আজ গঙ্গাসাগরে মকর সংক্রান্তির পূণ্য স্নানের সন্ধিক্ষণ







আজ গঙ্গাসাগরে মকর সংক্রান্তির পূণ্য স্নানের সন্ধিক্ষণ


কয়েকদিন আগেই গঙ্গাসাগর মেলা উদ্বোধনে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় জানিয়ে ছিলেন গঙ্গাসাগর মেলার সময় কেউ যাতে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে সেদিকে প্রশাসনকে নজর রাখতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই আদেশকে সামনে রেখে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা। রেকর্ড ভিড় হবে এই আশা নিয়ে বুক বাঁধছে সাগর মেলার প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঙ্গাসাগর মেলা শুরু হয়েছে ৭ই জানুয়ারি থেকে যা চলবে ১৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত। ১৫ই জানুয়ারি বুধবার রাত ১:৪৩ থেকে ভোর ৩:০৭ পর্যন্ত পূর্ণ্যকলা এবং সকাল ৮:৫৭ থেকে ১০ : ৩২ পর্যন্ত মহা পূর্ণ্যকলা। আর ওই সময়ে স্নানের যোগ থাকবে এমনটাই জানিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। মোটামুটি সাগরে আসা সাধু-সন্তরা একমত এই পূর্ণ্য স্নানের সময় নিয়ে। এই সময় সমস্ত তীর্থযাত্রীদের ওপর নজর রাখতে এক হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। কুড়িটি ড্রোন নিযুক্ত করা হয়েছে ছবি তোলার জন্য । জিপিএস-এর মাধ্যমে সমস্ত বাস ও নৌকাগুলির উপর থাকছে নজরদারি। শুধু তাই নয় গঙ্গাসাগর মেলার জন্য নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট মোবাইল অ্যাপস চালু করা হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে।




কলকাতার আউট্রাম ঘাট থেকে কোন পূণ্যার্থীর যাতে মেলা প্রাঙ্গণে আসতে অসুবিধা না হয় তার জন্য বাড়ানো হয়েছে বাসের সংখ্যা। পনেরশো সরকারি বাস এবং বাইশশো বেসরকারি বাস ইতিমধ্যেই যাত্রী পরিবহনের কাজ শুরু করেছে। অন্যদিকে শিয়ালদা থেকে নামখানা গামী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে রেলের তরফ থেকে।  নদীপথে পুণ্যার্থীদের পরিবহনের জন্য ৬৩২ ভেসেল এবং ১০০ টি কাঠের লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবহন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে।
ইতিমধ্যেই গঙ্গাসাগর মেলায় অসুস্থ হওয়া দুই তীর্থযাত্রীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হয়েছে কলকাতায়। আগামী দিনে এই সংখ্যা আরো বাড়বে এমনটাই আশা করছে প্রশাসন। ফলে অসুস্থ মানুষকে পরিষেবা দিতে সাগর মেলা প্রাঙ্গণে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, জীবনদায়ী ওষুধ, রক্ত সহ পাঁচটি সিসিইউ , কচুবেড়িয়া চেমাগুড়ি, লট নম্বর আট এবং নারানপুরের ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।দুটি ইয়ার আম্বুলান্স, ৮৫ অ্যাম্বুলেন্স এবং চারটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে দর্শনার্থীদের নিরাপদে ফেরানোর জন্য গ্রিন করিডোরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকাতে সেনিটারি ন্যাপকিন প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে।

গঙ্গাসাগর মেলায় আগত তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ৪৫০০ জন পুলিশ কর্মী, ৩০০০ জন অসামরিক স্বেচ্ছাসেবক ও ২৫০০ জন হোমগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। অপরাধ মোকাবিলার জন্য প্রায় ২৩টি অপরাধ প্রতিরোধে টিম, চারটি কুইক রেসপন্স টিম এবং একাধিক মোটরসাইকেলে পেট্রোলিং করছে বিভিন্ন এলাকাতে। স্থানীয় ভাষার সঙ্গে সঙ্গে তীর্থযাত্রীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাষায় সম্প্রচার / ঘোষণা করা হচ্ছে মেলা প্রাঙ্গণ থেকে।

সোমবার মেলা পরিচালনার জন্য সাগরে এসে পৌঁছেছেন রাজ্যের আরো দুই মন্ত্রী। সুব্রত মুখার্জি ছাড়াও গঙ্গাসাগরে আছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়। সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করেন তিন মন্ত্রীসহ জেলাশাসক পি উলগানাথান। সাংবাদিক বৈঠক মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি বলেন, "ইতিমধ্যেই প্রচুর মানুষ মেলা প্রাঙ্গণে এসে ফিরে পূজা দিয়ে ফিরেও গেছেন।  ১১৬ জন মেলায় গ্রেফতার হয়েছে বিভিন্ন অসামাজিক কাজের জন্য।  ৮৭ জন গাড়ির চালক সহকারীকে আটক করা হয়েছে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে।  ৩৪ জনকে ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন জায়গাতে।"




Loading...

No comments

Powered by Blogger.