দাম্পত্যে প্রেম ফিরিয়ে আনার কৌশল


অধিকাংশ মানুষের অভিযোগ থাকে বিয়ের কয়েক বছর যেতে না যেতেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে নাকি আর আগের মতো ভালোবাসা দেখা যায় না। তবে এর পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। আমাদের জীবনে নানা ধরণের কর্ম ব্যাস্ততা থাকে, এটাই সবাভাবিক। কিন্তু এই সব কর্ম ব্যস্ততার ফলে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে দুরত্য সৃষ্টি হওয়া ঠিক নয়।
দেথা যায় অফিসের জন্য তাড়াহুড়া, ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠানো, বাজার করা ইত্যাদি নানান কারণে সংসারজীবনে প্রেম-ভালোবাসা চাপা পড়ে যায়।
তবে আপনি কি জানেন একটু চর্চা করলেই আবার এই প্রেম ফিরে পাওয়া সম্ভব। কারণ সবকিছুর মতো ভালোবাসার জন্যও চর্চা করতে হয়। আর চর্চা ছাড়া কোনো সম্পর্কই টেকসই হয় না।
তাই একে অপরকে অভিযোগ না করে প্রেমের চর্চা করা শুরু করুন। আর সংসারে হারিয়ে যাওয়া প্রেম ফিরিয়ে আনুন।কোনো কারণ ছাড়াই আনন্দ উদযাপন: সংসারে পুরুষরা চায় তাকে যেন সব কাজে রাখা হয়। ফলে সাংসারিক কাজে তাদের সংযুক্ত করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাইকোথেরাপিস্ট এবং ‘দ্য পাথওয়ে টু লাভ’ বইয়ের লেখক জুলি অর্লভ বলেন, যখনি কোনো পুরুষকে প্রয়োজনীয় ভাবা হয় এবং সম্মান দেওয়া হয়, তখনই সে খুশি হয়।
তিনি বলেন, এরজন্য বেশি কিছু দরকার নেই। যেমন: স্বামীর কয়েকজন কাছের মানুষ যেমন বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত করে বুঝিয়ে দিন সে আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য ১০ কোর্সের রান্নার দরকার নেই। এক-দুইটি পদের রান্নাই যথেষ্ট। স্বামীকে নিয়ে তার প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে ভালোবাসার সম্পর্ক আবার জাগিয়ে তোলা সম্ভব।
‘ডেইট’ করুন, বাধ্যবাধকতা নয়: স্বামীকে চমকিত করার জন্য এমন কিছু করুন যেন মনে হয় তাকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে। যেমন: সন্তানকে স্কুল থেকে নিয়ে আসার পরিবর্তে বরং তাকে বলা যেতে পারে, ‘স্কুল থেকে সন্তানকে বাসায় পৌঁছে যেন দুপুরের খাবার খেয়ে যায়।’
অথবা, স্বামীকে নিয়ে তার পছন্দের সিনেমা দেখতে যাওয়া যেতে পারে। অথবা এমন কোনো জায়গায় একসঙ্গে যান যেখানে স্বামী যেতে পছন্দ করে। পাশাপাশি স্বামীর আনন্দগুলোও উপভোগ করুন। সবসময় শ্বশুরবাড়িই যে মধুর হাঁড়ি হবে তা কিন্তু নয়।
পছন্দের জিনিস মেরামত করুন: স্বামী প্রতিদিন একজোড়া জুতাই ব্যবহার করছেন। এমনকি সেই জুতার তলাও হয়ত ক্ষয়ে গিয়েছে। তাই বলে এমন নয় যে, তার আর জুতা নেই। আসলে তার জুতাটা পছন্দ আর পরতেও আরাম।
এরকম পরিস্থিতিতে তার জুতাটা বরং আপনি স্ত্রী হয়ে মুচির কাছ থেকে মেরামত করে নিয়ে আসুন। একইরকম কাজ স্ত্রীর জন্য স্বামীরও করতে পারেন। প্রিয় জিনিসগুলো মেরামত করে দেওয়ার অর্থ হল, আপনি তার পছন্দ আর আরামের গুরুত্ব দিচ্ছেন।
হঠাৎ ছুটি: সংসারে হাঁপিয়ে উঠলে অনেক সময় দুজনকেই ছুটি নিতে হয়। এক্ষেত্রে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা চিন্তা করতে পারেন, তবে সেটা হতে পারে একটি চমক। কোথাও বেড়ানোর আয়োজন করে সঙ্গীকে চমকে দেওয়ার মধ্যেও সম্পর্ক উন্নতি ঘটে।
স্বামীকে আড্ডায় যেতে দিন: ছেলেরা বরাবরই আড্ডা দিতে পছন্দ করে। তাই অন্তত সময় করে স্বামীকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিন।
আড্ডা দেয়ার মানে এই নয় যে, তারা কোনো বাজে কাজে ব্যস্ত থাকবে। বন্ধুদের নির্মল আড্ডার পর আপনার স্বামীকে টাটকা ও সতেজ হিসেবে ফেরত পাবেন, আর সেটার কৃতিত্ব স্ত্রী হিসেবে আপনারই।
আকর্ষণীয় টেক্সট বা ছবি: সারাদিনে বিভিন্ন কাজের মাঝে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা খুব কমই হয়। এক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে ম্যাসেজ বা নিজের কোনো দুষ্টু ছবি আদান প্রদান করে সম্পর্কে চটুলতা বজায় রাখা যেতে পারে।
শখের বিষয়গুলো: বিয়ের আগে যেসব শখ আনন্দ দিত। বিয়ের পর হয়ত অনেকদিন সেসব শখ পূরণ করা হয়নি। এবার সময় এসেছে সেগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করার।
শারীরিক সম্পর্কে নতুনত্ব: বেশিরভাগ স্ত্রী বাসার নিরাপদ পরিবেশেই স্বামীর সঙ্গে সহবাস করেন। এটা স্ত্রীর জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও, বেশিভাগ ক্ষেত্রেই এই সম্পর্কে নীরসভাব চলে আসে।
তাই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিজ অ্যান্ড ফ্যামিলি থেরাপিস্ট ক্যারিন গোল্ডস্টেইন পরামর্শ দেন, এই পরিস্থিতিতে ‘স্বস্তিদায়ক পরিবেশ’ থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
স্বামীর করণীয়:
বিশেষ দিনে উপহার দিন:
ভালোবাসা দিবস, জন্মদিন, বিবাহ/প্রেম বার্ষিকী, প্রথমবার দেখা হওয়ার দিন কিংবা অন্যদিনের মত যে কোনো সাধারণ আপনার স্ত্রীকে উপহার দিয়ে তার মুখে হাসি ফোটাতে পারেন।
পেছন থেকে জড়িয়ে ধরুন:
নারীরা সাধারণত পেছন থেকে জড়িয়ে ধরা খুবই পছন্দ করে। আপনার স্ত্রী হয়তো রান্নাঘরে কাজ করছে আপনি সেই সময়ে হঠাৎ করেই গিয়ে আপনার স্ত্রীকে পেছন থেকে আলিঙ্গন করতে পারেন। আপনার এই ভালোবাসা প্রকাশের ধরণটাতে স্ত্রী অবশ্যই মুগ্ধ হয়ে যাবেন এবং আপনার প্রতি তার ভালোবাসা আরো বেশি বেড়ে যেতে পারে।
সব সময়ে হাসিখুশি থাকুন:
মনকে পজিটিভ রাখুন। তবেই সংসারে সুখ-শান্তি থাকবে। অফিস থেকে ফিরে হাসিমুখে বাড়িতে প্রবেশ করুন। আপনাকে হাসিখুশি দেখে আপনার স্ত্রীর মন উচ্ছ্বাসিত হবে।
হাঁটার সময় হাতটা ধরুন:
দুজন হাঁটছেন কোনো ভীড়ের রাস্তা দিয়ে। অনেক মানুষ, গরম, গাড়ি, জ্যামে অতিষ্ট হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা। এসময়ে হুট করেই প্রিয়তমার হাতটা ধরে ফেলুন শক্ত করে। ভীড়ের মাঝেও আপনি তার সাথেই আছেন সেটা তাকে জানিয়ে দিন। এতে সে আপনাকে অনেক বেশি দায়িত্ববান ভাববে এবং তার মনে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি হবে।
ঘুমানোর সময়ও হাতটা ধরে রাখুন:
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়েও একে অপরের স্পর্শে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। স্ত্রীর হাতটি ধরে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। এতে দুজনের মধ্যে ভালোবাসা আরো গভীর হবে। সেই সঙ্গে আপনার স্ত্রী আপনাকে আরো অনেক বেশি ভালোবাসবে।
ছোট্ট ব্যাপারেও ধন্যবাদ জানিয়ে দিন:
আপনার স্ত্রী প্রতিদিনই আপনার সংসার সামলাচ্ছে, আপনার যত্ন নিচ্ছে, আপনার পিতামাতার যত্ন নিচ্ছে। কিংবা আপনার প্রেমিকা আপনার খোঁজ রাখছেন, আপনার পছন্দের মূল্য দিচ্ছেন, আপনাকে খুশি রাখার সব রকম চেষ্টাই করছেন তিনি সারাদিন। আপনি কি তাকে কখনো ধন্যবাদ জানিয়েছেন? আপনি যদি ভেবে থাকেন যে এগুলো তার দায়িত্ব তাহলে আপনি ভুল করছেন। তার ছোট ছোট চেষ্টা ও কাজের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে দিন। তাহলে সে সম্পর্কের প্রতি আরো উৎসাহী হবে আপনার আপনার প্রতি তার মুগ্ধতা আরো বেড়ে যাবে।
প্রশংসা করুন:
আপনার স্ত্রী প্রতিনিয়ত নানা কাজ করে আপনাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করে। তার এ সকল কাজের জন্য তার প্রশংসা করুন। এতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং সম্পর্ক সুখের হবে।
কাজে সাহায্য করুন:
ঘরের কাজ কি শুধু আপনার স্ত্রী একাই করবে? প্রতিদিনই ঘরের কাজে আপনার স্ত্রীকে একটু হলেও সাহায্য করার চেষ্টা করুন। তাহলে আপনার প্রতি আপনার স্ত্রীর ভালোবাসা, মুগ্ধতা ও শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি পাবে।
ছোট্ট চিরকুট লিখুন:
বাড়ি থেকে অফিস যাবার সময় ছোট্ট একটি চিরকুটে ভালোবাসার কথা জানিয়ে দিন। এমন স্থানে চিরকুটটি রাখুন যেন হঠাৎ দেখে চমকে যায় সে।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.