১লা নভেম্বর বাঙালির ঐতিহাসিক দিন কেন ? ?



 ১লা নভেম্বর বাঙালির ঐতিহাসিক দিন কেন ? ?

আগামীকাল ১লা নভেম্বর। বাংলা ও বাঙালির এক ঐতিহাসিক দিন।  কেন ঐতিহাসিক? ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত মানভূমে সংগঠিত বাংলা ভাষা আন্দোলন ও তার ফলশ্রুতিতে ১ লা নভেম্বর তারিখে পুরলিয়া জেলা পশ্চিম বাংলায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
১৯৪৭ সালে বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানভূম বিহারের অন্তর্ভুক্ত হয়। যেভাবে পূর্ব বাংলার বাঙালিদের উপরে উর্দু চাপিয়েছিল পাকিস্তান, ঠিক সেইভাবেই ১৯৪৮ থেকে মানভূমের বাঙালিদের উপরে নেমে আসে হিন্দি আগ্রাসনের কালো ছায়া।
 একের পরে এক বাংলা স্কুল পরিণত হল হিন্দি স্কুলে। পোস্ট অফিস-সহ সমস্ত সরকারি দফতরে হিন্দি বাধ্যতামূলক করা হল। ফরমান আসে, আদালতের সওয়াল-জবাব, চিঠিপত্র, জমির দলিল সব হবে হিন্দিতে।  এর বিরুদ্ধেই মানভূমের ভাষা আন্দোলন। প্রাইমারী স্কুলে হিন্দি বাধ্যতামূলক হয়। হিন্দিকে মানভূমের অফিসিয়াল বা দাপ্তরিক ভাষা ঘোষণা করা হয়। সর্বত্র হিন্দি সাইনবোর্ড বাধ্যতামূলক করা হয়, সব জেলা স্কুলে বাংলা বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মানভূমের ভূমিপুত্র বাঙালিদের সরকারি পরিষেবা পেতে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট (স্থানীয় বাসিন্দা হবার প্রমাণ) দেখানো বাধ্যতামূলক হয়, সমস্ত সরকারি স্কুল-কলেজ-দপ্তরে হিন্দি চাপানো চলতে থাকে। বাংলা স্কুলে, বাঙালির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।
অতুল চন্দ্র ঘোষ, ভজহরি মাহাতো, লাবণ্যপ্রভা ঘোষ প্রমুখের নেতৃত্বাধীন লোকসেবক সংঘ  সর্বস্তরের বাঙালিকে নিয়ে শুরু করে প্রবল গণআন্দোলন। আন্দোলনকারীদের ওপর নেমে আসে অসহনীয় পুলিশি নিপীড়ন। শিশুরাও বাদ যায় না এই অত্যাচারের হাত থেকে। মিথ্যা ঘোষণায় সত্যাগ্রহীদের। এসময়ে তৈরি হয় "শুন বিহারী ভাই/তোরা রাখতে লারবি/ডাং দিখাই" (শোনো বিহারী ভাই/তোমরা আমাদের বিহারে রাখতে পারবে না/আমরা তোমাদের লাঠি দেখাই), "বাংলা ভাষা প্রাণের ভাষা রে" ইত্যাদি বিখ্যাত সব কিছু গান। দীর্ঘ এই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে ১৯৫৬ সালের ১লা নভেম্বর মানভূম ভেঙে জন্ম নেয় পশ্চিম বাংলার অন্তর্ভুক্ত পুরুলিয়া জেলা।
বাঙালি জাতির এই পবিত্র দিনটি যাতে বাংলার প্রতিটি কোণার প্রতিটি বাঙালির স্মরণে থাকে তার জন্য ভারতের বাঙালির জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষর পুরলিয়া জেলা শাখা আগামীকাল সকাল ১০ টায় পুরুলিয়া শহর থেকে ৪০ কিমি. দূরে রঘুনাথপুর বাসস্ট্যান্ডে "পুরুলিয়া বঙ্গভুক্তি দিবস" তথা "পশ্চিমবঙ্গ ভাষা দিবস" পালন করতে চলেছে। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত মানভূমের বাঙালি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের যে কদর্য রূপ প্রত্যক্ষ করেছিল, ২০১৯ এর মাটিতে দাঁড়িয়ে তার কদর্যতা বেড়েছে বহুগুণে। ১ লা নভেম্বরের পুণ্য লগ্নে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালির প্রতিটি ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের করাল গ্রাস থেকে তাকে রক্ষা করার শপথ নেবে বাংলা পক্ষ।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.