এবার সৌদিতেও টুরিস্ট ভিসা চালু


                         ছবি সৌজন্য : Getty images


               এবার সৌদিতেও টুরিস্ট ভিসা চালু



সম্প্রতি দুটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। প্রথমবারের মতো টুরিস্ট ভিসা চালু করতে যাচ্ছে দেশটি। ফলে যে কেনো ধর্মের মানুষ দেশটিতে ভ্রমণ করার সুযোগ পাবেন। আর সফরকারীর নারীদের ইসলামি পোশাক পরার বাধ্যবাধকতাও থাকবে না বলেও জানা গেছে।
                ছবি সৌজন্য:  veryhungrynomads.com

শুক্রবার সৌদি কমিশন ফর ট্যুরিজম এন্ড ন্যাশনাল হেরিটেজ (এসটিসিএইচ) বিভাগের চেয়ারম্যান আহমদ আল খাতিব এক ঘোষণায় বলেন, ৪৯টি দেশের পর্যটকরা সৌদিতে ভ্রমণের সুযোগ পাবে। আবেদন করার মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যে তারা এক বছরের টুরিস্ট ভিসা পেয়ে যাবেন। সৌদিতে তারা একনাগাড়ে সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকার সুযোগ পাবেন। তবে তারা চাইলে ভিসার মেয়াদ থাকা অবস্থায় একাধিকবার সৌদিতে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। তবে কোন কোন দেশের নাগরিকরা সৌদি পর্যটন ভিসা পাচ্ছেন সেটি জানা যায়নি।

   ছবি সৌজন্য :  lonelyplanet.com                  

আল-খাতিব বলেন, এই পর্যটন ভিসার প্রচার চালানোর জন্য লন্ডন, নিউইয়র্ক এবং দুবাইয়ের বুর্জ খলিফাসহ বিশ্বের ১৪টি রাজধানীতে ভ্রমণ করবে এসটিসিএইচ।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদির তেল স্থাপনায় ভয়াবহ ড্রোন হামলার মাত্র কয়েক দিন পর প্রথমবারে মতো এই ধরনের পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দিলো সৌদি সরকার। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুবরাজ সালমান যে ভিশন-২০৩০ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তার আওতায় এবার বিদেশি ও বিধর্মী পর্যটকদের সৌদি আরব সফরের সুযোগ তৈরি হলো। তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতেই নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে রিয়াদ যার সর্বশেষ নমুনা হচ্ছে এই টুরিস্ট ভিসার ঘোষণা। এর আগে বিদেশিরা অবাধে সৌদি ভ্রমণ করার সুযোগ পেতেন না। বিশেষ করে অমুলিমদের সৌদি ভ্রমণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ছিলো।
                                 ছবি সৌজন্য :  en.wikipedia.org      


এক বিবৃতিতে সৌদি পর্যটন বিভাগের প্রধান আহমেদ আল খাতিব বলেন, ‘বিদেশি পর্যটকদের জন্য সৌদি আরবের দরজ উন্মুক্ত করা আমাদের দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’

তিনি আরো জানান, বিদেশি পর্যটকরা সেখানকার ইউনেস্কো ঘোষিত পাঁচটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটও ঘুরে দেখেতে পারবেন।

এছাড়া এই টুরিস্ট ভিসার আওতায় কোনো মুসলিম নারী চাইলে একজন পুরুষ আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে মক্কায় উমরাহ হজ-ও পালন করতে পারবেন। তার পুরুষ সঙ্গীটিকে মুসলিম ধর্মাবলম্বীই হতে হবে এমন কেনো কথা নেই। কেননা ভিসায় তার ধর্ম উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক নয়। যদিও অমুসলিম পর্যটকদের দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা সফরের অনুমতি দেয়া হবে না।
                        ছবি সৌজন্য saudigazette.com.sa    


খাতিব আরো জানান, সৌদিতে সফররত বিদিশ নারীদের জন্য পোশাকের কঠোর বাধ্যবাধকতাও শিথিল করা হবে। সৌদিতে এখনও কোনো নারী পুরো শরীর ও মাথা না ঢেকে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারেন না। কিন্তু এবার পর্যটন ভিসার কল্যাণে সেই ধর্মীয় গোড়ামি শিথিল হচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে পর্যটন মন্ত্রণালয় জানাচ্ছে, বোরখা না পরলেও বিদিশ নারীদের ‘শালীন পোশাক’পরতে হবে।

গত বছর থেকেই বদলাতে শুরু করেছে সৌদি আরব। সৌদি যুবরাজ সালমান নারীদের গাড়ি চালানো এবং স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখার অনুমতি দিয়েছেন। সেখানে এখন নিয়মিত সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে। হলিউডের রক তারকারা গিয়ে সৌদিতে কনসার্ট করছেন। এখন বাকি কেবল মদ্যপান ও বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া। পর্যটক খাতে আয় বাড়াতে চাইলে তো এধরনের সামাজিক প্রথা থেকে সরে আসতে হবে সৌদি সরকারকে।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.