নিখোঁজ কয়লা ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার:ধৃত দুই



   জয়ন্ত সাহা, আসানসোল :১০ দিন পরে নিখোঁজ কয়লা ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হল বীরভূমের দুবরাজপুর থানা এলাকার শাল নদীর জলের ভেতর থেকে। মৃত ব্যবসায়ীর নাম সফিকুল ইসলাম(৪৯), মুর্শিদাবাদ জেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। জামুড়িয়া থানার পুলিশ ও দুবরাজপুর থানার পুলিশ যৌথ ভাবে ওই মৃতদেহ উদ্ধার করে।

জানা গেছে ,মুর্শিদাবাদ জেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা সফিকুল বিভিন্ন জায়গায় ইট ভাঁটায় কয়লা সরবরাহ করার ব্যবসা করত। গত ২২ নভেম্বর ব্যবসার কাজে ১২ লক্ষ টাকা নিয়ে জামুড়িয়ার উদ্যেশ্যে আসে বলে জানা গেছে। ওইদিন আখলপুর গ্রামের কাল্টু খানের বাড়িতে রাত কাটায় সফিকুল বলে দাবি তার স্ত্রী সামিনার। এর পর থেকেই সফিকুলের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

২৩ তারিখ সামিনা  মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডাইরি করেন। ২৬ তারিখে সামিনা কাল্টু ও তার স্ত্রী সহ তিনজনের নামে অপহরণের অভিযোগ এনে দ্বারস্থ হয় মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে। অভিযোগ জানানো হয় জামুড়িয়া থানাতেও। অভিযোগ পেয়ে জামুড়িয়া থানার পুলিশ তদন্তে নেমে আখলপুর গ্রামের বাসিন্দা কাল্টু খান ও তার স্ত্রীকে আটক করে টানা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশের টানা জেরায় সফিকুলকে খুন করার পর দেহ লোপাটের কথা স্বীকার করে ওই দম্পতি। ধৃতরা জানিয়েছে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কেটে ফেলা হয় সফিকুলের। এরপর দেহটি কাঁথা কম্বলে জড়িয়ে ভাঙা পিলারের সাথে বেঁধে ফেলে দেওয়া হয় শাল নদীর জলে। জামুড়িয়া থানার পুলিশ ধৃতদের সঙ্গে নিয়ে আজ ভোরে দুবরাজপুর থানার পুলিশের সাথে সফিকুলের দেহ উদ্ধার করে। ময়না তদন্তের জন্য দেহটি সিউড়ি জেলা হাসপাতালে পাঠান হয়।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান টাকা পয়সার লেন দেনের কারনেই এই খুন। তবে এই খুনের পিছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতদের আজ আসানসোল আদালতে তোলা হয়। পুলিশ ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেপাজতের আর্জি জানিয়েছেন বিচারকের কাছে।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.