সমুদ্রের জলে তলিয়ে যাবে কলকাতা


বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন ক্রমশ ভয়ংকর দিকে মোড় নিচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের সতর্কবাণী করছেন। এর অন্যতম কারণ বিশ্বের উষ্ণায়ন দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  এ কারণে মানবজাতি একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে, এমন আশঙ্কাও কেউ কেউ করেছেন।  

এরই মধ্যে জাতিসংঘ চমকে দেয়ার মতো এক প্রতিবেদন বুধবার প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বের অন্তত ৪৫টি শহর সঙ্কট জোনে রয়েছে বলে জানিয়েছে। অর্থাৎ বরফ গলার জেরে এরা সমুদ্র সংলগ্ন অঞ্চলে থাকায় জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 
আর সেই ৪৫টির মধ্যে  কলকাতাসহ চারটি শহর রয়েছে। এগুলো হলো- কলকাতা, মুম্বাই, সুরাত ও চেন্নাই। ওই রিপোর্ট বলা হয়েছে, দ্রুত গতিতে হিমালয়ের বরফ গলার কারণেই এই শহরগুলো বিপদসীমায় রয়েছে। এর আগে সমুদ্রের জল খুব দ্রুত গতিতে বাড়েনি। 
জাতিসংঘের ওই রিপোর্ট বলছে, জলের স্তর বৃদ্ধির জেরে এই শতাব্দীর শেষে ১৪০ কোটি মানুষের ওপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে। জাতিসংঘের ওই রিপোর্ট বলছে, যদি সমুদ্রের জল ৫০ সেন্টিমিটার করেও বাড়ে, তাহলেই ওই ৪৫টি শহর ভেসে যাবে। আগে ১০০ বছরে একবার সমুদ্রের জলের স্তর বাড়তে দেখা যেত। কয়েক বছর পর থেকে প্রত্যেক বছর একটু একটু করে পানির স্তর বাড়তে থাকবে।
সতর্ক করে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে সামুদ্রিক প্রাণীদের মৃত্যু বাড়তে থাকবে। আর ধ্বংসাত্মক সাইক্লোনের পরিমাণও বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সতর্ক না হলে জলের স্তর ৬০ থেকে ১১০ সেন্টিমিটার বেড়ে যাবে। জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি বছর ৩.৬ মিলিমিটার করে বাড়ছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ২১০০ সালের মধ্যে ৩.৫ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। এছাড়া বিষাক্ত গ্যাসের নিগর্মন কমলে জীবন বাঁচানো সম্ভব হলেও জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে কলকাতাকে এর আগেও সতর্ক করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এমন সতর্কবার্তাই দেয়া হয়েছিল। উল্লেখ করা হয়েছিল, যদি বিশ্বের তাপমাত্রা আর ৪ ডিগ্রি বাড়ে, তাহলে ভারতের উপকূলবর্তী এলাকার প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ পানিতে ভেসে যাবে। 
এতে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যার অর্ধেক সমুদ্রের জলে তলিয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছিল। কলকাতা, হাওড়া, মুম্বাইয়ের মতো শহরগুলো ভারতের মধ্যে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.