‘পহেলা বৈশাখ জাতির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী উদযাপিত হোক'


পহেলা বৈশাখ ঢাকা শহরে আগে উদযাপন করা হতো না৷ গ্রামাঞ্চলে অনেক জায়গায় ছিল, যদিও সেগুলোর ইতিহাস খুঁজে পাওয়া মুশকিল৷ বাংলা সন যখন থেকে শুরু হয়, তখন থেকেই হয়ত গ্রামে কোথাও কোথাও এটা উদযাপন হতো৷ তবে তখন উদযাপনের ধরন ভিন্ন ছিল৷ গ্রামে তখন ছেলে-মেয়েরা খেলনা কিনতো৷ জিলাপি বিক্রি হতো৷ মেলার সঙ্গে কিছু খেলাধূলাও ছিল৷ অনেক জায়গায় জুয়া খেলা হতো৷ ঢাকা শহরে প্রথম পহেলা বৈশাখ শুরু হয় ১৯৬৮ বা ১৯৭০ সাল থেকে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি প্রথম এটা উদযাপন করে৷ তখন ছ'দফার ধারাবাহিকতায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ অত্যন্ত প্রবল ছিল৷ শিক্ষক সমিতির পাশাপাশি ছায়ানটেও প্রায় একই সময়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়৷ তখন মূল কথা ছিল, আমরা পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী নই, আমরা বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী৷ এ কারণে পহেলা বৈশাখে আলোচনাসভা, কোথাও কোথাও গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো৷ দেশ স্বাধীনের পর এটা ভিন্ন রূপ পায়৷ ছায়ানট রমনার বটমূলে অনুষ্ঠান শুরু করে৷ একই সঙ্গে ইলিশ মাছের তরকারি দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়াসহ অনুষ্ঠানগুলো শুরু হয়ে যায়৷দেশ স্বাধীনের আগে ২-৩ বছর ধরে এটা হচ্ছিল৷ এমনকি ৫২ সাল থেকেই এই চেতনা কাজ করছিল৷ পাশাপাশি রমনার বটমূলে যখন অনুষ্ঠান শুরু হলো, তখন এটাতে লোক সমাগম বাড়তে থাকে৷ দেশের মানুষও তখন বাড়ছিলে৷ এটা তখন প্রদর্শনীয় মতো হয়ে গেল৷ বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকে যেটা শুরু হয়েছিল, তখন এটা তেমন কি আর থাকলো? আওয়ামী লীগ ক্ষমতার থেকে যাওয়ার পর জিয়াউর রহমান বা তারপর এরশাদ যখন ক্ষমতায় এলো, তখন পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের উৎসাহ কমে গিয়েছিল৷ তখন আওয়ামী লীগ পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নেয়৷ তারা তখন অনুষ্ঠান করতে থাকে৷ এরপর পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান নিয়ে একটা অংশ বলছে, এটা একামাত্র ধর্মনিরপেক্ষ অনুষ্ঠান৷ আরেকটা অংশ বলছে, পহেলা বৈশাখ যেভাবে উদযাপন হচ্ছে, সেটা ঠিক নয়৷ গ্রামাঞ্চলে যেভাবে হতো, সেভাবে হলেই ঠিক হতো৷ ১৯৮০-র দশকে যখন এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলছে, তখন পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে আওয়ামী লীগ এটাকে সামনে আনতে চাইছিল৷ তখন চারুকলা বিভাগ থেকে মুখোশ পরা, মঙ্গল শোভাযাত্রার অনুষ্ঠান শুরু হয়৷ আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল তো পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে উৎসাহ বোধ করে না৷
Bengali Movie Air Hostess

Loading...

No comments

Powered by Blogger.