প্রেমের ক্ষেত্রে যে ৭টি ব্যাপার "গোপন" করাই বুদ্ধিমানের কাজ!



ভালোবাসার মানুষটিকে নিজের সব কথাই বলে দিয়েছেন? নাকি এখনো কিছু কথা বলা বাকি আছে? যদি নিজের কিছু গোপনীয় কথা এখনো না বলে থাকেন, তাহলে আমরা বলবো যে সেগুলো নিজের মাঝে রাখাটাই আপনার জন্য ভালো হবে! ভাবছেন, ভালোবাসার মানুষটির সাথেও কি এখন থেকে মেপে কথা বলতে হবে? সত্যটা হচ্ছে- হ্যাঁ, হবে। সম্পর্ক যদি টিকিয়ে রাখতে চান, তাহলে কিছু রহস্য রেখে দিন নিজের কাছেই। কেননা এমন কিছু কথা আছে যেগুলো মন খুলে বলতে গেলে পরে বিপাকে পড়বেন আপনি নিজেই।
ভালোবাসার সম্পর্কটি পুরোপুরিই বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। দুটি মানুষ একে অপরকে বিশ্বাস করে মন দেয়া-নেয়ার মাধ্যমেই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু ভালোবাসার মানুষটিকে নিজের সব ব্যক্তিগত কথা বলে দিয়ে সম্পর্ক নিয়ে অনেকেই বিপদে পড়ে থাকেন। কেউ কেউ বিশ্বাসের সুযোগের অপব্যবহার করে। আবার কেউ কেউ দূর্বল বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তীতে মানসিক আঘাত করে। আর তাই ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু রহস্য উন্মোচন না করাই ভালো।
আসুন জেনে নেয়া যাক ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেই ৬টি বিষয় যা অবশ্যই গোপন রাখা উচিত।
প্রাক্তন প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে ঘনিষ্টতা
আপনার পুরোনো প্রেম থাকতেই পারে। পুরোনো প্রেমের বিষয়টি হয়তো আপনার প্রেমিক/প্রেমিকা জানেও। কিন্তু তাই বলে পুরোনো প্রেমের সম্পর্কে আপনারা কতটুকু ঘনিষ্ট ছিলেন সেই কথা বর্তমান মানুষটিতে শোনাতে যাবেন না। বর্তমান প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে প্রাক্তন প্রেমের নানা দিক আলোচনা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে আপনার জন্য। কারণ আপনি হয়তো সরল মনে সব কথা আপনার ভালোবাসার মানুষটিকে বলেছেন, কিন্তু সে বিষয়টিকে সহজ ভাবে নাও নিতে পারে। তার হয়তো খারাপ লাগতে পারে, ঈর্ষা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সম্পর্কে জটিলতা দেখা দেবে অবশ্যই।পুরাতন প্রেমিক/প্রেমিকার গুণ
আপনার প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা যত উদার মনেরই হোক না কেন, আপনার পুরনো প্রেমিক/প্রেমিকার গুনকীর্তন তার পছন্দ হবে না কোনোমতেই আর এটা খুবই স্বাভাবিক। আপনার পুরানো প্রেমিকের চোখ খুব সুন্দর ছিলো কিংবা প্রাক্তন প্রেমিকার হাতের রান্না অনেক মজার ছিলো, মোট কথা প্রাক্তন মানুষটির কী কী আপনি পছন্দ করতেন সেগুলো বর্তমান সম্পর্কের ক্ষেত্রে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

নিজের পরিবারের দূর্নাম
আপনার পরিবারের অনেক দূর্বলতা থাকতে পারে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব কিংবা দূরত্ব থাকতে পারে। আবার এমনো হতে পারে আপনার বাবা আর মায়ের মধ্যে সম্পর্ক ভালো না।

এসব বিষয়গুলো আপনার প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার সাথে আলোচনা না করাই আপনাদের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক। পারিবারিক বিষয়গুলোকে পরিবারের মধ্যেই রাখুন। কারণ এই প্রেমিক বা প্রেমিকাই যে আপনার ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী এমন কোনো নিশ্চয়তা কিন্তু নেই।নিজের দূর্বলতা প্রকাশ
আপনি হয়তো আপনার প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার প্রতি অতিরিক্ত দূর্বল হয়ে পড়েছেন। তাকে ছাড়া এক মূহূর্তও আপনার সময় কাটানো মুশকিল। কিংবা তাকে ছাড়া আপনি আপনার জীবন কল্পনা করতে পারেন না। এ ধরণের দূর্বলতা গুলো আপনার প্রেমিক/প্রেমিকার কাছে প্রকাশ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ একবার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ধরনের দূর্বলতা গুলো প্রকাশ করে ফেললে পরবর্তীতে অবহেলার স্বীকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বন্ধুদের গোপন কথা
আপনার বন্ধুরা তাদের বিভিন্ন গোপনীয় ও ব্যক্তিগত কথা হয়তো আপনার সাথে আলোচনা করে। বন্ধুদের একান্ত ব্যক্তিগত ও গোপনীয় বিষয়গুলো প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে ভুলেও আলোচনা করবেন না। এতে আপনি আপনার বন্ধুদের বিশ্বাস হারাবেন। এমনকি আপনার অনেক মূল্যবান বন্ধুত্বও হারিয়ে ফেলতে পারেন। আবার কিছু হলেই প্রেমিক/প্রেমিকা খোঁটা দেবে- "তোমার বন্ধুরা তো ভালো না!"

ফেসবুক/ ইমেইলের পাসওয়ার্ড
আপনার ফেসবুক, স্কাইপে কিংবা ইমেইলের পাসওয়ার্ড আপনার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আপনার ব্যক্তিগত এই সামাজিক সাইটগুলোতে আপনার বন্ধুদের সাথে আপনার বিভিন্ন কথাবার্তা থাকে যা আপনার প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা জানলে সমস্যা হতে পারে কিংবা ভুল বুঝাবুঝি হতে পারে। তাই এই সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাসোয়ার্ড প্রেমিক/প্রেমিকাকে না দেয়ার আপনাদের সম্পর্কের জন্য ভালো।

ব্যক্তিগত কিছু তথ্য
আপনার সঞ্চয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর কিংবা সম্পদের পরিমাণ প্রেমিক/প্রেমিকাকে না জানানোই ভালো। কারন, সম্পদের লোভের বর্শবর্তী হয়ে প্রেমিক/ প্রেমিকাদের প্রতারনার আশ্রয় নেয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.