নষ্ট হয়ে যাওয়া ফুসফুস

                   নষ্ট হয়ে যাওয়া ফুসফুস


বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই একটি সমস্যাসহ কিছু রোগী পেয়ে থাকেন, যাদের ফুসফুস নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি ফুসফুস নষ্ট থাকে, আবার অনেক ক্ষেত্রে দুটি ফুসফুসই নষ্ট হয়ে যায়। তখন রোগী তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগে, যাকে আমরা রেসপেরিটরি ক্রিপল বলে থাকি। বিশ্রামে থাকলে রোগী মোটামুটি ভালো থাকে, তবে একটু পরিশ্রম করলেই প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। শুধু বুক ব্যথা বা কফ-কাশি হওয়ায় চিকিৎসায় এক্স-রে করালে যখন রোগী জানতে পারে তার একটি ফুসফুস নষ্ট তখনই সমস্যা শুরু হয়ে যায়। আর যদি একটি ফুসফুস সম্পূর্ণ নষ্ট এবং আরেকটি ফুসফুস কিছু খারাপ থাকে তাহলে অল্প শ্বাসকষ্ট সব সময়ই লেগে থাকে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী সব ধরনের শ্বাসকষ্টকে হাঁপানি ভেবে হাঁপানির ওষুধ খায়; এমনকি স্টেরয়েড বড়ি পর্যন্ত খেতে থাকে। অনেক সময় বেশিরভাগ রোগীকে দেখছি ইনহেলার ব্যবহার করতে। প্রকৃতপক্ষে সব শ্বাসকষ্টই হাঁপানি নয়। সব ধরনের বক্ষব্যাধিতেই শ্বাসকষ্ট অন্যতম প্রধান উপসর্গ। বহু বছর নিজে নিজে হাঁপানির ওষুধ এমনকি ইনহেলার পর্যন্ত ব্যবহার করে রোগী যখন কোনো উপকার পায় না তখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে আসেন। চিকিৎসক তখন এক্সরে লাংফাংশন পরীক্ষা করে জানতে পারেন রোগী হাঁপানিতে ভুগছেন না বরং তার শ্বাসকষ্টের কারণ হলো নষ্ট হয়ে যাওয়া ফুসফুস। এখন প্রশ্ন আসে, কেন ফুসফুস নষ্ট বা বিপর্যস্ত হয়? এর উত্তর বলতে হয় অনেক ধরনের বক্ষব্যাধিতে একটি বা দুটি ফুসফুসই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এর প্রধান কারণ হলো যক্ষ্মা।
বেশিরভাগ যক্ষ্মা রোগীই ফুসফুসের অনেক ক্ষতি সাধিত হয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে আসেন। যক্ষ্মা সন্দেহ করার সঙ্গে সঙ্গেই যদি চিকিৎসকের কাছে আসে এবং চিকিৎসক যদি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা যেমন-কফ পরীক্ষা, এক্স-রে পরীক্ষা সঙ্গে সঙ্গে করায়, তাহলে যক্ষ্মা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে এবং ফুসফুসও ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। যক্ষ্মা হয়ে ফুসফুস নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করলে যক্ষ্মার জীবাণুগুলো মরে যাবে ঠিকই, কিন্তু ধ্বংসপ্রাপ্ত ফুসফুস তো আর ঠিক হবে না। যক্ষ্মা ছাড়াও ফাঙ্গাসের কারণে বক্ষব্যাধিসহ বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে ফুসফুস নষ্ট হয়ে গেলেও ডেস্ট্রয়েড লাং দেখা দিতে পারে।
ফুসফুসের পর্দায় পুঁজ জমে অথবা ফুসফুসে ফোঁড়া হয়েও ফুসফুস নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এক কথায় অনেক কারণে ফুসফুস বিপর্যস্ত হতে পারে। এখন নষ্ট হয়ে পড়া ফুসফুসের লক্ষণ নিয়ে আলোকপাত করছি। আগেই লিখেছি এ সমস্যা দেখা দিলে বিভিন্ন তীব্রতর শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। কফ-কাশি লেগে থাকে। অনেক সময় কফে জীবাণু সংক্রমিত হয়ে হলুদ হয়ে যায়, তখন জ্বর দেখা দেয়।
রোগীর বুক ব্যথা করে। বুক ব্যথা কম কিংবা বেশি হতে পারে। অনেক সময় রোগীর কফের সঙ্গে রক্ত যায়। রক্তপাত কখনও কখনও প্রলম্বিত হতে পারে। যক্ষ্মা সক্রিয় থাকলে যক্ষ্মার সব ধরনের লক্ষণই দেখা যায়। এ রোগের চিকিৎসা তত সহজ নয়। যদি একটি ফুসফুস নষ্ট হয়ে থাকে এবং অন্য ফুসফুস সম্পূর্ণ ভালো থাকে তখন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফুসফুসকে আমরা ফেলে দেই। কিন্তু যদি উভয় ফুসফুসই আক্রান্ত হয়ে থাকে তখন অস্ত্রোপচারের প্রশ্নই আসে না।
সব সময় রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ, যেমন- কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং বেদনাদায়ক ওষুধ দিতে হয়। শ্বাসকষ্ট দূর করার ওষুধ বা স্টেরয়েড কোনো কাজেই আসে না, বরং অক্সিজেন ব্যবহার করলেই রোগী একটু স্বস্তি খুঁজে পায়। তীব্র শ্বাসকষ্ট এ রোগের কারণে হলেও নেবুলাইজার কাজে আসে না। রোগীকে যতদূর সম্ভব বিশ্রামে রাখতে হবে। তার পুষ্টির জোগান ঠিকমতো দিতে হবে। কারণ শ্বাসকষ্টের জন্য রোগী ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না। ফুসফুস নষ্ট হয়ে গেলে একটি কষ্টকর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দেয়। সুস্থ শরীরের জন্য সুস্থ ফুসফুস প্রয়োজন।
Bengali Movie Air Hostess

Loading...

No comments

Powered by Blogger.