আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য যোজনাকে নিয়ে কাঠগোড়ায় মোদী




 রাজা সেখ, নদীয়া: আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য যোজনা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত যোজনা বীমা প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কৃষ্ণনগর গভর্মেন্ট কলেজ ময়দানে হাজার হাজার কর্মী সমর্থক ও সাধারন মানুষের সামনে এ কথা বলেন মমতা। তার দাবী আয়ুষ্মান ভারত এর নামে বীমা প্রকল্পে নিজের ছবি দিয়ে প্রচার করছে মোদি।মমতা অভিযোগ করে বলেন, এই প্রকল্পে রাজ্য সরকার একশ ভাগের চল্লিশ ভাগ টাকা দেয়। আর প্রচার করা হচ্ছে মোদি দিচ্ছে। এটা আমরা কখনই মেনে নিতে পারিনা। ওরা সাধারণ মানুষ কে ভুল বোঝাচ্ছে। এটা একধরনের প্রতারণা। মানুষ কে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাব 'ই'। আমি বি জে পি পার্টির মতো সরকারি অনুষ্ঠানে দুরদর্শন কে দিয়ে নিজের ভাষণ প্রচার করিনা। মমতা বলেন, সরকারি অনুষ্ঠান হলে আমি সরকারি কথা বলি। মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, আমারা আপনার মতো নোংরা রাজনীতি করিনা। তিনি উপস্থিত জনতার কাছে প্রশ্ন তুলে বলেন, আপনারাই বলুন এই রাজ্যে কি বিনা পয়সায় চিকিৎসা হয়না?। ঝাড়খণ্ড থেকে প্রচুর মানুষ আসেন এখানে চিকিৎসা করাতে। এছাড়াও বিহার থেকেও প্রচুর মানুষ আসেন চিকিৎসা করাতে। তাদের আমরা মানবিকতার স্বার্থে বিনা পয়সায় চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে থাকি। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তার আরও অভিযোগ এরাজ্য থেকে জি এস টি, সেল ট্যাক্স, কাস্টমস সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আশি শতাংশ ট্যাক্স কেটে নিয়ে যায়। তার একটা টাকাও আমরা ফেরত পাইনা। মোদির নাম না করে তিনি বলেন, এর আগেও একাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এর আগে নোট বন্দির নামে মানুষ কে হয়রানি করিয়েছেন। মানুসেরবতাকা লুঠ করেছেন। ব্যাংক লুঠ করেছেন। এবার স্বাস্থ্য বীমার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। মমতা বলেন, গত বছর কৃষকদের শস্য বীমার জন্য ছয়শ পঁচিশ কোটি টাকা জমা দিয়েছি। যাতে কৃষকদের একটা টাকাও দিতে হয়না। বি জে পি কে তোপ দাগার পর সি পি এম কেও সমালোচনা করতে ছাড়েননি মমতা। মমতা বলেন ওরা দুদিন বন্ধের নামে রাজ্যে গুন্ডামি করেছে। ছাত্র ছাত্রীদের বাসে ওরা বোমা মেরেছে। ওরা ৩৪ বছরে রাজ্য টাকে শেষ করে দিয়ে গেছে। রাজ্য টাকে দেনায় ডুবিয়ে দিয়েছে। ওদের দেনা আমাদের শোধ করতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন ধান দিন দাম নিন। মমতা বলেন, আগে  ধানের কুইন্টাল প্রতি দাম ছিল পনেশ পঞ্চাশ টাকা। এখন দেওয়া হচ্ছে সতেরশ পঞ্চাশ টাকা। মুখ্যমন্ত্রী এদিনের মঞ্চ থেকে কন্যাশ্রীদের জন্য কন্যাশ্রী বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিল্যান্যাস করে চমক দেন হাজার হাজার জনতা কে। মুখ্যমন্ত্রী এদিনের মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন কৃষ্ণনগরে কন্যাশ্রীদের জন্য কন্যাশ্রী বিশ্ব বিদ্যালয় করা হবে। কন্যাশ্রী বিশ্ব বিদ্যালয়ে মেয়েরা নিঃখরচায় পড়ার সুযোগ পাবেন। কন্যাশ্রী বিশ্ব বিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হবে কৃষ্ণনগরে। রবীন্দ্র ভবনের পেছনে গাবতলায় কন্যাশ্রীদের জন্য গড়ে উঠবে এই বিশ্ব বিদ্যালয়। মমতা ছাত্রদেরও নিরাশ করেননি। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় তৈরি করা হবে ওই বিশ্ব বিদ্যালয়টি। নাম দেওয়া হয়েছে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ব বিদ্যালয়। আজ শুক্রবার ওই বিশ্ব বিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক শিল্যান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। কন্যাশ্রী বিশ্ব বিদ্যালয় ছাড়াও এদিন আরও ২৭ টি প্রকল্পের শিল্যান্যাস করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাছাড়াও ৩২ টি প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন, ২২ টি সরকারি পরিষেবা প্রদানের মধ্যে দিয়ে দুদিনের নদীয়া সফর শেষ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন যে সব প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী তার মধ্যে অন্যতম হল, কৃষ্ণনগর ১ ব্লকে আই টি পার্ক, করিমপুর ২ ব্লক, হাঁসখালী, চাপড়া,কৃষ্ণগঞ্জ ও নবদ্বীপে মোট ছয়টি কর্মতীর্থ। মায়াপুরে যুব আবাস, মায়াপুর হুলোরঘাট ও স্বরূপগঞ্জে উন্নততর যোগাযোগ ব্যবস্থা, জেলার বিভিন্ন ব্লকে ৬০ টি নতুন অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র, নবদ্বীপ ব্লক ও পৌরাঞ্চল এবং কৃষ্ণনগর ১ ব্লকে ৬ টি হ্যান্ডলুম ক্লাস্টারের ২২০২ টি তাঁত ঘর, কৃষ্ণনগর ১ ব্লকে রুইপুকুরে সরতীর্থ, শান্তিপুরে কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সহ জেলার বিভিন্ন ব্লকে অন্যান্য ক্ষেত্রেও শুভ উদ্বোধন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বেলা দেড়টায় সভা শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় তিনটে পর্যন্ত সভা করার পর কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসে ফিরে যান তিনি। পরে বেলা চারটে নাগাদ কলকাতার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের সভা কে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলের ব্যখ্যা একদিকে জেলা জুড়ে বি জে পির দাপট অপরদিকে দলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্ধ। দুটোকেই ভাবাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে। সেদিকে তাকিয়েই কি জেলার পর্যবেক্ষক পার্থ চট্টোপাধ্যায় থাকা সত্ত্বেও বীরভূম থেকে অনুব্রত মন্ডল কে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হল। এখন দেখার অনুব্রত কি ম্যাজিক দেখান। সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
Loading...
Powered by Blogger.