গুরুনানকের ইতিহাস!




আজ থেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে পাঞ্জাবে এক হিন্দু পরিবারে জন্মেছিলেন গুরু নানক। ওনার অনেক হিন্দু ও মুসলিম বন্ধু ছিলো। তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাইতেন তার মুসলমান  বন্ধুদের কাছে। এক সময় তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন মুসলিম বিশ্ব ভ্রমনের। সেই সময়ের অনেক আগে থেকেই মক্কা অমুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ ছিলো। তিনি তাই তার মুসলমান বন্ধুদের নিয়ে ১৫১৯ সালে হাজীর ছদ্মবেশে মক্কায় গেলেন।মক্কায় গিয়ে তিনি শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ওনার পা ছিলো কবরের দিকে। তা দেখে একজন বললো আপনি আল্লাহর ঘরের দিকে পা দিয়ে রেখেছেন। পা  সরান। নানক বললেন, ভাই আমি খুব ক্লান্ত। আপনিই সরিয়ে দিন আমার পা সেদিকে যেদিকে আল্লাহর কোনো ঘর নেই !১৫শ শতকে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে অনেক দাঙ্গা হাঙ্গামা হতো। গুরু নানক চাইলেন হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি করতে। ওনার মুসলমান শিষ্যদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলো সুফী। উনি ওনার সুফী মুসলমান বন্ধু ও হিন্দু কিছু বন্ধুদের সাথে নিয়ে লিখলেন এক গ্রন্থ 'গুরু গ্রান্থ সাহিব' যা শিখদের প্রধান গ্রন্থ। সুফীবাদের প্রতি ওনার খুবই আগ্রহ ছিলো কিন্তু তিনি ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হননি।  
শিখ গ্রন্থে লেখা একবার গুরু নানককে কোথায়ও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। ওনার পরিবার বেশ চিন্তায় ছিলো। অনেক দিন পরে তিনি ফিরে এলেন। তখন তাকে এক লোক জিজ্ঞেস করলো আপনি এতদিন কোথায় ছিলেন। উত্তরে তিনি বললেন কই, আমিতো কোথায়ও যাই নি। আমি এখানেই ছিলাম। আমি ঈশ্বরের সাথে ছিলাম। আমাকে অনেক কাজ করতে হবে। 
তখন ঐ লোক বললো, কার জন্যে এত কাজ করবেন? হিন্দুদের জন্যে নাকি মুসলমানদের জন্যে?
নানক বললো, মানুষের জন্যে। হিন্দু ও মুসলমান বলে কেউ নেই। আছে মানুষ। ঈশ্বরের চোখে সবাই মানুষ। তাঁর কাছে কে হিন্দু আর কে মুসলমান এটা বিবেচ্য না।
গুরু নানক শিখ গ্রন্থে লিখেছেন , 'তিনি হিন্দু না , তিনি মুসলমানও না'। 'কেউই হিন্দু না, কেউই মুসলমান না।' আরো লিখেছেন 'মুসলমানদের আল্লাহ ও হিন্দুদের রাম দুই নামই এক ঈশ্বরের নাম।'
তিনি অনেকবার কোরআনের কথা এনেছেন ওনার গ্রন্থে। উনি হিন্দুদের উচু-নিচু জাত প্রথা, মূর্তিপূজার তীব্র বিরোধী ছিলেন।  
তিনি ওনার গ্রন্থে লিখেছেন তিনি রমজানে রোজা রাখেন না কিন্তু তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যিনি এই দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ মুসলমানদের প্রতিও ন্যায় বিচার করেন, হিন্দুদের প্রতিও ন্যায় বিচার করেন। তিনি আরো লিখেছেন তিনি হিন্দুদের মতো পূজাও করেন না, আবার মসজিদে গিয়ে নামাজও পড়েন না। তিনি শুধু ওনার নিরাকার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেন। ওনার পুরো জীবন আল্লাহর জন্যে নিবেদিত আবার ওনার পুরো জীবন রামের জন্যেও নিবেদিত। তিনি আরো অনেক কিছু লিখেছেন হিন্দু ও মুসলমানদের নিয়ে।  

আহমেদিয়া জামাত সম্প্রদায় মনে করে গুরু নানক আসলে মুসলমান ছিলেন। আহমেদিয়ারা নানকের নাম নেয়ার সময় হযরত বাবা নানক (রাঃ) বলে। মূলধারার ইসলামে কেউ কেউ মনে করেন নানক আসলে সুফী ছিলেন।

নানক আসলে কি ছিলেন সেটাই এক রহস্য। তিনি মুসলমানও ছিলেন না, হিন্দুও ছিলেন না কিন্তু তিনি আল্লাহতে বিশ্বাস করতেন। রামেও বিশ্বাস করতেন।

Loading...

No comments

Powered by Blogger.