মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য





জাতির স্বাধীনতার জন্য সবটুকুই করেছেন তিনি। কথা হচ্ছে, মহান ঐতিহাসিক নেতা, যিনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। নিশ্চয়ই ধরতে পেরেছেন কার কথা বলা হচ্ছে। পুরো নাম মহনদাস করমচান্দ গান্ধী হলেও মহাত্মা গান্ধী হিসেবেই বেশি পরিচিত। দেশ এবং দেশের জনগনের জন্য সঁপে দিয়েছিলেন নিজেকে। নতুন প্রজন্মের পথপ্রদর্শক এই মহান নেতাকে অনেকেই বাপু (বাবা) বলে সম্বোধন করেন। শুধুমাত্র একটি দেশের মানুষের জন্যই নয়, তার মহানুভবতা, দেশের জন্য ভালোবাসা এবং ত্যাগ তিতীক্ষা প্রত্যেক মানুষের জন্যই অনুকরণীয়। তাকে আমরা জানি কমবেশি সবাই। কিন্তু আজ আপনাদের জন্য নিয়ে হাজির হলাম মহান নেতা মহাত্মা গান্ধীর কিছু অজানা তথ্য নিয়ে।
মহাত্মা গান্ধীকে নির্ভীক সাহসী মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে তিনি অত্যন্ত লাজুক এবং ভিতু প্রকৃতির ছিলেন। তিনি এতটাই লাজুক ছিলেন যে বিদ্যালয়ের সহপাঠীদের কারো সাথেই কথাতো বলতেন না এবং প্রায়ই স্কুল থেকে পালিয়ে বেড়াতেন খুদে গান্ধী।
মহাত্মা গান্ধীর উদারতার কথা আমরা সবাই জানি, কিন্তু এই ঘটনাটি কজন জানেন দেখুন তো। একবার ট্রেনে ওঠার সময় মহাত্মা গান্ধীর একটি পায়ের জুতো পড়ে যায় তখনই সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি জুতো তিনি ছুঁড়ে মারেন পড়ে যাওয়া জুতোর কাছাকাছি, যাতে খুব সহজেই কেউ জুতো জোড়া পেয়ে যান।
১৯৩০ সালে আমেরিকার নামকরা টাইম ম্যাগাজিন দ্বারা ‘ম্যান অব দ্যা ইয়ার’র খেতাব অর্জন করেন।
সাউথ আফ্রিকায় কর্মরত অবস্থায় মহাত্মা গান্ধী সেইসময় ১৫ হাজার ডলার আয় করতেন। যা ছিল তখনকার সময় ভারতীয়দের কাছে একটি অবিশ্বাস্য ব্যাপার।
খুব অল্প খরচে খেয়ে সুস্থ-সবল থাকার উপায় স্বরূপ ফলমূল এবং ছাগলের দুধ খাওয়ার অভ্যাস করেন তিনি।
মাতৃভাষার প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে নিজের জিবনীটি পুরোপুরি গুজরাটি ভাষায় লিখ ফেলেন তিনি। যা পরবর্তীতে তার সহকারি ইংরেজীতে অনুবাদ করেন।
ছবি তোলায় ভীষণ অনাগ্রহ ছিল গান্ধীর। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, সেই সময়ে তিনি একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যার ছবি বেশি তোলা হয়েছিলো।
সবথেকে মজার এবং অজানা তথ্যটি হল, শুক্রবার যীশুখ্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়, শুক্রবার মহাত্মা গান্ধী জন্মগ্রহণ করেন, এই বারটিতেই ভারত তার স্বাধীনতা অর্জন করে, এবং এই বারটিতেই মহাত্মা গান্ধীকে খুন করা হয়।
স্কুল পালানো মহাত্মা গান্ধীর হাতের লেখা অত্যন্ত বাজে ছিল যা তার মাথা ব্যাথার অন্যতম কারণও ছিল বটে।
মহাত্মা গান্ধীর খুব বাজে স্বভাব গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল অন্যকে দিয়ে নিজের শরীর ম্যাসেজ করানোর। এবং এই অভ্যাসটির কারণে বেশ কয়েকবার বিব্রতকর অবস্থায় পড়তেও হয় তাকে।
হিটলারের সাথে বেশ ভালো বন্ধুত্ব ছিল ভারতের মহাত্মা গান্ধীর। হিটলারের সাথে প্রাই চিঠির আদান প্রদান করে থাকতেন তিনি।
অহিংসার প্রতীক মহাত্মা গান্ধী কখনো যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারে! এমন ধারণা আমাদের সবারই আছে তবে আপনি জানলে অবাক হবেন এই মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একজন সার্জেন্ট মেজর ছিলেন এবং যুদ্ধ কালীন দায়িত্ব পালনের জন্য পুরস্কৃত হন তিনি।
জিউসদের (ইহুদী) প্রতি গান্ধীর সেই ভয়ংকর উপদেশ, “গন আত্মহত্যায় অংশগ্রহণ কর।” এবং হিটলারের প্রতি গান্ধী, “আপনার সাহস বা জন্মভূমির প্রতি আপনার নিষ্ঠা সম্পর্কে আমার কোন সন্দেহ নেই, এমনকি আমরা আপনাকে বিরোধীদের দ্বারা বর্ণিত দৈত্য একথায় বিশ্বাস করি না।”
Loading...

No comments

Powered by Blogger.