আচমকাই পানা ভর্তি খালে উদ্ধার দেহ, ময়নার রাস্তায় জ্বলছে প্রতিবাদের আগুন !




পূর্ব মেদিনীপুর :   গত কয়েক দিন ধরেই উত্যপ্ত রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না থানা এলাকা। কারন, পুলিশের আশ্চর্য রকমের নিষ্ক্রীয়তা। রহস্যজনক ভাবে এলাকার যুবক সোমনাথ বেরা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর তদন্তে পুলিশের মাত্রা ছাড়া গড়িমশিতে হতবাক ময়নার বাসিন্দারা।

শুক্রবার গড় ময়নায় সোমনাথের বাড়ির কিছু দূরের একটি পানা ভর্তি খালে ভেসে উঠেছে তাঁর মৃতদেহটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবী, দেহটিকে সদ্য কেউ টেনে হিঁচড়ে এই জায়গায় ফেলে গিয়েছে। যা শ্রীকন্ঠার কাঁসাই নদী থেকে প্রায় ৭ কিমি দূরে অবস্থিত।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই ঘটনায় অপরাধীদের শুধু আড়াল করার চেষ্টাই নয়, পুরো তদন্তে চূড়ান্ত ঢিলেমি দিচ্ছে ময়না থানা। কারন, অপরাধীরা যদি দাবী করে থাকে দেহটি কাঁসাইয়ে ভাসিয়ে দিয়েছে, সেই ভিত্তিতে যদি পুলিশ দিনভর স্পিড বোট নিয়ে নদীতে তল্লাশি করল, তাহলে দেহটি গড় ময়নার খালে এসে পৌছাল কিভাবে।


বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামবাসীরা এলাকায় মাইকিং করে জানিয়ে দিয়েছিল, মৃতদেহ উদ্ধার না হলে তাঁরা ময়নাকে আজ থেকে স্তব্ধ করে দেবেন। অবশেষে দেহটি খালে উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসীরা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা সাফ জানাচ্ছেন, পুলিশ অপরাধীদের সঙ্গে অত্যন্ত নমনীয় ভাবে ব্যবহার করেছে। নাহলে কেন তাঁরা মিথ্যেটাকে চেপে রেখেছে দিনের পর দিন। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই এলাকার বাসিন্দারা দাবী জানিয়ে এসেছিলেন, এলাকার টোটো চালক সেক আনসার ও তাঁর সঙ্গী এই খুনের ঘটনায় জড়িত। কিন্তু পুলিশ কখনওই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন বোধ করেননি। একটি তরতাজা যুবকের খুনে কেন পুলিশের এমন গড়িমশি তা নিয়েই ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকার বাসিন্দারা।

শুক্রবার সকালে তাই খালে দেহ উদ্ধারের পরেই ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ে যায়। এদিন সকাল থেকে রাস্তায় টায়ার জ্বেলে অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে ময়নার যোগাযোগ ব্যবস্থা। পুলিশ মৃতদেহটিকে উদ্ধারে গেলে গ্রামবাসী মহিলা, পুরুষরা তাঁদের ঝাঁটা, লাঠি হাতে তেড়ে যান। গ্রামবাসীদের দাবী, মৃতদেহটিকে গত রাতেই কেউ টেনে এনে খালে ফেলেছে, যার দাগ খাল পাড়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর দাবী।

এই ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবী তাঁদের। তাই দেহ উদ্ধারের আগে সমস্ত অভিযুক্তদের না ধরলে দেহটিকে তুলতে দেওয়া হবে না।
Loading...

No comments

Powered by Blogger.