সরকারি সহযোগিতায় ঘরে ফিরল ১৩৮ জন বাঙালি শ্রমিক



 মালদাঃ  সরকারি সহযোগিতায় ১৩৮ জন বাঙালি শ্রমিক বাড়ি ফিরল  মঙ্গলবার । জম্মু কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়ার পর কারফিউয়ের সময় থেকে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল বাঙালি শ্রমিকরা । গত শনিবার বারামুল্লার বিভিন্ন জায়গা থেকে যারা বাড়ি ফিরতে ইচ্ছুক ১৩৮ জন শ্রমিককে সেনাক্যাম্পে আনা হয় । সেনা ক্যাম্প থেকে তাদের শ্রীনগরের সেনার হেড কটারে নিয়ে আসা হয় বাসে করে । শ্রীনগর রেল স্টেশন হতে ট্রেনের স্পেশাল দুটি বগিতে করে তাদের কলকাতায় নিয়ে আসা হয় সোমবার বিকাল ৫ টায় । সোমবার বিকাল বেলায় ১৩৮ জন বাঙালি শ্রমিককে তুলে দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের হাতে । সোমবার রাতেই রাজ্য সরকার বিশেষ বাসে করে তাদের নিজের নিজের এলাকায় নিয়ে গিয়ে লোকাল প্রশাসনের হাতে তুলে দেই শ্রমিকদের । জানা যায় এসব শ্রমিকরা সেখানে আতঙ্কিত হয়ে সেনা ক্যাম্পে গিয়ে নিজ নিজ বাড়ি আসার জন্য আবেদন করে তারপরেই সেনারা তাদের বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে ।

সোমবারই রাত দুটোর সময় কালিয়াচক থানার আইসির হাতে তুলে দেওয়া হয় কালিয়াচক ১ ব্লকের কালিয়াচক ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের করারি চাঁদপুরের লুৎফুর শেখ (৬২)কে । মঙ্গলবার সকালেই তার বাড়ি পৌঁছে যান  কালিয়াচক ১ বিডিও সন্দীপ ঘোষ ।

লুৎফুর রহমান জানান , লোকাল এলাকায় কোন কাজ না থাকায় আমাদেরকে প্রায় প্রতিবছরই কাশ্মীরে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করতে হয় । তিনি আরো বলেন ৩৭০ ধারা উঠার পর কাশ্মীরে কারফিউ চলছিল তখন থেকে সেখানে সপ্তাহে একদিন দুদিন করে কাজ হতো । কিন্তু সবসময় গন্ডগোল লেগে থাকায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম সবশেষে লোকাল সেনাদেরকে বলায় তারা বাড়ি ফিরে আনার ব্যবস্থা পরে ।

লুৎফুর রহমানের স্ত্রী রেহানা বিবি বলেন , কাশ্মীরে মুর্শিদাবাদের শ্রমিক হত্যার ঘটনা জানার পর আমরা সপরিবারে আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম । খাওয়া-দাওয়া সব বন্ধ হয়ে গেছিল আমাদের । স্বামী বাড়ি এসেছে এরপরে আমরা যে ভাবেই চলি তাকে আর কাশ্মীরে কাজ করার জন্য পাঠাবো না ।

কালিয়াচক ১ বিডিও সন্দীপ  ঘোষ বলেন , কাল সন্ধ্যাবেলায় জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে আমাকে খবর দেওয়া হয় যে কালিয়াচকের একজন শ্রমিককে কাশ্মীর থেকে আনা হয়েছে তাকে তার বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য । রাত্রে 2:30 নাগাদ আইসি সাহেব নিজে তাকে রিসিভ করে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যান । আজকে সকালে আমি এসে তার সমস্ত কথাবার্তা শুনে যা বুঝলাম আমাদের এখানে কাজে রোজগার কম হাওয়ার জন্য তারা ওখানে কাজে যাই । আমি চেষ্টা করছি যেকোনোভাবে তাদের রোজগার বাড়িয়ে কাশ্মীরের না গিয়ে এলাকায় কাজের সংস্থান করার  ।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.