ভারতের প্রথম পরমাণু ডুবোজাহাজ কতটা শক্তিশালী



ভারতের তৈরি প্রথম পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ (নিউক্লিয়ার সাবমেরিন) আইএনএস অরিহন্ত ভারতীয় নৌ বাহিনীর কমিশন্ড হয়েছে ২০১৬ সালের আগস্টে। নিয়ম অনুযায়ী এর আগেই একবার লম্বা সি ট্রায়াল (সমুদ্রে যাতায়াত এবং অস্ত্র প্রয়োগ) সেরে নিয়েছে আইএনএস অরিহন্ত।
ভারতে নিজেদের তৈরি এটি প্রথম পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ। দীর্ঘ মহড়ায় সমুদ্রের তলা থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে প্রতিপক্ষের সীমানায় পরমাণু হামলা চালানোর মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। আইএনএস অরিহন্তের এ সফল ডেটারেন্স পেট্রোল ভারতের সামরিক বাহিনীর মর্যাদাকে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে দাবি দেশটির প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের।
পরমাণু ত্রিশূল হলো স্থল, জল এবং অন্তরীক্ষ থেকে পরমাণু হামলা চালানোর সক্ষমতা। স্থলভাগ থেকে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ে এবং বায়ুসেনা পরমাণু হামলা চালানোর পরিকাঠামো তৈরি করেছে ভারতীয় নৌ বাহিনী। ফলে স্থল, জল এবং অন্তরীক্ষ -তিন অবস্থান থেকেই পরমাণু হামলা চালানোয় সক্ষম ভারত।
পরমাণু শক্তিচালিত ডুবোজাহাজের ইঞ্জিনের শব্দ অত্যন্ত কম। ফলে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে খুব নীরবে হানা দিতে পারে। প্রতিপক্ষের রাডারকে ফাঁকি দিতেও এ সাবমেরিনগুলো দক্ষ। ফলে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের ভূখণ্ডের কাছাকাছি গিয়ে কোথায় ঘাপটি মেরে অপেক্ষা করতে পারে এসব ডুবোজাহাজ।
ভারতের এই আইএনএস অরিহন্ত থেকে আপাতত দুই রকমের পরমাণু অস্ত্রবাহী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যাবে। ‘সাগরিকা’ এবং ‘কে-৪’। সাগরিকা ৭৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং আর কে-৪ ৩৫০০ কিলোমিটার উড়ে গিয়ে পরমাণু হামলা চালাতে পারে।
তবে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন ভারতের হাতে নতুন -এমন নয়। রাশিয়ার কাছ থেকে আগেই আকুলা ক্লাস নিউক্লিয়ার সাবমেরিন লিজ নিয়েছিল ভারত। আইএনএস চক্র নামে সেই পরমাণু শক্তিচালিত রুশ ডুবোজাহাজেই ভারতীয় নৌ বাহিনীর প্রশিক্ষণ হয়।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.