বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও নিয়ে বিজেপিকে এক হাত নিলেন নাগমা

রেখা রায়, উত্তর দিনাজপুর : পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে  কত লোক খুন হয়েছে এখানে এবং যার রেশ এখনো চলছে। রক্তপাত আর নয়। যে রক্ত পাত হয়েছে তা বন্ধ করতে হাত চিহ্ন নিয়ে এবার কংগ্রেসের পাশে এসে দাঁড়ান। কারণ দিদি এবং বিজেপির তামাশা এখানে আর চলবে না। এবার জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। চোপড়ার দাসপাড়া হাই স্কুল ময়দানে শুক্রবার দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী শংকর মালাকরের সমর্থনে জনসভায় এসে এমনই বলেন মহিলা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বিশিষ্ট অভিনেত্রী নাগমা। তার বক্তব্যে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট জুড়ে কখনো রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা উঠে আসে। দিদি এবং মোদির ভূমিকা নিয়ে চরমভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দিদি একজন মহিলা হলেও এখানে মহিলাদের অধিকার আদৌ সুরক্ষিত হয়নি। তেমনিভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের বেকারদের কর্মসংস্থান বা চাকরির প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি । তাই এমন সরকারকে বেছে নিন যারা সব সমস্যা থেকে আপনাদেরকে বাঁচাবে। ওই জনসভায় উপস্থিত থেকে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ডি.পি.সিং চৌকিদারকে চোর বলে আখ্যা দিয়ে এ সরকারকে বদলে ফেলার জন্য সকলকে উদ্যোগী হতে বলেন।

অন্যদিকে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের চোপড়াতে কংগ্রেসের ঘাঁটি যে এখনো শক্ত রয়েছে তা বুঝি প্রমাণ করল একটি জনসভা।ওই লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থনে শুক্রবার বিকেলে দাস পাড়া হাই স্কুল ময়দানে অনুষ্ঠিত হলো কংগ্রেসের নির্বাচনী জনসভা। সে জনসভার মুখ্য আকর্ষণ ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নাগমা।  অন্যান্যদের নধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা অলোক চক্রবর্তী, চোপড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি অশোক রায় সহ কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, কংগ্রেসের একসময়ের গড়কে ভেঙে চোপড়ায় পঞ্চায়েত সমিতি, বিধান সভা কিংবা গ্রাম পঞ্চায়েত গুলির অধিকাংশই তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতায় এলে তাদের সঙ্গে কংগ্রেস এবং সিপিএম এর জোটের লাগাতার সংঘর্ষ চলছেই। সম্প্রতি সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অমর সিং রাইয়ের প্রচার করে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এদিন সেখানে তাই কংগ্রেসের পাল্টা সভায় বিরোধীদের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে ওঠেন সমস্ত নেতৃত্ব। সেখানে কংগ্রেসকে নানান সংঘর্ষের পর বাঁচিয়ে রেখেছেন ব্লক সভাপতি অশোক রায়। একসময়ের কংগ্রেস নেতা হামিদুল রহমান বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক। দলের অন্যান্য নেতারাও চলে গেছেন দল  বদল করে অন্যত্র। কিন্তু চ্যালেঞ্জ নিয়ে অশোক রায় হাত চিন্হ নিয়ে থেকে গেছেন সেখানে। অন্তত লক্ষ্মীপুরসহ তিনটি অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেস যে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না তা পরিষ্কার এলাকার বাসিন্দাদের কাছেও। আর তাই ওই এলাকাতেই জনসভা করে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।এই তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত দিতে না পারলে তৃণমূল কংগ্রেসের যে সমস্যা রয়েছে তা কার্যত হেভিওয়েট নেতারা স্বীকারও করে নিয়েছেন। এদিন অভিনেত্রী নাগমার পাশাপাশি হেভিওয়েট নেতৃত্বের  নিয়ে ওই এলাকায় জনসভা ছিল লোকসভা নির্বাচনের মুহূর্তে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ।এমনটাই দাবি কংগ্রেসের।
Bengali Movie Air Hostess

Loading...

No comments

Powered by Blogger.