নবদ্বীপের একাধিক মন্দিরে চুরি !গ্রেফতার ভুয়ো সন্ন্যাসী





রাজা সেখ, নদীয়া:নবদ্বীপে একাধিক মন্দিরে চুরির ঘটনায় ভুয়ো সন্ন্যাসী কে গ্রেফতার করে পুলিশ। কথায় বলে চোরের দশ দিন তো গৃহস্থ্যের একদিন।

পুলিশ জানায়, ধৃত যুবকের আসল নাম সুকান্ত মজুমদার ওরফে ভোলা। বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল থানার সতীশ সেন নগর এলাকায়। সে নাম ভাঁড়িয়ে কখনও সনাতন দাস আবার কখনও দেবানন্দ দাস পরিচয় দিয়ে সন্ন্যাসী ভেক ধরে মন্দির গুলিতে  প্রবেশ করতো । সেই সব মন্দিরে কোথাও সাইকেল চুরি তো আবার কোথাও দামী স্মার্ট ফোন। আবার কোনও কোনও মন্দিরে রাখা নগদ টাকা থেকে সোনার অলঙ্কার। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে মন্দিরগুলিতে স্মার্ট ফোন থেকে কয়েক লক্ষ টাকা চুরি করলেও সন্ন্যাসী রূপে থাকা চোর বাবা জীবন কে ধরা যায়নি। চুরির পর প্রতিটি মন্দির কতৃপক্ষ পুলিশে অভিযোগ জানালেও তার কোনও কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানতে পারা যায়, রবিবার সকালে হঠাতই নবদ্বীপের অন্যতম জল মন্দিরে ওই গুণধর চোর বাবাজি কে দেখতে পায়, চুরি যাওয়া মন্দিরের এক ভক্ত। জানা যায়, ওই ভক্ত তাকে দেখে চিনতে পেরে তার নাম ধরে ডাক দেয়। ডাক শুনে চোর বাবাজি দ্রুত সেখান থেকে সরে পরে বলে জানায় সে। পরে পৌরসভার পীরতলা অঞ্চলে রাধা মোহন কুঞ্জ নামক মন্দিরের ওই ভক্ত  প্রধান গৌরদাস বাবাজি কে বিষয়টি জানালে, তিনি সরাসরি জল মন্দিরে খোঁজ চালাতে যান। জলমন্দির কতৃপক্ষ কে  চুরি ও চোরের নাম সহ তার বিবরণ দিলে, মন্দির কতৃপক্ষ তাকে জানায়, এমন নামে এখানে কেউ না থাকলেও, দেবানন্দ দাস নামে একজন নতুন এসেছেন। নামে না মিললেও ছবির সঙ্গে খানিকটা মিলেও যায়। সঙ্গে সঙ্গে নবদ্বীপ থানায় অভিযোগ জানান গৌরদাস বাবাজি। অভিযোগ পেয়ে থানার পুলিশ দুপুরেই ওই মন্দিরে হানা দেয়। এবং ঐ মন্দিরের একটি ঘর থেকে হাতে নাতে ধরে নাম ভাঁড়ান  সাধুবেশী চোর বাবাজীবন কে। পরে তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই মন্দিরগুলিতে চুরির কথা স্বীকার করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সনাতন দাস ওরফে দেবনন্দের কাছ থেকে একটি দামি স্মার্ট ফোন ও কিছু সোনার জিনিস উদ্ধার করা হয়। নবদ্বীপের প্রাণ কেন্দ্র পোড়ামা তলায় মহানাম মঠের এক সন্ন্যাসী জানান, গত ৯ জানুয়ারি আমাদের মঠে এসে একটি দামী স্মার্ট ফোন ও কয়েক হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয় এই চোর বাবাজি। চটিরমাঠের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের মঠাধক্ষ্য নরোত্তম দাস বাবাজি বলেন, কয়েক মাস আগে আমার মন্দিরে যায় সনাতন ওরফে দেবানন্দ ওরফে ভোলা। সেখানে কিছুদিন থাকার পর একদিন হঠাতই দেখি সনাতন নেই। আমার ঘরে একটি ব্যাগে রাখা সত্তর হাজার টাকাও গায়েব। তারপর তাকে হন্যে হয়ে খুঁজেও তার কোনও সন্ধান পায়নি আমরা। ওই যুবকের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করি। ওই পর্যন্তই, চুরি যাওয়া টাকা আজও ফিরে পায়নি। নরোত্তম দাস বাবাজি বলেন, ভক্তদের কাছে চেয়ে চিন্তে মন্দির চালাই। ভক্তদের দেওয়া দানেই মন্দিরে থাকা প্রভুর সেবা চলে। উল্লেখ্ থাকে যে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছর জানুয়ারি পর্যন্ত নবদ্বীপ শহরে বেশ কয়েকটি মন্দির সহ  কিছু বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির মতো ঘটনা ঘটে। প্রত্যেকটি চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করাও হয়। অভিযোগ, পেয়ে যথারীতি তদন্তও শুরু করে স্থানীয় থানার পুলিশ। তদন্ত চললেও আজ পর্যন্ত কোনও চুরির কিনারা কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। সেদিক থেকে লক্ষ্য করলে সন্ন্যাসীর ভেকধারী চোর কে গ্রেপ্তার করে, কিছুটা হলেও মুখ রক্ষা করল বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Bengali Movie Air Hostess

Loading...

No comments

Powered by Blogger.