভেতরে ৪০০ ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব রয়েছে।
আর মাত্র ২% ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যেগুলো সবার মুখের ভেতরেই আছে। এছাড়া আরো ৮% বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া গবেষণায় অংশ নেয়া ৯০% ব্যক্তির মুখে পাওয়া যায়। আর প্রতিটি জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মুখেই সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরণের ব্যাকটেরিয়া সংগঠন বা প্যাটার্ন দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে মুখের মাড়ির দাঁতের নিচে। এ সংক্রান্ত গবেষণা সম্প্রতি ‘নেচার’-এ প্রকাশিত হয়েছে। OSU dental college এর সহযোগী অধ্যাপক পূর্ণিমা কুমার এই গবেষণা প্রবন্ধের সিনিয়র লেখক।
গবেষকরা একটি এলগরিদম তৈরি করেছেন যার মাধ্যমে একজন মানুষের মুখের বিশেষ করে দাঁতের মাড়ির নিচের ব্যাকটেরিয়া উপর ভিত্তি করে সেই মানুষটি কোন নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত সেটি বলে দিতে সক্ষম হবেন। আর এই ফলাফল হবে ৬২% নিখুঁত। গবেষণা চলাকালীন সময়ে গবেষকরা গবেষণায় অংশ নেয়া এফ্রো-আমেরিকান সদস্যদের মুখের ব্যাকটেরিয়ার উপর ভিত্তি করে ১০০% নির্ভুলভাবে তারা কোন নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত তা বলে দিতে সক্ষম হন। কিন্তু বাকি তিনটি জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি ১০০% নির্ভুল না হলেও, সন্তোষজনক।

আমাদের মুখের ভেতরে কি ধরণের ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিবে ও বেড়ে উঠবে তা মূলত নির্ভর করে আমরা কি ধরণের খাবার খাই ও মুখের যত্ন নেয়ার উপর। যেকারণে ডেন্টিস্টরা আমাদের দাঁতের নিয়মিত যত্ন নেয়ার ব্যপারে গুরত্ব দেন। এছাড়া প্রতিটি মানুষের মুখে যদি স্বতন্ত্রভাবে ব্যাকটেরিয়া প্রজাতির বিন্যাস থাকে তবে তাদের মুখ ও দাঁত সংক্রান্ত চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সেটি প্রভাব ফেলবে। এটি থেকে বোঝা যাবে কার মুখের জন্য কি ধরণের ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন। এছাড়া মুখের ভেতরের বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করতে সক্ষম উপকারী ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর ক্ষেত্রেও এই গবেষণা কাজে দিবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। এর আগে তাঁদের ধারণা ছিল, সব মানুষের মুখে একই প্রজাতির উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.