বুলবুলের দাপটে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তির্ণ এলাকা



মৃন্ময় নস্কর, দঃ২৪ পরগনা:   বুলবুলের দাপটে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ও পাথরপ্রতিমা বিধানসভার বিস্তীর্ণ এলাকা।শনিবার বুলবুলের ধাক্কায়  দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপ ও  পাথরপ্রতিমায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোনও জীবনহানির ঘটনা না ঘটলেও হাজার-হাজার মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে এবং খুঁটি উপড়ে পড়ে। ফলে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত ওই দুই বিধানসভার সমস্ত এলাকা। হেক্টরের পর হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ধানের জমি ও পানবরজ প্রচুর পরিমাণে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সাগর বিধানসভার বিধায়ক ও পাথরপ্রতিমা বিধায়ক, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা এবং সরকারি কর্তাব্যক্তিরা ওই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রবিবার সকালে ঘুরে দেখেন।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের দাপট ছিল মূলত: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর এবং পাথরপ্রতিমা এলাকায়। সাগরে বুলবুল আছড়ে পড়ে প্রতি ঘন্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিবেগে। পাথরপ্রতিমার জি-প্লট গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় এই ঘূর্ণিঝড়ের দাপট ছিল ভয়ঙ্কর।
সাগর ব্লকের রুদ্রনগর, ধবলাট ও গঙ্গাসাগর এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নামখানা ব্লকের মৌসুনি, বকখালির ফ্রেজারগঞ্জ ও নামখানা এলাকায়। রুদ্রনগর, গঙ্গাসাগর, মৌসুনি ও ফ্রেজারগঞ্জ এলাকায় দশ হাজারেরও বেশী মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে। বহু জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে সম্পূর্ণ এলাকা এখনও বিদ্যুৎহীন। হেক্টরের পর হেক্টর ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে ধানের জমি ও পানবরজ। প্রচুর বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে এই সমস্ত এলাকায়। সাগরের বিধায়ক বঙ্কিম হাজরা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত সাগর ও নামখানা ব্লকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সাগরের ঘোড়ামারাতে এই ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপক প্রভাব পড়ার যে আশঙ্কা করা হয়েছিল তা ততটা পড়েনি। কারণ ঘোড়ামারা থেকে ২৩০০ জন মানুষকে সরিয়ে আশ্রয় শিবিরে আগেভাগেই নিয়ে আসা হয়েছিল। ঘোড়ামারাতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের দাপট ছিল প্রতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের কাছাকাছি। বিধায়ক জানান, সাউঘেরির কাছে নদীর জল পাড় ভেঙে গ্রামে ঢুকে পড়ে। তবে তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সাধারণ মানুষকে ধবলাট ও চেমাগুড়ির আশ্রয় শিবিরে সরিয়ে নিয়ে আনা হয়। বুলবুলের দাপট পাথরপ্রতিমার জি-প্লটের বেশ কিছু জায়গায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। জি-প্লট গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবর্ধনপুর, ইন্দ্রপুর, দাসপুর, কৃষ্ণদাসপুর, সীতারামপুর ও দক্ষিণ সুরেন্দ্রগঞ্জ এলাকায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এই সমস্ত এলাকায় প্রায় চার হাজার মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে বিঘার পর বিঘা ধানের জমি ও অন্যান্য ফসলের। বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়ে প্রচুর বড় বড় গাছ। তবে কোনও জীবনহানির ঘটনা ঘটেনি। পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর জানা জানান, ওই সমস্ত এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙে গ্রামে ঢোকার কোনও ঘটনা না ঘটলেও সীতারামপুর ঘাট থেকে ছ'শো মিটার দক্ষিনে, ব্রজবল্লভপুর, শ্রীধরনগর, গোপালনগর, রামগঙ্গা ও লক্ষ্মীজনার্দনপুর এলাকায় বেশ কিছু জায়গায় নদী বাঁধের অবস্থা বিপজ্জনক হওয়ায় ওই এলাকাগুলিতে জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের জন্য সেচদফতরকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে।
সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি জানান, বুলবুলের ধ্বংসলীলা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে প্রায় আড়াইশো জন পুলিশ কর্মী এবং বারোশো সিভিক ভলান্টিয়ার সাগর, নামখানা, বকখালি, জি-প্লট, পাথরপ্রতিমা ও ফ্রেজারগঞ্জ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল। তদারকিতে ছিলেন পুলিশ জেলার সমস্ত পুলিশ আধিকারিকরাই। এনডিআরএফ-এর ছ'টি দল এবং এসডিআরএফ-এর একটি দল ওই সমস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্যোগের হাত থেকে উদ্ধার করতে মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সুপার জানান, এলাকাগুলি থেকে প্রায় পঁচাত্তর হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে হয়। দুর্যোগ সম্পূর্ণ না কাটা পর্যন্ত এবং আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষজনের ঘরে না ফেরা পর্যন্ত পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দলের প্রতিনিধিদের এলাকায় মোতায়েন রাখা হবে।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.