পুরুষ পেঁচারা ভালোবাসা পেতে যা করে


শুধু কি মানুষরাই প্রেমে পড়ে? পশুপাখিদের মধ্যে কি প্রেম ভালোবাসা নেই? কিন্তু পেঁচা জুটির এই চুম্বন দৃশ্য দেখলে আর কারো মনে এই প্রশ্ন আসবে না। এই দারুণ ছবি দুটো তোলা হয়েছে তাডোবা ন্যাশনাল পার্ক থেকে। এই উদ্যানটিতে রয়েছে ১৯৫টি বিরল প্রজাতির পশুপাখি। এদের মধ্যে শ্লথ বিয়ার, হায়েনা, শেয়াল, বন্য কুকুর, পেঁচা ও প্রজাপতি অন্যতম।
তো সেই উদ্যানটিতে দীর্ঘ এক সপ্তাহ কাটান এক ফটোগ্রাফার। এসময় তিনি একদিন একটি গাছের ডালে পেঁচা দুটিকে দেখতে পান। তারা তখন নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময়ে ব্যস্ত ছিল। নিজেদের ছোট্ট মাথা দিয়ে একজন আরেকজনকে আস্তে আস্তে আদর করছিলো। এসময় আবেগে তাদের চোখ বন্ধ হয়ে আসে। দৃশ্যটি দেখেই থেমে যান তিনি।
৩৪ বছরের ওই ফটেগ্রাফার বলেন,‘আমি যখন পেঁচাগুলিকে ঘনিষ্ঠভাবে বসে থাকতে দেখলাম, তখনই আমি আশা করছিলাম অন্তত আরো কিছুক্ষণ তারা এভাবেই পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে থাকবে। তাই আমিও ক্যামেরা নিয়ে রেডি হয়ে রইলাম। তারা আরো কাছে আসতেই শাটার টিপে দিলাম। পেঁচাদের ভালোবাসার প্রকাশ আসলেই খুব মিষ্টি। কেমন আদুরে আদুরে ভাব!’
সঙ্গমের মরশুমে পুরুষ পেঁচারা নানাভাবে নারী পেঁচাদের সান্নিধ্য পাওয়ার চেষ্ট করে। তারা সঙ্গিনীদের জন্য খাবার খুঁজে আনে। শুধু কি তাই, অন্য কোনো পুরুষ পেঁচা এসে যাতে নিজের সঙ্গীটিকে ভুলিয়ে ভলিয়ে নিয়ে যেতে না পারে সেদিকেও প্রখর দৃষ্টি রাখতে হয় পুরুষ পেঁচাটির। তাহলে বুঝলেন তো, ভালোবাসার জন্য মানুষদের চেয়েও কম কষ্ট করতে হয় না পেঁচাদের।
ছাই রংয়া জমিন সাদা ফুটকি তোলা বিরল এই পেঁচাদের চোখ সোনালি হলুদ। ফলে তারা দিনেও শিকার করতে পারে। এই বিরল পেঁচা দক্ষিণ এশিয়ার ইরান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাওয়া যায়।


Loading...

No comments

Powered by Blogger.