স্মৃতির ভরসা সিগারেট!

                  স্মৃতির ভরসা সিগারেট!


সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা। গুরু শার্লক হোমসের অণুকরন করে গভীরে ভাবতে গেলেই চুরুটের বদলে ঠোঁটে ঝুলিয়ে নিতেন চারমিনার। আদ্যন্ত ফেলুদার ফ্যান ছেলেমেয়ে প্রথম সিগারেট ফস করে জ্বালাতেই চারদিক থেকে দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে এতদিন উঠে এসেছে নানা জুজুর ভয়। তবে সে সব নিয়ে আর দুঃখ করবেন না। খোদ লন্ডনের তাবড় গবেষক-ডাক্তাররা এবার ধুমপায়ীদের পাশে। সিগারেট দূর হটাও শ্লোগানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারা জানাচ্ছেন, দিনে খান কয় সাদা কাঠির অভ্যেস থাকলে স্মৃতি আর মনযোগের দৌড়ে বাকিদের তাক লাগিয়ে দিতে পারেন আপনি।

লন্ডনের কিংস কলেজের গবেষক ঈয়ান স্টোলমান জানাচ্ছেন, “নিকোটিনের কু-প্রভাব নিয়ে আমরা সবাই আলোচনা করি। কিন্তু এর ভালো প্রভাব এড়িয়ে গেলে তো চলবে না। অ্যালজ়াইমার পেশেন্টদের অনেককেই নিকোটিন বেসড ড্রাগস্ দিয়ে আমরা দেখেছি, তারা সুস্থতার দিকে এগোচ্ছেন। এমনকি, এও দেখা গিয়েছে, যারা দিনে তিনটি সিগারেট খান, তাদের স্মৃতি শক্তি এবং মনযোগ অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে, ক্যান্সারের কু-প্রভাব এড়িয়ে নিকোটিনকে ওষুধের মতো ব্যবহারের কথাও ভেবে দেখা যেতে পারে।”

তামাকের মধ্যে বেশ কিছু গুণাবলি আছে, যা বুদ্ধি সজাগ রাখতে সাহায্য করে। গবেষকরা এটাও অস্বীকার করছেন না যে, তামাক সেবন মস্তিষ্কের উর্বরতা তথা ক্রিয়েটিভ কাজেরও উপযোগী। ঠোঁটে সিগারেট দেখলেই, এতদিন যারা জাত গেল রব  তুলতেন, তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র শানিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরাই। পুরোন কবিতা বা কলেজের প্রথম দিন দেখা মেয়েটির নাম মনে করতে শ্বাস টেনে একবুক ধোঁওয়া কতটা উপকারী তা তো ধুমপায়ীরাই জানেন। অথবা, ব্যস্ত শহরের কোলাহল ভুলে অফিসের লগ-শিট মেলাতে এমন বন্ধু আর কি কেঊ আছে? তবে ফতোয়া জারি করার আগে, বিধিমতো সতর্কীকরণটা সেরে ফেলা যাক। ঈয়ান স্টোলমান তার বক্তব্যের শেষাংশে জানাচ্ছেন, “এতো কিছুর পরেও কিন্তু নিকোটিন আর ক্যান্সারের সম্পর্ক ভুললে চলবে না।” যারা ইতিমধ্যেই ফস করে ধরিয়ে ফেলেছেন, তাদের বলি, তিষ্ঠ। বুদ্ধির বলিহারি দেখাতে গিয়ে অযথা কর্কটের জ্বালা নিয়ে বেঁচে থেকেই বা কি লাভ? তার চেয়ে রইলেন না হয় একটু বোকা-ভুলো। খারাপ স্বাস্থ্য নিয়ে বুদ্ধিমান হওয়ার মধ্যে কোনো ফজিলত নেই। কাজেই সিগারেট থেকে দূরে আছেন, দূরেই থাকুন, অনেক দূরে।
Bengali Movie Air Hostess

Loading...

No comments

Powered by Blogger.