যৌনাঙ্গ বিহীন জ্যাকিবেক



জ্যাকি বেক আর সব সাধারণ মানুষের মতই জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁর বেড়ে ওঠাও আর ১০টা মেয়ের মতোই। তবে অন্য বিষয়গুলো সাধারণের মত হলেও শারীরিক দিক থেকে অন্য মেয়েদের মত নয় জ্যাকি। শরীরের সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ স্বাভাবিক থাকলেও যৌনাঙ্গ নেই তাঁর। এমনকি বয়সন্ধিকালীন সময়ে মাসিক হচ্ছে না জ্যাকির।
 
ভবিষ্যতে কারো সঙ্গে যৌন মিলন কিংবা মা হতে পারবেনা ১৭ বছর বয়সী লন্ডনের বাসিন্দা জ্যাকি। জ্যাকি লন্ডনের গিল্ডফোর্ড মিউজিক কলেজের ছাত্রী। ডাক্তারের কাছে গিয়ে যাবতীয় পরীক্ষা নিরিক্ষার পর জ্যাকি জানতে পারে তার শারীরিক অক্ষমতার কথা। সে জানতে পারে জীবনে আর সব মেয়ের মতো কাউকে যৌনসঙ্গী করতে পারবে না। এমকি ভবিষ্যতে মাও হতে পাবে না। তবে যৌনাঙ্গ না থাকার বিষয়টি সে এতোদিন বুঝতেই পারেননি। জ্যাকি বুঝতে পারেনি যে জীবনটা তার পূর্ণাঙ্গ নয়।
 
শারীরিক এই অসঙ্গতির কথা ঘুর্ণাক্ষরেও জানতে পারেনি জ্যাকি। হঠাৎ ব্যাক পেইন শুরু হলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে জানতে পারেন বড় ধরণের শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে সে পৃথিবীতে এসেছে।
 
ভীষণ দুশ্চিন্তায় পেয়ে বসে তাকে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে ছুটে যায় জ্যাকি। শুরু হয় তার নিরন্তর দৌড় ঝাঁপ। একের পর এক ডাক্তার বদল। কিন্তু কোনো কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। নানা পরীক্ষা নীরিক্ষার পর জ্যাকি জানতে পারেন যে শারীরিক অক্ষমতা
 
চিকিৎসকরা বলেছেন, এটা এক ধরনের রোগ। খোদ লন্ডনেই এমন পাঁচ হাজার মহিলা রোগী রয়েছে। অর্থাৎ যারা এই রোগে আক্রান্ত তাঁদের মাতৃগর্ভ থাকেনা। এমনকি মাসিকও হয়না।
 
তবে চিকিৎসকরা বলছেন কৃত্রিমভাবে জ্যাকি যৌনাঙ্গ নিলেও তাঁর মাসিক হবেনা এমনকি সে সন্তান ধারণের ক্ষমতাও অর্জন করতে পারবে না।
 
তবে ডাক্তারের কাছ থেকে নিজের বিষয়ে কঠিন সত্যটি জানার পর জ্যাকি বলেন, ‘আমি আসলে চিকিৎসকের কথা বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি নিশ্চিতভাবেই জানি ডাক্তার অবশ্যই মিথ্যা বলেছেন। তবে এটাও সত্যি ডাক্তাদের অনুমান অনুযায়ী আমার মাসিক হচ্ছে না। তবে ডাক্তার বলেছে চিকিৎসার পরে আমি যৌণ মিলনে সক্ষম হব কিন্তু সন্তান ধারন করতে পারব না। তবে আমি স্বপ্ন দেখি আমার নিয়মিত মাসিক হবে এবং আমি গর্ভবতী হব ও সন্তান জন্ম দিব।’
 
তবে ছোটবেলা থেকেই জ্যাকি বেকের যৌনাঙ্গ অন্যসবার মেয়ের মত স্বাভাবিক ছিল বলেই এতদিন সে তাঁর সমস্যা সম্পর্কে জানত না। সে জানতো না এমআরকেএইচ নামে এক জটিল রোগে ভুগছে বেক।
 
এমআরকেএইচ কী?
 
এমআরএইচকে রোগটি হল ‘মেয়ার রকিট্যানসকি কুসটার হসার।’ এই রোগে আক্রান্ত নারীরা শারীরিকভাবে সন্তান ধারণে অক্ষম ও নিয়মিত তাদের মাসিক হয় না। তাঁদের মাতৃগর্ভ থাকে না। তবে ছোটবেলা থেকে এই সমস্যা বোঝা যায় না। তবে অনেকেই চিকিৎসার মাধ্যমে যৌণ মিলনে সক্ষম হলেও সন্তান ধারণের ক্ষমতা তাঁদের থাকে না।  আর জ্যাকির সমস্যা ধরা পড়ার পরই ঘুম হারাম হয়েছে তাঁর মায়ের। তবে কম বয়সে সমস্যা চিহ্নিত করায় খুশি তিনি। কারণ চিকিৎসা তো করাতে পারবেন এবার। সন্তান জন্ম দিতে না পারলেও সারোগেট মায়ের মাধ্যমে সন্তান নিতে পারবেন জ্যাকি।

Loading...

No comments

Powered by Blogger.