খ্রিষ্টিয় ১২০০ শতাব্দীর ঐতিহাসিক কল্যাণেশ্বরী মা




 জয়ন্ত সাহা, আসানসোল:কার্তিক মাসের অমাবস্যায় মা কল্যাণীর পুজোতে নৈবেদ্য আসে কাশীপুরের রাজবাড়ি থেকে ৷ মাইথন জলাধার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্বে বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমান্তে অবস্থিত কল্যাণেশ্বরী মন্দির ৷ রাত শেষ হলেই ভূত চতুর্দশী ও কার্তিক মাসের অমাবস্যার কালী পুজো ৷ পুজোকে কেন্দ্র করে মন্দিরে চলছে সাজো সাজো রব ৷ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত দিলীপ দেওঘরিয়া জানিয়েছেন , সারাবছর মায়ের সন্ধ্যা আরতির পরে মা'কে শয়নে পাঠিয়ে মন্দিরের দরোজা বন্ধ করে দেওয়া হয় ৷ তবে কার্তিক মাসের অমাবস্যায় কালী পুজোর রাতে শুধু মাত্র পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই বহু ভক্তের সমাগম ঘটে মন্দির প্রাঙ্গনে ৷ তাছাড়া মা'য়ের পুজো করা হয় ষোড়শোপচারে নিশিকাল পর্যন্ত ৷ তারপর বলির পর্ব শেষে মন্দিরের দরোজা বন্ধ করা হয় ৷ তাই বিশেষ নিরাপত্তার বেষ্টনীতে মুড়ে ফেলা হয় মন্দির প্রাঙ্গনকে ৷ আপাত দৃষ্টিতে মন্দিরের গর্ভগৃহে মায়ের বিশেষ কোনো মূর্তি চোখে পড়েনা   ৷ এক বৃহৎ আকারের পাথরকেই মাতৃরূপে পূজা করা হয় ৷ তবে প্রধান পুরোহিত জানিয়েছেন ওই বৃহৎ পাথরের একপাশে একটি গর্ত রয়েছে ৷ যেখানে মাটির প্রায় তিরিশ ফুট গভীরে মায়ের অষ্টধাতুর মূর্তি বিরাজ করছে ৷ ভক্তেরা গর্তে হাত রেখে প্রণাম করলেই দেবী প্রসন্ন হন ৷ কথিত আছে খ্রিষ্টিয় ১২০০ শতাব্দীতে সেনগড়ের শ্যামারূপা দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে কাপালিক দেবনাথ চট্টোপাধ্যায় পঞ্চকোট রাজার দিঘারী মৌজার স্বপ্নপুরে এনে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করেন ৷ পরবর্তী ক্ষেত্রে যা কুলটির শ্রবণপুর এলাকা বলে খ্যাত ৷ স্বপ্নপুর এলাকাটি অতীতে সম্পূর্ণরূপেই জঙ্গলে ঢাকা ছিলো ৷ সেখানেই মায়ের সাধনা শুরু করেছিলেন কাপালিক দেবনাথ চট্টোপাধ্যায় ৷ শোনা যায় কাপালিকের নির্দেশেই শ্রবণপুরে দেবীর মন্দির নির্মাণ করে দিয়েছিলেন রাজা বল্লাল সেন ৷ অন্যদিকে স্বপ্নপুরের দেবীকেই কুলদেবী হিসাবে পুজো করতেন পঞ্চকোটের রাজ পরিবার ৷ সেই সময় রাজ পরিবারের আবাস ছিল কুলটির চিনাকুড়ি অঞ্চলে ৷ পরবর্তী ক্ষেত্রে রাজপরিবার পঞ্চকোটে ও তারও পরে পুরুলিয়ার কাশীপুরে আবাস গড়ে তোলে ৷ অন্যদিকে শ্রবণপুরে জনকোলাহলে  অতিষ্ঠ হয়ে দেবী কল্যাণেশ্বরীর কাছে গভীর গর্তে আশ্রয় গ্রহণ করেন ৷ পরে ওই স্থানেই দেবীর আরাধনা শুরু করা হয় ৷ দিলীপ দেওঘরিয়া আরও জানিয়েছেন অতীতে মায়ের মন্দিরে নরবলি দেওয়ারও চল ছিলো ৷ তবে বর্তমানে কার্তিক মাসের অমাবস্যায় দেবীর পুজোর বিশেষ রীতি অনুসারে নৈবেদ্য আসে কাশীপুরের রাজ পরিবার থেকেই ৷ দেবীর পুজোর প্রথম সংকল্প হয় রাজার নামেই ৷ পুজোর দিনে দেবীর শাঁখা আসে দামোদরের শাঁখারি পরিবার থেকে ৷
Loading...

No comments

Powered by Blogger.