১৯৭১ সালের অপারেশন ট্রাইডেন্ট




১৯৭১ সালের শেষের দিকে ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে আর এই কারনে পাকিস্তান ২৩ নভেম্বর জাতীয় জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে । পাকিস্তানের এ পদক্ষেপ দেখে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের উপরে নজর রাখার জন্য করাচির পাশে ওখাতে বেশ কিছু ছোট ছোট নৌযান পেট্রোলিং এর জন্য নিযুক্ত করে । অপরদিকে পাকিস্তানও তাদের সীমানায় ভারতীয় নৌবাহীনির প্রবেশ ঠেকানোর জন্য নৌযান পাঠিয়ে দেয় । এ সময়ের মধ্যে দুই দেশ তাদের জলপথ সম্পর্কে বেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করে ফেলে । পরবর্তিতে ১৯৭১ সালের ৩য় ডিসেম্বর পাক-ভারত সিমান্তে অবস্থিত ভারতীয় বিমানবন্দরে পাকিস্তান হামলা চালালে আনুষ্ঠানিকভাবে পাক-ভারত যুদ্ধের শুরু হয় ।

৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, করাচি বন্দরে আগে থেকে থাকা বিদ্যুৎ ক্লাস মিসাইল বোটের আদলে সাজানো গ্রুপগুলো হামলার প্রস্তুতি শেষ করে, এ সময় তাদের সাথে ছিলোঃ আইএনএস নিপাত, আইএনএস নির্ঘাত এবং আইএনএস বীর আর তাদের সাথে ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়ন এর তৈরি চারটি মিসাইল যেগুলোর রেঞ্জ ছিলো ৪০ নটিক্যাল মাইল ( ৭৪কিঃমিঃ, ৪৬ মাইল) , দুটি আরনালা ক্লাস এন্টি সাবমেরিন কর্ভেটঃ আইএনএস কিল্টোন ও আইএনএস ক্যাচল এবং একটি ফিল্ট ট্যাংকার যার নাম ছিলো আইএনএস পোশক । ২৫তম মিসাইল বট স্কোয়াড্রোন গ্রুপটি কমান্ডিং অফিসার কমান্ডার বাবর ভান যাদব এর অধীনে ছিল । ৪ ডিসেম্বরে হামলার জন্য বানানো দলটী কারাচি উপকুল হতে ২৫০ নটিক্যাল (৪৬০কিঃমিঃ ২৯০মাইল) মাইল দক্ষিণে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং পাকিস্তানি এয়ার ফোর্স এর নজরদারির বাইরে থাকার চেষ্টা করে ।
আইএনএস নির্ঘাট উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে অগ্রসর হয় এবং তা পিএনএস খাইবারের উপরে প্রথম মিসাইল হামলা করে । পিএনএস খাইবার মনে করেছিলো এটি ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে ছোড়া মিসাইল ছিলো যা তাদের বিমানবাহীনির এন্টি মিসাইল সিস্ট্যামে ধরা পরে। মিসাইলটি স্থানীয় সময় রাত ১০ঃ৪৫ এ জাহাজের ডানপাশের অংশে আঘাত করে যার কারনে জাহাজটির নিচের একটি অংশ বিস্ফোরিত হয়ে বিদ্যুৎ ব্যাবস্থা নষ্ট হয়ে যায় । এতে জাহাজের প্রথম তাপীয় কক্ষটি বিষ্ফোরিত হয়। এর পরে জাহাজোটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ধোঁয়াইয় ঢাকা পরে যায়। এ সময় তারা জাহাজ থেকে একটি জরুরী সংকেত পাঠায় তাদের সদরদপ্তরে যেখানে জানা যায় শত্রুর এয়ারক্রাফট ০২০ এফএফ ২০ অংশে অবস্থান করছে যা জাহাজের ১ নং বয়লার ধ্বংস করে দিয়েছে যার ফলে জাহাজটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। জাহাজটিতে হওয়া বিষ্ফোরনের কারনে তারা অবস্থান নির্নয়ে ভুল করে ফেলে আর এই কারনে তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী জাহাজের আসতে দেরী হয়ে যায় । জাহাজটি জলে ডুবছিলো ঠিক সেই সময় নির্ঘাট থেকে ২য় মিসাইল ছুড়া হয় যায় খইবার জাহাজের অন্য আরো একটি বয়লারে গিয়ে আঘাত করে এবং জাহাজটি জলে ডুবে যায় । আর এর সাথে মারা যায় খইবার জাহাজে থাকা ২২২ জন নাবিক। 
Loading...

No comments

Powered by Blogger.