দক্ষিণ দিনাজপুরের মাদাম তুঁসো কুন্তল!!



বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট : যন্ত্র আর কৃত্তিমতা যখন সমগ্র মানব সমাজ ও শিল্পশৈলীকে ধ্বংস করছে তখন বালুরঘাট শহরে দিনাজপুর তথা বাংলার এক আদি শিল্পরীতি শোলাশিল্প কে বাঁচিয়ে রেখেছেন কুন্তল মালাকার। বৃত্তিনির্ভর সমাজ বিভাজনে মালাকার সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষরা বংশপরম্পরায় শোলা দিয়ে নানারকম মুকুট, প্রতিমার অলংকার, শোলার ফুল, মুখা ইত্যাদি বানাতেন। বর্তমান সময়ে প্লাস্টিক দ্রব্যের ব্যবহার ও শোলার অভাবের জন্য এই প্রজন্মের বহু মালাকার তাদের জাতিগত পেশা ছেড়ে অন্য কাজের সাথে যুক্ত হচ্ছেন।


 ফলে হারিয়ে যাচ্ছে এই শোলা শিল্পশৈলী। দিনাজপুর জেলায় করঞ্জী, ও হরিরামপুর এলাকায় কিছু মালাকার সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রে এই কাজ করেন। কিন্তু বেশিরভাগই মুখোশ তারা ডাইসের মাধ্যমে বানান। একমাত্র কুন্তল মালাকারই সেই শোলাশিল্পী যিনি বিনা ডাইসে শুধুমমাত্র হাত দিয়ে সম্পূর্ণ শোলা দিয়ে প্রতিমা,মুখোশ,মুকুট থেকে আরম্ভ করে মডেল, পশুপাখি সব তৈরী করেন। এছাড়াও তিনি প্রায় ১৪৭০০ সাপ এপর্যন্ত উদ্ধার করে বনদপ্তরের হাতে হস্তগত করেছেন। নিদারুণ অভাবে চলা এই শিল্পীর দিন কাটে পুরসভায় অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করে। আজ যখন এই জেলায় ডাইসে তৈরী শোলার বিভিন্ন সামগ্রী দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ও ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে তখন কুন্তলবাবুকে প্রাণপাত পরিশ্রম করে একটি মূর্তি বিক্রি করতে হচ্ছে দিনমজুরের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে!  অভাবের সংসারে ধুকতে থাকা এই শিল্পীর জন্য সরকারী, বেসরকারি স্তরে সাহায্য না আসলে বাংলার এই দেশজ, প্রাচীন শোলাশিল্পের সাথে সাথে এই শিল্পীও ধীরেধীরে মৃত্যুমুখে পতিত হবেন
Bengali Movie Air Hostess

Loading...

No comments

Powered by Blogger.