১২ বছরে একবার ফোটে যে ফুল


প্রতি বছর প্রায় সব গাছই একবার ফুলের ভারে রঙিন হয়ে ওঠে। কিন্তু এমন একটি ফুল রয়েছে যার নীলচে-বেগুনি শোভা দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হয় টানা ১২ বছর। বিশ্বে বিরলতম এ ফুলের নাম ‘নীলকুরিঞ্জি’। এটি প্রধানত ফোটে কেরালা রাজ্যের পাহাড়ি এলাকায়। এক যুগ পর এই বছর পাপড়ি মেলেছে নীল এই ফুল। এনিয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে কুরুঞ্জিমালা অভয়ারণ্য।  
আমাদের দেশে  নীলকুরিঞ্জির ৫৯ প্রজাতির ফুল পাওয়া যায়। এ বর্গের বেশির ভাগ ফুলই ফোটে বৈচিত্র্যময় সময়ের ব্যবধানে- চার থেকে শুরু করে আট, ১০, ১২ বা ১৬ বছরে। তবে এর কোনোটিই তেমন দৃশ্যমান হয় না। একমাত্র নীলকুরিঞ্জিই নয়নকাড়া বর্ণচ্ছটায় চারপাশ ভরিয়ে তোলে। তাই পুষ্পপ্রেমী ও আলোকচিত্রীদের যত মাতামাতি এটি নিয়ে। 
মৌসুমের শুরুতে নীলকুরিঞ্জি নীলের চাদরে ঢেকে দেয় বিস্তৃত পাহাড়চূড়া। শেষদিকে এটি বেগুনি রঙ ধারণ করে। আগস্টে ফোটা শুরু করে অক্টোবর পর্যন্ত এটি প্রকৃতিতে রঙ ছড়ায়। 
একবার নীলকুরিঞ্জি ফুল দেখতে পারা জীবনের পরম সৌভাগ্য বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা তার ভাষ্য, ‘১২ বছর পরে আমি এই অঞ্চলে নাও থাকতে পারি। পেশা বা বিয়ের কারণে বদলে যেতে পারে ঠিকানা। আবার আমার মৃত্যুও হতে পারে।’
নীলকুরিঞ্জি প্রস্ফুটনে সময় বৈচিত্র্যের কারণ- যে কোনো গুল্মই ফুল ফোটার পর মারা যায়। তারপর নতুন বীজ গজাতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু পুষ্পবহুল নীলকুরিঞ্জি গাছ বেঁচে থাকতে পারে ১২ বছর পর্যন্ত। এ সময়ে বহু বীজ গজায়, অঙ্কুরোদগম শেষে দীর্ঘ সময়ে এগুলো মাথা তোলে।
দুর্লভ এ ফুল নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসের শেষ নেই। এ নিয়ে রয়েছে বেশকিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন।  বিশ্বাস করা হয়, নীলকুরিঞ্জি প্রেম ও রোমাঞ্চের প্রতীক।




Loading...

No comments

Powered by Blogger.