যুক্তরাষ্ট্র আগে কখনও এমন সংকটে পড়েনি: ট্রাম্প


নিজের অভিশংসনের দাবি জোরালো হয়ে উঠার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এমন সংকটে যুক্তরাষ্ট্র আগে কখনও পড়েনি। টুইটারে দেওয়া এক ভিডিও পোস্টে তিনি এমন দাবি করেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক ফোনালাপের জেরে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ইতোমধ্যেই ট্রাম্পকে অভিশংসনের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই তদন্ত শুরুর পরই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন ট্রাম্প। টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওতে ট্রাম্প বলেন, এটা খুবই সহজ বিষয় যে, তারা আমাকে থামানোর চেষ্টা করছে। কেননা, আমি আপনাদের জন্য লড়াই করছি এবং তাদেরকে আমি এটা  কখনোই হতে দেবো না।
বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে সবকিছু নিয়ে যেতে চায়। তারা আপনাদের বন্দুক কেড়ে নিতে চায়। তারা আপনাদের স্বাস্থ্যসেবা, ভোটাধিকার ও স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে চায়। তারা আপনাদের গণরায় কেড়ে নিতে চায়।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সৌদি রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথোপকথনের অনুলিপি নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে হোয়াইট হাউস।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের থেকে জানা গেছে, ভ্লাদিমির পুতিন এবং সৌদি রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ট্রাম্পের অনেক স্পর্শকাতর বিষয়ে কথোপকথন রয়েছে। ইউক্রেনের নেতার সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় এখন বিষয়টি নিয়ে আগের চেয়ে আরও সজাগ রয়েছে হোয়াইট হাউস। এ সংক্রান্ত নথিগুলো রাখা হয়েছে অতিমাত্রায় সুরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্কে। ফলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কারও এটি দেখার সুযোগ থাকবে না।
সৌদি রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে দেশটির রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালিদ বিন সালমান-এর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ হয়েছিল।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক ফোনালাপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে রীতিমতো চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। ফাঁস হওয়া ওই ফোনকলের অনুলিপিও গোপন করতে চেয়েছিল হোয়াইট হাউস। যদিও শেষ পর্যন্ত তাদের ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
হোয়াইট হাউসের ফোনকলের প্রতিলিপিতে দেখা গেছে, ট্রাম্প গত ২৫ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে জো বাইডেন ও তার ছেলের দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তের জন্য বারবার চাপ দিচ্ছিলেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের এক ফোনালাপের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর ওই বিতর্ক সামনে আসে। ওই ফোনালাপে কী বিষয়ে কথা হয়েছে,  সে বিষয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন যে,  তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত না করলে ইউক্রেনে সামরিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। জো বাইডেন হচ্ছেন ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রধান ডেমোক্র্যাটিক প্রতিদ্বন্দ্বী। তার বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারকে তদন্তের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ২৪ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিনিধি পরিষদের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর কথা বলার পর থেকেই দোষ প্রমাণিত হলে অভিশংসনের খড়গ ঝুলে রয়েছে ট্রাম্পের ওপর। তবে অভিশংসন প্রক্রিয়াকে ‘প্রতারণা’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। 
জেলেনস্কির সঙ্গে জো বাইডেনের বিষয়ে আলোচনার কথা অবশ্য স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, সামরিক সহায়তা বন্ধ করার হুমকি দিয়ে তিনি ইউরোপের কাছ থেকে সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছিলেন। তবে ডেমোক্র্যাট নেতা ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন,  ট্রাম্প যা করেছেন তা বেআইনি। এটি তার সাংবিধানিক দায়িত্বের লঙ্ঘন। এর জন্য তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। জো বাইডেন অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।



Loading...

No comments

Powered by Blogger.