প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা না বাংলার গ্রামীণ সড়ক যোজনা দন্দে গ্রামের মানুষ!?




দীপক রাম, পুরুলিয়া : রাজ্যের অন্যান্য জেলার পর এবার পুরুলিয়াতেও রাতারাতি পাল্টে গেল রাস্তার নাম । স্থানীয় গ্রামবাসী থেকে শুরু করে রাস্তার কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক কেউই জানেননি ব্যাপারটি । অথচ রাতের বেলা সাইন বোর্ডে প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার নাম পাল্টে সকালেই হয়ে গেলো বাংলার গ্রামীণ সড়ক যোজনা ।এই ঘটনায় চক্ষু চড়কগাছ সাধারণ মানুষের । এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত সভাধিপতি সুজয় বন্দোপাধ্যায় হুমকির সুরে সাফ জানান, "প্রধানমন্ত্রী যোজনা নামের কোনো স্কিমই নাম থাকবে না । কাজের স্টিকার চিটানো তো দূরের কথা, দরকার হলে প্রধানমন্ত্রীর নামই মুছে ফেলা হবে ।"

প্রসঙ্গত, পুরুলিয়া জেলার ২ নম্বর ব্লকের পিঁড়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভাগাবাঁধ হইতে শীতলপুর গ্রামে এ পর্যন্ত মোট ৬.৯৮৭ কিমি রাস্তার কাজ পিডব্লুডি এর আন্ডারে শুরু হয় ।কাজের শুরুতেই রাস্তার মূল কাজের গেটে বিস্তারিত তথ্য সহ প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা নামের দুটি সাইনবোর্ড লাগানো হয় । গ্রামবাসীরাও বুঝতে পারেন এটা কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদানে কাজ শুরু হয়েছে । অথচ কিছুদিন চলার পর রাতারাতি নাম পাল্টে গেল সেই বোর্ডের ।"প্রধানমন্ত্রীর" নামের উপরে "বাংলার গ্রামীণ" স্টিকার চিটানো । তা বুঝতে পারেননি কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রামবাসীরা ।এই ঘটনায় দেখার পর পুরুলিয়া জেলার অন্যান্য বেশি কয়েকটি জায়গায় ঘোরাঘুরি করলে চোখে পড়ে একই অবস্থা ।

পুরুলিয়া 2 ।ম্বর ব্লকের ভাগাবাঁধ গ্রামের বাসিন্দা অখিলেশ মাহাতো বলেন, "এই রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে পড়েছিল । ব্যাপক অসুবিধার মধ্যে দিয়ে রাস্তায় পারাপার করতে হতো । কিন্তু এই রাস্তা মেরামত করায় এবার এলাকাবাসীরা খুবই উপকৃত হবেন । এর জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকেও ধন্যবাদ জানান ।" কিন্তু যখন তাকে বলা হলো এর নাম পাল্টে "বাংলার গ্রামীণ সড়ক যোজনা" হয়ে গিয়েছে তখন রীতিমতো হতবাক তিনি । অখিলেশ বলেন, "আমরা তো বরাবরই অন্ধকারে রয়েছি । জেনেই বা আর কি করতে পারবো । রাতারাতি চুপিচুপি সব বদলে যাচ্ছে ।"

অন্যদিকে এই কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মুন্না মাহাতোকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বলেন, "এ সম্বন্ধে আমি কিছু জানি না ।" এই ঘটনার বেপারে মুখ খুলতে চাননি তিনি । ভয়ে আবার সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি ।অন্যদিকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত রোলার ড্রাইভার এবং কাজের দেখভালের সঙ্গে যুক্ত সুভাষ চন্দ্র মাহাতোকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে নাম চিটানোর কথা মানতেই চান না তিনি । পরে তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার আন্ডারে এই কাজ শুরু হয় । কিন্তু এই সাইনবোর্ডে নাম পাল্টানোর ব্যাপারে কিছু জানি না ।"

সব শেষে পুরুলিয়া জেলা জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দোপাধ্যায়ের কাছে যাওয়া হয় । তিনি এই নাম পাল্টার ব্যাপারে পরিষ্কার ভাবে বলেন, "এই কাজের জন্য আমাদের সরকার ৫০ শতাংশ টাকা দিচ্ছি এবং দিল্লী সরকার ৫০ শতাংশ টাকা দিচ্ছে । তাহলে প্রধানমন্ত্রী সরক যোজনা নাম রাখবো কেন? তাছাড়া দিল্লীর সরকার পশ্চিমবঙ্গ থেকে ট্যাক্স আদায় করে সেই ৫০ শতাংশ টাকা আমাদেরকেই ফিরিয়ে দিচ্ছেন । তাই প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার নাম আর থাকবে না। " পোস্টার চিটানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, "পোস্টার চিটানো তো দূরের কথা দরকার হলে প্রধানমন্ত্রীর নামই মুছে ফেলা হবে । আর কোথাও ওই নাম ব্যবহার করা হবে না ।
Loading...
Powered by Blogger.