দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেল বালি জগাছা ব্লকবাসী





মৌমিতা সিনহা, হুগলী:হাওড়ায় বালী জগাছা ব্লকের অন্তর্গত ভূপৃষ্ঠস্থ জলভিত্তিক পরিশ্রুত নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন হয়। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরী বিভাগের উদ্যোগে হাওড়ায় বালি জগাছা ব্লকের অন্তর্গত ভূপৃষ্ঠস্থ জলভিত্তিক পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের এদিন সূচনা হয়। এর উদ্বোধন করেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, আইন ও শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী মলয় ঘটক ও রাজ্যের অগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ বিভাগের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরী বিভাগের রাজ্যমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা সহ অন্যান্যরা। বালীর সাহেব বাগানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বালি জগাছা ব্লকের অন্তর্গত এই প্রকল্পের নাম ভূপৃষ্ঠস্থ জলভিত্তিক নলবাহিত পানীয় জল প্রকল্প( প্রথম পর্যায় )। এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১৫০.৬৮ কোটি টাকা। এর দ্বারা উপকৃত হবেন ২.৬৮ লক্ষ মানুষ। এদিনের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রতি বাড়িতে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে। আজকে এখানে যে প্রকল্পের উদ্বোধন হল এতে ১৫০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বালি-জগাছার মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা মেনে এই কাজ হল। এখানে মানুষ জলের জন্য হাহাকার করেছে। আজকে তাদের পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা হল। আমরা খুশি যে মানুষ জল পেয়েছেন”।
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখানে দীর্ঘদিনের জলের হাহাকার ছিল। উত্তরপাড়া থেকে মানুষকে জল আনতে হত। বালি থেকে জল কিনে খেতে হয়, নাহলে দূরে গিয়ে লাইন দিয়ে জল আনতে হয়। মানুষের এই সমস্যা থেকে যিনি মুক্তি দিলেন তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকে আমাদের অত্যন্ত আনন্দের দিন যে আমরা মিষ্টি পানীয় জল তুলে দিতে পেরেছি। স্বাধীনতার পর বালি-জগাছা এলাকার মানুষের আজ দ্বিতীয় স্বাধীনতা। এখানে আগামী দিনে আরও প্রকল্প হবে। বালি-জগাছায় দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৫০ কোটি টাকা ব্যায়ে ডোমজুড়ের বিভিন্ন বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে। আজকে প্রথম পর্যায়ে দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে এই জল পৌঁছে দিলাম। পুরো কাজ সম্পূর্ণ হলে আরও ৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত উপকৃত হবে। সব কাজ শেষ হলে দুটি পর্যায়ে মোট ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত উপকৃত হবে। প্রায় ২০০ কোটি টাকায় এই কাজ সম্পন্ন হবে”। উল্লেখ্য, অবশেষে বালি অঞ্চলের বাসিন্দাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হল। বালি জগাছা ব্লকের সাধারণ মানুষের পানীয় জলের সমস্যা দূর হল। পানীয় জল প্রকল্প ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরীর কাজ শেষ হয়েছে কয়েক মাস আগেই। প্রতিদিন প্রায় ২৪ মিলিয়ন লিটার জল হুগলি নদী থেকে তুলে তা পরিশোধন পদ্ধতিতে শোধন করে সরবরাহ করা হবে। এতদিন পানীয় জলের সঙ্কট পোহাতে হয়েছে এলাকার মানুষজনকে। সকলেই তারা এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হবেন। এতদিন তাদের জল কিনে খেতে হত। প্রতিদিন জল কিনতে টাকা খরচ হত। এবার এই প্রকল্পে তাদের আর টাকা খরচ করতে হবে না। বালী, নিশ্চিন্দা, সাঁপুইপাড়া, বাসুকাটি, দূর্গাপুর, আনন্দনগর, চামরাইল, জগদীশপুর বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.