কলেরগানে বেজে ওঠে আগমনীর সুর



রানিগঞ্জের নিমচা গ্রামে অাজও কলেরগানে বেজে ওঠে আগমনীর সুর ৷ পেশায় ইসিএল কর্মী নিমচার বাসিন্দা জগন্নাথ বাউড়ির বাবা ধর্মদাস বাউড়ি ১৯৬২ সালে প্রথম নিজের শখ পূরণে কিনে ছিলেন কলের গান ৷ সে অনেক আগেকার কথা ৷ বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই হাতল ঘুরিয়ে পছন্দের শিল্পীদের আইপি রেকর্ড বাজানোর অনুভূতিটাই ছিলো সেই যুগে অন্য রকম ৷ বাবার কলের গান শোনার আনন্দ উচ্ছ্বাসটি  চোখে মুখে ফুটে উঠতে দেখেন কৈশোরের জগন্নাথ বাউড়ি ৷ তখন থেকেই বুঝে ছিলেন বাবার অন্যতম প্রিয় জিনিষ ৪৫ আরপিএম গতিতে বাজা গ্রামাফোনটি ৷ তবে ছোটো বেলার স্মৃতি ঘেঁটে জগন্নাথ বাবুর মনে পড়ে মহালয়ার দিন ভোর রাতে নিমচা গ্রামে তাদের বাড়িয়ে বেশ ভালো জনসমাগম হোতো ৷ যার মূল আকর্ষণ বিন্দুতে ছিলো বাবা ধর্মদাস বাউড়ির শখে কেনা গ্রামাফোনটি ৷ মহালয়ার ভোরে ওই গ্রামাফোনের আইপি রেকর্ডে বেজে উঠতো বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মায়ের আগমনী বার্তা ৷ বাবা ধর্মদাস বাউড়ি গত হওয়ার পর পৈত্রিক সূত্রে গ্রামাফোনটি হাতে পেয়েছেন জগন্নাথ বাউড়ি ৷ তাই বাবার স্মৃতি যাতে ম্লান না হয়ে যায় সেই দিকে লক্ষ্য রেখে সাত তাড়াতাড়ি অ্যান্টিক গ্রামাফোনটি ৩৫০ টাকা খরচ করে কোলকাতা থেকে সারিয়ে নিয়ে আসেন ৷ যদিও ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জেমারি পঞ্চায়েতের প্রধান থাকা জগন্নাথ বাবুর এই ধরণের কীর্তি কলাপে নতুন প্রজন্মের সদস্যরা হাসাহাসি করেছিলেন বেজায় ৷ এফ এম , রেডিও টিভি ও স্মার্টফোনের যুগে নতুন করে অ্যান্টিক গ্রামাফোন সারানোর বিষয়টি পরিবারের মধ্যেই যেন একটা খবর হয়ে ওঠে ৷ তবু হাল ছাড়েননি নিমচার বাসিন্দা ষাট উদ্ধ জগন্নাথ বাউড়ি ৷ বছরের অন্যান্য সময় নতুন প্রজন্মের অবহেলার কারণে যন্ত্রটিতে ধূলোর  আস্তরণ পড়লেও , মহালয়ার আগে নিজেই ঝেড়ে পুছে পরিষ্কার করেন যন্ত্রটি ৷ তারপর অপেক্ষার অবসানের মত হাতল ঘুরিয়ে পিতৃপক্ষের শেষে ও দেবীপক্ষের সূচনায় মহালয়ার ভোর রাতে বাজিয়ে চলেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের সুললিত কন্ঠে দেবীর আগমনী বার্তার মন্ত্রোচারণ৷

Loading...

No comments

Powered by Blogger.