‘তোকে দুই বছরের জন্য কিনে এনেছি’


আমি দেশে আসার কথা বললে মালিক আমাকে বলে ‘তোকে দুই বছরের জন্য কিনে এনেছি’। সুতরাং তোকে আমরা বাংলাদেশে পাঠাবো না। এরপরও আমি আসার জন্য কান্নাকাটি করলে তারা আমাকে বেধরক মারপিট করে। পরে লুকিয়ে আমি বাসার ছাদে গিয়ে ভিডিও করে আমার স্বামীর কাছে পাঠাই।
কথাগুলো বলছিলেন সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাঁচার আকুতি জানিয়ে ভিডিও বার্তা পাঠানো হবিগঞ্জের সেই হোসনা আক্তার।
দেশে ফিরে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব যাওয়ার পর আমাকে জেদ্দা থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি ঘরে আমাকে আটকে রাখা হয়। ঠিকভাবে খেতে দিতো না; প্রায়ই নির্যাতন করতো। দেশে আসতে চাইলে নির্যাতন বেশি করতো।’
সেখানে (সৌদি আরব) শুধু আমি না, আমার মতো আরও অনেক নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে তাদের উদ্ধার করা উচিত। তারা খুব কষ্টে আছে বলেও জানান হোসনা আক্তার।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে হোসনা আক্তার তার স্বামীর বাড়ি জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার আনন্দপুর গ্রামে পৌঁছান। গত বুধবার রাত ১১টা ২০ হোসনা আক্তারকে বহনকারী সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি-৮০৪ ফ্লাইট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা হোসনাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
হোসনার স্বামী শফিউল্লাহ বলেন, ‘আমি গরিব হওয়ার কারণে দালাল সাহিনের প্রলোভনে পরে আমার স্ত্রীকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। আর যেন কোন নারী বিদেশ না যায়। সেই সাথে আমি দালাল সাহিনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
উল্লেখ্য, ভাগ্য বদলের আশায় মাত্র ২৫ দিন আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন হোসনা আক্তার। কিন্তু সেখানে যাওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে বাঁচার আকুতি জানিয়ে স্বামীর কাছে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান হোসনা।

Loading...

No comments

Powered by Blogger.