মূক বধির শিল্পী টুলটুলি পালের অনস্বীকার্য অবদান





জয়ন্ত সাহা, আসানসোল :জন্ম থেকেই মূক ও বধির শিল্পী টুলটুলি পাল(৩২) । অাসানসোলের মহিশীলার পাল পাড়ায় বাগদেবীর মূর্তি গড়ছেন লক্ষ্মী লাভের আশায় ৷ পুজোর আগে আসানসোল পৌরসভার ৮৫ নম্বর ওয়ার্ড তথা মহিশীলার কচু তলায় গেলে দেখতে পাওয়া যাবে কারিগর ও ভাইদের সাথে নিয়ে দেবীর অঙ্গ সজ্জার শেষ তুলির টানে ব্যস্ত শিল্পী ৷ কথা বলার তেমন ফুরসত নেই এখন ৷ নাওয়া খাওয়া ভুলে এখন অগ্রিম বায়না ধরা ক্লাব কর্তৃপক্ষগুলিকে মূর্তি তুলে দিতে ব্যস্ত তিনি ৷ এবারে প্রায় শতাধিক কাঠামোর মূর্তি গড়েছেন দেবীর ৷ সঙ্গে রয়েছে অসংখ্য ছাঁচের মূর্তি ৷ সমস্ত মূর্তি গড়ার ক্ষেত্রেই প্রধান কারিগর তিনি ৷ তাই দেবীর চক্ষুদান থেকে শেষ পরিপাটি সবেতেই নজর রাখতে হয় ৷ তবে মা ও চার ভাইবোনের সংসারে শিল্পী টুলটুলি পালকে রাঁধার কাজেও ব্যস্ত থাকতে হয় ৷ রাঁধা ও চুল বাঁধার এই অধ্যায় শুরু হয় অনেক আগে থেকেই ৷ বাবা শিল্পী রবি পাল যখন বেঁচে ছিলেন , প্রথম সন্তান টুলটুলির মূক ও বধির হিসাবে জন্মে আতান্তরে পড়েছিলেন ৷ অভাবের সংসারে মূর্তি গড়েই গ্রাসাচ্ছাদনের যোগাড় ৷ ছোটো থেকেই বাবার সান্নিধ্যে খড় মাটির সংস্পর্শে দেবী মূর্তি গড়ে ওঠা দেখে হাতে কলমে এই কাজ শেখা ৷ তারপর বয়সের ভারে বাবা নুব্জ্য হয়ে গেলে সংসারের হাল ধরতে ঘরের বড় সন্তান হিসাবে টুলটুলি পালকেই এগিয়ে আসতে হয় ৷ ঠাঁট গড়া থেকে মাটির প্রলেপ , রঙ তুলির কাজ চক্ষুদান সব কাজেই সিদ্ধহস্ত তিনি ৷ বর্তমানে তার কাছ থেকে কাজ শিখেই সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে ভাই বাসুদেব ও উৎপল ৷ শিল্পী রবি পাল গত হয়েছেন ২০১৮ তে ৷ সংসারের নিয়ম মেনে তিন বছর আগে টুলটুলিরও বিয়ে হয়েছে দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে থাকা মহিলাল পাত্রের সাথে ৷ তবে মহিলাল পাত্রেরও জগৎ সংসারের সাথে সংযোগের ভাষা সেই নীরবতাই ৷ বলা ভালো হাতের ইশারায় সরব হওয়া ৷রবি পালের স্ত্রী ওরফে টুলটুলির মা কল্পনা পালের বক্তব্য , " ছোটো থেকেই বাবার কাছে থেকে মূর্তি গড়া শেখে টুলটুলি ৷ প্রায় ১৬-১৭ বছর ধরে টুলটুলি এই কাজে আছে ৷ বর্তমানে মেয়ে টুলটুলির বিয়ে হয়ে গেলেও মা এর মূর্তি গড়ার টানেই প্রতিবছর টুলটুলি এখানেই থাকে ৷ তাছাড়া শিল্পী রবি পাল মারা যাওয়ার পর বড় মেয়ে টুলটুলি পালই প্রধান কারিগর ও শিল্পী ৷ বর্তমানে জামাই মহিলাল পাত্রও এই কাজ শিখে গিয়েছে ৷ "
Loading...

No comments

Powered by Blogger.