‘ফ্রিল্যান্সিং’ কি শিখবো, কিভাবে শিখবো? কত টাকা আয় করা যায়…


বর্তমান সময়ে তরুণদের কাছে সবচাইতে আলোচিত ও আকর্ষনীয় একটি শব্দ হচ্ছে ‘ফ্রিল্যান্সিং’। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে স্বাধীন বা মুক্ত পেশা। অন্যভাবে বলা যায়, কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আধীনে না থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করাকে ‘ফ্রিল্যান্সিং’ বলে।
‘ফ্রিল্যান্সিং’ সম্পর্কিত যে প্রশ্নগুলো এখন তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি জানতে চায় তা হলো, আমি ‘ফ্রিল্যান্সিং’ করতে চাই। আমার জন্য কোনটা ভালো হবে? ওয়েব ডিজাইন না গ্রাফিক্স ডিজাইন? ওয়েব ডিজাইন শিখতে হলে আমাকে কি কি বিষয় শিখতে হবে? ফ্রিল্যান্সিং জগতে কোন কাজের রেট সবচেয়ে বেশি?
তবে ‘ফ্রিল্যান্সিং’ করতে আগ্রহী তরুণদের জন্য আমাদের পরামর্শ হলো, আপনার জন্য কোনটা ভালো হবে, এটা অন্য কাউকে জিজ্ঞেস না করে আপনার মেধা আর ইচ্ছেকের জিজ্ঞেস করুন তবেই সঠিক উত্তরটা পেয়ে যাবেন। অন্য একজন কিভাবে বলবে আআপনার জন্য কোনটা ভালো হবে, কোন কাজটা আপনি সহজে আয়ত্ব করতে পারবেন?
কাজ শিখবো, ফ্রিল্যান্সিং করবো এমন ইচ্ছে হওয়ার সং্গে সঙ্গে কোন কোচিং সেন্টারে ভর্তি না হয়ে ১-২ মাস সময় নিন। নিজের পছন্দের জায়গা, আগ্রহের কাজ বা উপযুক্ততা খুঁজে বের করুন। আপনি যে ধরণের কাজ করতে আগ্রহী ইন্টারনেট থেকে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণঅ নিন। ইন্টারনেটে প্রায় সব ধরণের ফ্রিল্যান্সিং কাজ সম্পর্কে প্রচুর লেখা ও ভিডিও টিউটোরিয়াল পাবেন। সেগুলো পড়ে -দেখে বুঝতে চেষ্টা করুন যে এই কাজটা কেমন, কিভাবে করতে হয়।
এভাবে আপনার জানা বা পছন্দের সব কাজ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেয়া হয়ে গেলে এবার এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, কোন কাজটা আপনার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে বা আপনি পারবেন বলে মনে হয়েছে? তারপর সেই বিষয়ের উপর ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিন।
এখানে একটা কথা হচ্ছে, ভিডিও দেখে বা ব্লগ পড়ে যদি আপনার মাথায় কিছুই না ঢোকে তবে আপনার এটা মনে হতে পারে যে, ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হলে সেখানে নিশ্চয়ই কিছু শিখতে পারবো। যদি এমন মনে হয়, তাহলে বলবো আপনার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা এত ভালো টিউটোরিয়াল থেকে যদি কিছুই আয়ত্ব করতে না পারেন, তাহলে ট্রেনিং সেন্টার আপনাকে তেমন কিছুই শেখাতে পারবে না। শুধু শুধু টাকা ও সময়ের অপচয় হবে।
অনেকের ধারণা হচ্ছে, ফ্রিল্যান্সিং বলতে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজিং, সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বা ওয়েব সাইট সম্পর্কিত কাজগুলোকেই বুঝায়। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আরও অনেক ধরণের কাজ পাওয়া যায়। সাপোর্ট এসিসটেন্ট থেকে শুরু করে বিজনেস আইডিয়া ডেভেলপার বা মার্কেট এনালাইসিসের কাজও এখানে পাওয়া যায়।
ওয়েব ডিজাইনার হতে কি কি শিখতে হবে? আপনি এই প্রশ্নটি বিভিন্ন জনকে করলে বিভিন্ন ধরণের উত্তর পাবেন। তখন আপনি কনফিউশনে পড়ে যাবেন। অনেকে বলবে শুধু HTML শিখলেই আপনি ওয়েব ডিজাইনার হয়ে যাবেন। কিন্তু মার্কেট প্লেসেআপনি যখন কাজতে যাবেন তখন বুঝতে পারবেন আরও কতকিছু শেখার বাকি। বড় কোন উদাহরণ না দিয়ে ছোট্ট একটি উদাহরণ দেই-কোন ক্লায়েন্ট হয়তো উল্লেখ করে দিবে HTML নয়, HTML 5 দিয়ে কাজ করতে হবে। তখন কিন্তু আপনাকে আর শুধু HTML জানলে চলবে না, HTML এর ভার্সনগুলোর পার্থক্যও আপনাকে জানতে হবে। সেগুলোতে কাজ পারতে হবে।
এই জন্যই বলছি ফ্রিল্যান্সিং শুরুর আগে কোন কাজ আপনি করবেন সেটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। আপনি এই একটি ফর্মূলা মানলেই আপনি বুঝতে পারবেন কি কি কাজ আপনার শেখা উচিত। তখনই কেবল সফল ফ্রিল্যান্সার হতে পারবেন।
কোন কাজে কেমন ইনকাম হতে পারে এই প্রশ্নটি কাউকে করবেন না। তাহলে ভুলের ফাঁদে পড়ে যাবেন। কারণ এটা একেবারেই আপনার কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে। মার্কেটপ্লেসে অনেক ডিজাইনরা আছেন যারা ঘন্টায় ৬০ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত রেটে কাজ করে। আবার অনেক প্রোগ্রামার আছেন যারা ঘন্টাপ্রতি ৫-১০ ডলার রেটেও কাজ করে। এখন কি আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনকে প্রোগামিংয়ের চেয়ে দামি কাজ বলবেন? মোটেই না। মার্কেটপ্লেসে সবকাজই সমান দামি, দরকার শুধু আপনার অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়লে কাজের দামও ভালো পাবেন।
টাকার জন্য কাজ করবো এই চিন্তা বাদ দিয়ে কাজটাকে নিজের প্যাশন বানিয়ে ফেলুন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনার সফলতা অনিবার্য। দেখবেন কাজ আপনার জন্য সহজ হয়ে গেছে। আপনি অনেক ভালো কাজ করতে পারছেন। তখন আপনাকে আর টাকার খোঁজ করতে হবে না। টাকাই আপনাকে খুঁজে নেবে।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.