ভালোবাসা এমনও হয়


স্বামীর ক্যানসার একদম চরম পর্যায়ে। যন্ত্রণা এতটাই বেশি যে তিনি আর বাঁচতে চান না। ওদিকে স্ত্রী তাকে ছাড়া পৃথিবীতে থাকতে নারাজ। শেষ পর্যন্ত দুজন বেছে নিলেন আত্মহত্যার পথ। স্বামী ঠিকই পরপারে গেলেও চিকিৎসকদের কারণে স্ত্রীর যাওয়া হয়নি।
মাভিস এবং ডেনিস একলস্টনের ভালোবাসার এমন নজির ব্রিটেনে আলোচনার ঝড় তুলেছে। দেশটির একটি আইনও নিয়ে চলছে সমালোচনা। কারণ ডেনিসের মৃত্যুর জন্য ৮০ বছরের মাভিসকে অভিযুক্ত করে আদালত। ৩০ ঘণ্টা আটকও থাকতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত তিন সপ্তাহের ট্রায়াল শেষে মুক্তি পান।
ওই দম্পতির মেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বাবা-মায়ের ‘শেষ’ ছবি শেয়ার করে আইন পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। তিনি জানান, ডেনিসের মৃত্যুর ২০ মিনিট আগে হাসপাতালে বসে ছবিটি তোলা হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রো জানিয়েছে, ৮১ বছর বয়সী ডেনিস এবং তার স্ত্রী ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মদের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খান। বিষ খাওয়ার আগে একটি চিঠি লিখে যান তারা।
মাভিস বিষ খেয়ে স্বামীর কপালে চুমু খান। ‘গুড নাইট ডার্লিং’ বলে সোফার ওপরে শুয়ে পড়েন। যাওয়ার আগে স্বামীকে ঢেকে যান কাপড় দিয়ে।
হান্টিংটনের বাড়িতে দুজনকে এই অবস্থায় দেখতে পেয়ে তার ছেলেমেয়েরা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দুজনকে পাশাপাশি বিছানায় রেখে ছবি তোলা হয়। এর ২০ মিনিট পরেই ডেনিস মারা যান।
মাভিস বেঁচে গেলে পরদিন তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময়ও তিনি হাসপাতালের পোশাক পরা ছিলেন।
চলতি বছরের ১ এপ্রিল দম্পতির ছেলেমেয়েরা জানান, তার মাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে মাভিস আদালতকে বলেন, ‘আমার স্বামী ২০১৫ সালে আমাকে আত্মহত্যার সিদ্ধান্তের কথা জানান। তখন আমি বলি, তোমাকে ছাড়া আমার বাঁচা সম্ভব নয়।’
‘ওর সঙ্গে আমার কতশত স্মৃতি কত গল্প। মনে হয়েছে, স্বামীকে ছাড়া আমার আর কোনো অর্থ নেই। যা করেছি তার জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই। বরং বেঁচে যাওয়ায় নিজের ওপর ঘৃণা হচ্ছে!’
মাভিসের মেয়ে ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘বাবা কষ্ট কমাতে নিজে মৃত্যুবরণ করেছেন। মা-ও একই পথে যেতে চেয়েছেন। এখানে কেন তাকে আদালতে যেতে হবে। এই আইন পরিবর্তন করা উচিত।’

Loading...

No comments

Powered by Blogger.