জিনি স্বর্ণমানব উপাধি পেয়েছেন


স্বর্ণালঙ্কারের প্রতি আকর্ষণ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। বিশেষত নারীদের বেলায় এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রায় সব নারীই নিজেকে স্বর্ণালঙ্কার দিয়ে সাজাতে ভালোবাসেন। সচরাচর পুরুষের মধ্যে স্বর্ণালঙ্কারের প্রতি খুব বেশি আকর্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু এই রীতিকে একেবারেই উল্টে দিয়েছেন ভিয়েতনামের ট্র্যান নুক পুক। স্বর্ণ ও গহনা ব্যবহারে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন নারীকেও। বর্তমানে ট্র্যান সর্বমোট ১৩ কেজি সোনার অলঙ্কার ব্যবহার করেন। আর এই পরিমাণ সোনা ব্যবহারের ফলে ট্র্যান স্বর্ণমানব উপাধি পেয়েছেন।
ছত্রিশ বছর বয়সি ট্র্যানের বসবাস ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে। পেশায় তিনি তেল ব্যবসায়ী। পাঁচ বছর আগে একবার জ্যোতিষীর কাছে গিয়েছেন। ওই জ্যোতিষী তাকে বলেছিলেন তিনি যদি সোনার অলঙ্কার ব্যবহার করেন তবে তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে। মূলত তখন থেকেই তার স্বর্ণালঙ্কার ব্যবহার শুরু।
তবে জ্যোতিষী তাকে এত বেশি সোনার অলঙ্কার পরতে বলেননি। ট্র্যান নিজেই মনে করেন, যত বেশি অলঙ্কার পরবেন তত তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে। এমন ভাবনা থেকেই পাঁচ কেজি ওজনের সোনার চেইন, পাঁচ কেজি ওজনের একটি ব্রেসলেট এবং প্রতিটি পাঁচশত গ্রাম ওজনের দশটি আংটি পরা শুরু করেন তিনি। সব মিলিয়ে তার অলঙ্কারের ওজন এখন তেরো কেজি। 
ট্র্যানের বিশ্বাস এই স্বর্ণ ব্যবহারের ফলে তার ব্যবসায়ে গতি এসেছে। জ্যোতিষির কথা অনুযায়ী তিনি ভালো ফল পেয়েছেন। আর এই ফলাফল যেন আরো ভালো হয় সে কারনেই তিনি স্বর্ণের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ট্র্যান যেখানেই যান এই অলঙ্কার পরেন। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন এতো বেশি গহনা ব্যবহার করা কী নিরাপদ? এই বিষয়টি নিয়ে ট্র্যান নিজেও চিন্তিত ছিল। আর তাই নিজের নিরাপত্তার জন্য নিযুক্ত করেছেন দেহরক্ষী। এইসব অলঙ্কার পাহারা দেওয়াই তাদের কাজ। ফলে দেহরক্ষী বেষ্টিত হয়ে ১৩ কেজি স্বর্ণবহনকারী ট্র্যান ঘুড়ে বেড়ান সব জায়গায়।
ট্র্যানের এমন কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অবাক হয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন কীভাবে একজন মানুষ এত বেশি সোনার অলঙ্কার পরে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন। আবার কেউ কেউ একে নকল গহনা বলে অবিহিত করেছেন। ঘটনা যাই হোক না কেন, ১৩ কেজি স্বর্ণালঙ্কার ব্যবহার করে ট্র্র্যান ঠিকই নিজেকে নিয়ে এসেছেন আলোচনায়।

Loading...

No comments

Powered by Blogger.